ভয়াল ২১শে আগস্ট আজ

21

সবুজ সিলেট ডেস্ক
বিভীষিকাময় ভয়াল ২১শে আগস্ট আজ। ভয়াল বিস্ফোরণ, বীভৎস রাজনৈতিক হত্যাযজ্ঞের দিন আজ। নারকীয় হত্যাযজ্ঞের এ গ্রেনেড হামলার চর্তুদশ বার্ষিকী আজ।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের এই দিন বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে নারকীয় গ্রেনেড হামলা বাংলাদেশে এক কলঙ্কময় অধ্যায়ের জন্ম দেয়। ২৩ বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এদিন মুহূর্তেই পরিণত হয়েছিল মৃত্যুপুরীতে।

পিচঢালা কালো রাজপথে বয়ে যায় লাল রক্তের স্রোত। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পরোক্ষ মদদে যে এই গ্রেনড হামলা চালানো হয় বলে তদন্তের সুত্রে উল্লেখিত হয়। দেশব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী ও বোমা হামলার প্রতিবাদে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে এ নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। নিষ্ঠুর যুদ্ধাস্ত্র গ্রেনেড হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বেগম আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত হয়েছিলেন। আহত হয়েছিলেন প্রায় ৪শ নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ। এদের অনেকেই এখনো শরীরে গ্রেনেডের ম্প্রিন্টার নিয়ে দুঃসহ জীবন কাটাচ্ছেন। সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনাকে মানববর্ম তৈরি করে প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। তবে সেই হামলা থেকে শেখ হাসিনা প্রাণে রক্ষা পেলেও তার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দু’টি পৃথক মামলায় আদালতে দাখিলকৃত চার্জশিটে মোট ৫২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার এখন শেষ পর্যায়ে। আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এ মামলার রায় হবে।

গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ এবং এ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সকল স্তরের নেতা-কর্মী,সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন,ওয়ার্ডসহ সব শাখার নেতৃবৃন্দকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে দিবসটি স্মরণ ও পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তদন্তের শুরুতে জোট সরকার নানা অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়ে মামলাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। আদালত সুত্র জানায়, গ্রেনেড হামলার জন্য সে সময় ক্ষমতায় থাকা বিএনপির সম্পৃক্ততার অভিযোগ করে আসছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু ওই আমলে সরকার মামলাটি ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তখন সরকারের বিরুদ্ধে মামলার আলামত ইচ্ছা করেই নষ্ট করার অভিযোগ উঠে। সে সময়ের জোট সরকার যুক্তরাজ্যের তদন্ত সংস্থা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে তদন্তের জন্য আমন্ত্রণ জানালেও তারা সরকারের অসহযোগিতায় বিরক্তি প্রকাশ করে চলে যায়। পরে সেনা সমর্থিত তত্ববাবধায়ক সরকারের আমলে তদন্তের জট খুলতে শুরু করে। সে সময় জজ মিয়া নামে নিরীহ একজনকে আসামি সাজিয়ে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা ফাঁস হয়ে যায় তত্বাবাবধায়ক সরকারের আমলে। ২০০৮ সালের ১১ জুন ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রথম অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি। এতে শেষে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুর সালাম মিণ্টু ও তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনকে আসামি করা হয়। ওই বছর ২৯ অক্টোবর ২২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ২০০৯ সালের ৯ জুন পর্যন্ত ৬১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে অধিকতর তদন্তে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

মামলাটির বিচার কার্যক্রম বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই এ মামলাটির রায় হতে পারে বলে সরকারের আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

এ মামলায় যেসকল আসামী পলাতক রয়েছেন তারা হলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল এটিএম আমিন আহমদ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ, পুলিশের সাবেক ডিআইজি খান সাঈদ হাসান ও ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক ডিসি (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান পলাতক রয়েছেন।

এছাড়াও জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা মাওলানা তাজ উদ্দিন, মাওলানা মহিবুল মুত্তাকিন, আনিসুল মুরসালিন ওরফে মুরসালিন, মোহাম্মদ খলিল, জাহাঙ্গির আলম বদর, ইকবাল, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ লোকমান হাওলাদার, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা লিটন ওরফে দেলোয়ার হোসেন ওরফে জোবায়ের, মুফতি শফিকুর রহমান, রাতুল আহমেদ বাবু ওরফে রাতুল বাবুকেও গ্রেপ্তার করা যায়নি। এদের মধ্যে দুইজন আনিসুল মোরসালিন ও মহিবুল মুত্তাকিন ভারতের তিহার কারাগারে আটক রয়েছেন।