দুই যুগেও হয়নি বিয়ানীবাজার ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

19

মিলাদ জয়নুল, বিয়ানীবাজার
বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দু:খ শোনার কেউ নেই। ছাত্রত্ব এবং বয়স হারিয়ে বুকভরা জ্বালা নিয়ে ছাত্র রাজনীতি থেকে বিদায় নিচ্ছেন তারা। তারুণ্যের পুরো সময় রাজপথে কাটিয়ে অনেক দাঙ্গা ফ্যাঁসাদের স্বাক্ষী হওয়ার পরও তাদের ভাগ্যে পদপদবী জুটেনি। শুধু বিড়ম্বনা আর ছাত্র রাজনীতির তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে পেশাগত জীবনে সংযুক্ত হচ্ছেন পদপ্রত্যাশী স্থানীয় প্রথম সারির নেতারা। এখানে দুইযুগ পেরিয়ে গেলেও গঠিত হয়নি ছাত্রলীগের কমিটি।

সম্প্রতি ছাত্রলীগের বিবদমান পক্ষগুলোকে নিয়ে বিয়ানীবাজারে আওয়ামী রাজনীতির কর্তধার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি একটি বৈঠক করেন। বৈঠকে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম পল্লবের পক্ষের কোন নেতাকর্মী অংশ নেয়নি। অপর ৫টি পক্ষের নেতাকর্মীদের নিয়ে অনুষ্টিত বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিবদমান সবপক্ষ একীভূত হয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌছাতে হবে। এখানে কোন বিরোধ সৃষ্টি হলে আমি বিষয়টি দেখবো।’ শিক্ষামন্ত্রীর এমন বক্তব্যে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মো. কাওছার আহমদ জানান, শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের এমন বক্তব্যে আমরা মর্মাহত হয়েছি। আমাদের আশা ছিল মন্ত্রী মহোদয় ওই সভায় কমিটি গঠন নিয়ে একটি স্পষ্ট নির্দেশনা দিবেন। কিন্তু তিনি দায়সারা বক্তব্য দিয়ে আমাদের আশাহত করেছেন।

শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভায় রিভারবেল্ট গ্রুপের আজাদ জিসান বলেন, ছাত্রলীগে অনৈক্য থাকলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে পোষ্টার সাঁটানোর কর্মী পাওয়া যাবেনা। মূলধারা গ্রুপের সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ছাত্রলীগের কমিটি গঠন না করলে ভবিষ্যতের রাজনীতি নিয়ে আক্ষেপ করতে হবে। এদিকে আরব আমিরাত সফররত রিভারবেল্ট গ্রুপের নেতা ইকবাল হোসেন তারেক এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে ছাত্রলীগের রাজনীতি এবং ভবিষ্যত মূল্যায়ন নিয়ে তার কষ্টের অনেক কথা তোলে ধরেন। এর আগে অপর আরেক স্ট্যাটাসে ছাত্রলীগকে পাবলিক সাপ্লাইয়ের কাজ করতে হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিয়ানীবাজারে গত প্রায় দুই যুগের বেশী ধরে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। দীর্ঘ সময়েও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় নেতৃত্বের জটলায় জর্জরিত ছাত্রলীগ। কি কারণে কিংবা কাদের ইশারায় বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে এমন অবস্থার সৃষ্টি করা হয়, তা অনেকের অজানা।

সর্বশেষ জামাল-পল্লব-জাকির কমিটি জেলা শাখা বিলুপ্ত ঘোষণা করলে কোন্দল আরো তীব্র হয়ে ওঠে। কমিটি না থাকায় কেউ কারো কথা শুনেনা। এ অবস্থায় চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়ায় ছাত্রলীগের কোন্দল নিয়ে আওয়ামীলীগ নেতারা হয়ে পড়েন গলদগর্ম। মাত্র ১ বছরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রেকর্ড সংখ্যক ২০ বার নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রলীগ। মামলা-পাল্টা মামলায় নেতাকর্মীরা হয়ে পড়ে অসহায়। বর্তমানে বিয়ানীবাজারে মুলধারা গ্রুপ, রিভার বেল্ট গ্রুপ, জামাল হোসেন গ্রুপ, পাভেল মাহমুদ গ্রুপ, আবুল কাশেম পল্লব গ্রুপ পৃথকভাবে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে আবার বিভিন্ন উপগ্রুপ রয়েছে। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আপ্যায়ন সম্পাদক পাভেল মাহমুদ জানান, শিক্ষামন্ত্রীর ভূমিকায় আমরা সন্তোষ্ট হতে পারিনি। আমরা সমঝোতা করতে পারলে অনেক আগেই কমিটি গঠন করা সম্ভব হত। সাবেক আহবায়ক মো. জামাল হোসেন জানান, মন্ত্রীর সাথে বৈঠকে দু’টি পক্ষ কমিটি গঠনের দাবী জানালেও অপরপক্ষগুলো বিগত দিনে তাদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেছে।