নবীগঞ্জে ‘জমি আছে, ঘর নাই’ প্রকল্পের কাজে অনিয়ম

16

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ‘সবার জন্য বাসস্থান’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘জমি আছে, ঘর নাই’ আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের কাজে নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মন্নানের বিরুদ্ধে।

বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় গৃহহীন পরিবারের জন্য ৫২টি আধাপাকা ঘর বরাদ্দ এসেছে। প্রতিটি ঘর ও টয়লেটসহ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ টাকা। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) তৌহিদ বিন হাসানকে সভাপতি করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে এ সব ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ঘর বরাদ্দ থেকে শুরু করে ঘর তৈরিতে চলছে নানান অনিয়ম। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে পিলার তৈরি করা হয়েছে। যাদের জমি আছে ঘর নাই, সেসব অসহায় ব্যক্তিরা ঘর পাবার কথা থাকলেও টাকার বিনিময়ে দেয়া হয়েছে স্বচ্ছলদের। যারা চাহিদা মতো টাকা দিতে পারেননি, তারা ঘর পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আবার সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ৫-১০ হাজার টাকা।

গত শনিবার বিকেলে সরেজমিনে আলাপকালে দেবপাড়া ইউনিয়নের দেবপাড়া গ্রামের বাছিদ মিয়া নামে একজন জানান, সরকারি ঘর দেওয়ার কথা কইয়া আমার কাছ থাকি ৮হাজার টাকা নিছে মন্নাই(আব্দুল মান্নান) বেটায় কিন্তু অনেকের ঘরের কাজ শুরু অইলে ও আমার ঘর দেয়ার কোনো খোঁজখবর নাই, যারা টাকার কথা স্বীকার করবো তারা ঘর পাইতো নায় এইরকম কথা কইছে তারা, অনেকেই টাকা দিছে কিন্তু প্রকাশ্যে স্বীকার করতো নায় ভয়ে, আমি অসহায় মানুষ আমার পিছনে শক্তিশালী মানুষ নাই, আমার টাকা নিছে ঘর ও দিছেনা টাকা ও ফিরত দিছে না। এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। এদিকে এঘটনায় দেবপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগসহ জনসাধারণের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এব্যাপারে জানতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ বিন হাসান যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পে ঘর দেয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার ব্যাপারে আমার জানা নাই, যদি কেউ এ ধরণের কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।