হাফিজ মজুমদার বিদ্যা নিকেতনে কমিটি গঠন নিয়ে দু’পক্ষ মুখোমুখী

34

জকিগঞ্জ প্রতিনিধি
জকিগঞ্জের কসকনকপুরের হাফিজ মজুমদার বিদ্যানিকেতনের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার অপ্রীতির ঘটনা ঘটেছে। দুই পক্ষের মুখোমুখী অবস্থানের কারণে বিদ্যালয়ের দ্ইুজন শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়েছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে স্থানীয় ইউনিয়ন অফিস বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা কর্মতারারা প্রায় তিন ঘন্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান মাজহারুল হক জানান, আব্দুল মুকিত চৌধুরী, নজরুল ইসলাম, শিক্ষক মামুনুর রশিদ ও প্রধান শিক্ষক মাজহারুল হকের সমন্বয়ে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ ১৯ আগস্ট বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠন করে দেয়। সেই কমিটির প্রথম সভা ছিল বুধবার সকাল ১১টায়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি আফজল হোসেন একই দিনে একই সময়ে বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ আহবান করে এলাকায় মাইকিং করান। এ নিয়ে বিদ্যালয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়।

বিষয়টি এডহক কমিটি মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অবহিত করে। গতকাল বুধবার এডহক কমিটির সভা শুরুর আগেই সাবেক কমিটির সভাপতি আফজল হোসেনের নেতৃত্বে শামসুল হক, নজরুল ইসলাম, কেএম বদরুল হাসান, এনাম উদ্দিন প্রমুখকে সাথে নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। তারা ছুটির ঘন্টা বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিশৃঙ্খলা দেয়া দেয়। শিক্ষকবৃন্দ শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কক্ষ ত্যাগ না করার কথা বলার এক পর্যায়ে সাবেক কমিটির সদস্যদের হাতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক লাঞ্ছিত হন। শিক্ষক লাঞ্ছিত প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ক্লাস ছেড়ে স্থানীয় ইউনিয়ন অফিস বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

খবর পেয়ে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজন কুমার সিংহ, জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) হাবিবুর রহমান হাওলাদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সাবেক কমিটির সদস্য কেএম বদরুল হাসান জানান, ৩০ জুন বিদ্যালয়ের ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটিকে পাশ কাটিয়ে শিক্ষা বোর্ড যে এডহক কমিটি দিয়েছে এলাকাবাসী ও অভিভাবকবৃন্দ সে কমিটি না মানায় বুধবার অভিভাবক সমাবেশ করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ছুটির ঘন্টা বাজানো কিংবা শিক্ষক লাঞ্ছিত করার কথা তিনি অস্বীকার করেন। ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার জানান, দুই পক্ষের মুখোমুখী অবস্থানে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এডহক কমিটির সদস্যরা দুপুর দুইটায় সভা করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজন কুমার সিংহ বলেন, বিশৃঙ্খলা দেখে দুপুর পৌনে দুইটার দিকে বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দেন প্রধান শিক্ষক। শিক্ষকদের সাথে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বৈঠক করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে যথারীতি ক্লাস চালিয়ে যাবার পরামর্শ দিয়েছেন।