সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক : জীবন ঝুঁকি নিয়ে পর্যটকদের যাতায়াত

40

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের বেহাল অবস্থা। জায়গায় জায়গায় এক-দেড় হাত গভীর গর্ত। এই সড়কে কোন সংস্কার না থাকায় সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী আর অসুস্থ রোগীদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দূর্ভোগ। তাছাড়া পর্যটনকেন্দ্র জাফলং যেতে এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি পর্যটক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। ইট ফেলে কোনোভাবে এগুলো ভরাট করার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে যে করে কাজ হয়নি, তা দেখা গেল চোখের সামনে একটি গাড়ী উল্টে পড়ার ঘটনায়। বৃষ্টিতে পানি জমে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ে দুর্ভোগ।

স্থানীয় বাসিন্দা লিমন বলেন, জৈন্তা থেকে জাফলং পর্যন্ত পুরো সড়কই বেহাল। সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে পযটকরা। বৃষ্টিতে হাঁটুপানি জমে যায়। এতে পর্যটকদের যাওয়া-আসায় ভোগান্তি পরতে হয়। তাহলে অন্তত প্রতিদিনের ভোগান্তি চোখের সামনে দেখতে হবে না। গত কয়েক দিন আগে সিএনজি অটোরিকশা উল্টে দুই আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন।

সিলেট-তামাবিল মহাসড়কটি এশিয়ান হাইওয়ের সাথে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এই সড়ক দিয়ে ভারতে বিভিন্ন পণ্য আমদানি ও রফতানি হয়ে থাকে। ভারত থেকে তামাবিল শুল্ক স্টেশন দিয়ে আমদানিকৃত কয়লা, চুনাপাথর ও বোল্ডার পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য এই সড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া ভারতে পণ্য রফতানিতেও ব্যবহৃত হয় সড়কটি। জাফলং কোয়ারি থেকে উত্তোলিত পাথরও সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক দিয়ে পরিবহন করা হয়ে থাকে। প্রতিদিন সিলেটের জাফলং ও লালাখালে বেড়াতে আসা লোকজনকেও গন্তব্যে যেতে হয় এই মহাসড়ক দিয়ে।

কলেজ শিক্ষার্থী সাহিদা বেগম বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক রাস্তা ভাঙ্গার কারনে যাতায়াত কষ্ঠকর হচ্ছে। এভাবে এ এলাকার প্রত্যেক শিক্ষার্থী তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে। রাস্তার যে হাল অবস্থা যে কোন মুহুর্তে বড় ধরণের দুর্ঘটনা হতে পারে।

জাফলংয়ে বেড়াতে আসা এক পর্যটকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, রাস্তার অবস্থা খুবই বেহাল। এ রাস্তা দিয়ে জাফলং যাওয়া বড়ই কষ্টকর। যে কোন সময় বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সামন্তের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ইতোমধ্যে সড়ক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ একনেক সভায় অনুমোদন হয়েছে। সবকিছু ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শীঘ্রই টেন্ডার দেওয়া হবে।