দোয়ারায় জুয়ায় বাধা দেয়ায় সংঘর্ষ

48

সবুজ সিলেট ডেস্ক
মাদক সেবন ও জুয়া খেলায় বাধা দেয়ায় দোয়ারা বাজার উপজেলার কলাউড়া নিউমার্কেটে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকরাও হামলার শিকার হন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, প্রতিদিনের মত কিছু যুবক কলাউড়া নিউমার্কেটের পেছনে হাওরে বসে জুয়া খেলা অবস্থায় মাদক সেবন করছিল। তারা হলেন কলাউড়া মার্কেটের মোটরসাইকেল ওয়ার্কশপ মিস্ত্রি রাঙ্গামাটি গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন, রাজ্জাক মিয়ার ছেলে হোসেন মিয়া, ঢালিয়া গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে ফয়সাল হোসেন, উত্তর কলাউড়ার খোয়াজ আলী। তখন তাদেরকে বাধা দিলে উত্তেজিত হয়ে তারা যুবকদের গালিগালাজ করে।

এক পর্যায়ে যুবকরা জুয়াড়ী ও মাদক সেবনকারীদের কলাউড়া মার্কেটে মুরুব্বিদের কাছে নিয়ে আসলে মাদক সেবনকারীরা তাদের আত্মীয়দের নিয়ে দেশী অস্ত্র নিয়ে মাদক সেবন ও জুয়া খেলায় বাধা প্রদানকারী কলাউড়া গ্রামের ফরহাদের উপর হামলা চালায়। হামলার ভিডিও ধারণ করতে গেলে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক বিল্লাল হোসেনের উপর হামলা চালায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ইকবালের মোবাইল কেড়ে নেয়।

সাংবাদিক বিল্লাল বলেন, ‘শুনেছি মাদক ও জুয়া খেলা বাধা দেওয়ায় দুই গ্রুপে সংঘর্ষ চলছে এবং মার্কেটের পিছনে আমার বন্ধু ইকবালকে মাদক সেবনকারী আলমগীর ও তার বন্ধু মিলে মারছে। এই খবর শুনে আমি ছবি তুলতে গেলে তারা আমার উপরও হামলা চালায়। এক পর্যায়ে কিছু লোক আমাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। আমি বিষয়টি থানার ওসি ও ইউপি চেয়ারম্যান কে জানিয়েছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, প্রতিদিন এই এলাকাতে মাদক সেবন ও জুয়া খেলা দিন দিন বেড়েই চলছে। কেউ বাধা দিলে তাদের উপর দলবদ্ধভাবে হামলা করতে যায় মাদকসেবীরা। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ব্যাক্তিরা মোবাইল রিসিভ না করায় তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য উমর ফারুক জানান, এলাকায় মাদক ও জুয়া খেলা নিয়ে কিছু জামেলা হয়েছে। এলাকার মুরব্বীদের নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার লক্ষ্যে আগামী শনিবার (২৫ আগস্ট) গ্রাম্য শালিস বৈঠকের তারিখ করা হয়েছে। আশা করি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হবে। বাংলাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান জসিম মাষ্টার বলেন, ‘আমি এলাকার বাহিরে আছি বিষয়টি আমি দেখতেছি।’

দোয়ারাবাজার থানার ওসি সুশীল রঞ্জন দাস বলেন, আমি ঘটনা জেনেছি। সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। যারা মাদক সেবন করে ও জুয়া খেলে আমরা গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেবো। মাদক ও জুয়া খেলায় আমরা জিরো টলারেন্স দেখাবো, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এর পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।