বিয়ানীবাজারে সড়ক অবরোধ, প্রশাসনের আশ্বাসে প্রত্যাহার

69

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি
বিয়ানীবাজার পৌরশহর ও শহরতলীর বর্জ্য গত তিন মাস থেকে বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়কের লাসাইতলা এলাকায় ফেলার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেছে চার ইউনিয়নবাসী ও পৌরশহরের কলেজ রোডের ব্যবসায়ীরা। গতকাল সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করেন। পরে দায়িত্বশীলদের হস্তক্ষেপ ও আশ^াসে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করেন অবরোধকারী জনতা।

সড়ক অবরোধের কারণে বিভাগীয় শহর সিলেটের সাথে বিকল্প সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। দীর্ঘ যানজটের কারণে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ। অবরোধে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। খবর পেয়ে দুপুরে অবরোধ স্থল লাসাইতলায় গিয়ে জনতার সাথে একাত্মতা পোষণ করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজালাল মুন্সী। দায়িত্বশীলরা অবরোধ প্রত্যাহার করার আহবান জানিয় অবরোধকারি সকল দাবির বাস্তবায়নের আশ^াস দেন।

জানা যায়, বিয়ানীবাজার পৌরশহরের বর্জ্য গত মে মাস থেকে সড়কের লাসাইতলা অংশে ফেলা শুরু করে পৌরসভা। সড়কের পার্শ¦বর্তী পৌর বাস টার্মিনাল ভরাট করতে বর্জ্য ফেলার সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ জানায় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। গত ২৪ জুন ভুক্তভোগীরা বর্জ্য ফেলা বন্ধ করার দাবি জানান পৌর মেয়র আব্দুস শুকুরকে। তিনি এক সপ্তাহের মধ্যে বিকল্প স্থানে বর্জ্য ফেলার আশ^াস দেন। পৌর মেয়র আশ^াস দেয়ার দেড় মাসের বর্জ্য ফেলা বন্ধ না হওয়ায় উপজেলার তিলপাড়া, মাথিউরা, কুড়ারবাজার এবং মোল্লাপুর ইউনিয়ন ও পৌরসভার একাংশের অধিবাসীরা সড়ক অবরোধ করেন।

অবরোধকারী কলেজ রোডের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, সবুজ অরণ্য বেষ্টিত বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়কের সুনাম রয়েছে। অথচ পৌরসভা বর্জ্য ফেলে সামাজিক বনায়ন ধ্বংস করছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে কোন কাজ না হওয়া বাধ্য হয়ে অবরোধের মতো কর্মসূচী নিয়েছি।

লায়ন সোহেল আহমদ রাশেদ বলেন, বর্জ্যরে অসহ্য গন্ধে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে উঠেছে। সহ্যের সীমা অতিক্রম করায় আমরা আন্দোলনে নেমেছি। পৌরসভা বর্জ্য স্থানান্তর এবং সড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা বন্ধ না করলে বৃহৎ কর্মসূচী নেয়া হবে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পৌরসভার দায়িত্বশীলরা জানান, পৌর মেয়র আব্দুস শুকুর যুক্তরাজ্যে সফরে রয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত মেয়র সাইফুল ইসলাম ঝুনু সিলেট আছেন জানিয়ে বলেন, রবিবার বিকাল থেকে আমরা বর্জ্য সরানো কাজ করছি। আজ বর্জ্য ফেলাস্থলে বালু ফেলার কথা থাকলেও অবরোধের কারণে বন্ধ রাখা হয়। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি একটি সুন্দর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে।