পাশের খবর জানলো না ৯ নেপালী শিক্ষার্থী

61

নেপালে ইউএস বাংলার ট্র্যাজেডি

সৈয়দ বাপ্পী
নেপালে ইউএস বাংলার বিমান দুর্ঘটনার ক্ষত শুকায়নি এখনো। এ দুর্ঘটনায় সিলেটের জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১২ শিক্ষার্থী প্রাণ হারান। এদের মধ্যে ঘটনাস্থলে ১১ জন ও পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরেকজন। এছাড়াও দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন আরেক শিক্ষার্থী। সহপাঠিদের হারিয়ে যেমন শিক্ষার্থীরা, ঠিক তেমনি প্রিয় ছাত্র ছাত্রীদের অকাল প্রয়াণে ব্যথিত শিক্ষকরাও। মানবসেবার ব্রত নিয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে সুদূর নেপাল থেকে তারা সিলেট আসেন। তিলে তিলে নিজেদের লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যান। চুড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা শেষে দুই মাসের ছুটিতে নিজদেশে ফেরার স্বপ্ন ছিলো তাদের চোখে মুখে। মাস দুয়েক পর ফিরে ফলাফল হাতে পেয়ে ইন্টার্ণি শেষ করে পুরোপুরি ডাক্তার হয়েই দেশে ফেরার কথা ছিলো তাদের।

পরীক্ষাঅন্তে ছুটি শেষে দেশে ফেরার পথে গত ১২ মার্চ সোমবার নেপালের ত্রিভুবন আস্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলে রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এগারো শিক্ষার্থী মৃত্যুবরণ করেন। দুইজন গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজনের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা মেডিকেল কলেজে। প্রিয় সহপাঠিদের হারিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অনেকে। এছাড়া স্বদেশি সিনিয়দের হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন কলেজের নেপালী শিক্ষার্থীরা। কলেজ কর্তৃপক্ষ জরুরী ভিত্তিতে হতাহতদের পাশে দাঁড়াতে প্রতিনিধিদল নেপাল প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ তিনদিনের শোক পালন করেন।

সম্প্রতি হাসপাতালের চুড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। পাশ হওয়া শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নি শুরু করেছেন। বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের মধ্যে ৯ জন পাশও করেছে। নিয়তির নির্মম পরিহাসে নিহতদের সনদ আর কাজে আসবে না। তবে নিহতদের পরিবার চাইলে সনদ তুলতে পারে।

জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আরমান আহমদ শিপলু বলেন, নেপালে দুর্ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে ৮/৯ জন পাশ করেছে। নিয়ম অনুযায়ী ইন্টার্ণ করার পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদ তুলতে হয়। পবিরারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে সনদ তুলতে পারবে।

তিনি বলেন, নিহতদের স্মরণে তিনদিনের শোক পালন করা হয়। হতাহতদের খবর নিতে প্রতিনিধিদল নেপাল সফর করেছে। এছাড়া নিহতদের ছবি দিয়ে কলেজে স্মৃতিস্মম্ভ স্থাপন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য দূর্ঘটনা কবলিত ইউএস বাংলার বিমানে যাত্রী ছিলেন রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১৯ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী, সঞ্জয় পৌডেল, সঞ্জয়া মহারজন, নেগা মহারজন, অঞ্জলি শ্রেষ্ঠা, পূর্নিমা লোহানি, শ্রেতা থাপা, মিলি মহারজন, শর্মা শ্রেষ্ঠা, আলজিরা বারাল, চুরু বারাল, শামিরা বেনজারখার, আশ্রা শখিয়া ও প্রিঞ্চি ধনি।