নবীগঞ্জে পরকিয়ার প্রতিবাদ করায় গৃহবধূকে নির্যাতন

33

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পল্লীতে সুজন মিয়া নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে পরকিয়ার অভিযোগ তুলেছেন তার স্ত্রী। অন্য এক নারীর সাথে তার স্বামী বিবাহ-বর্হিভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলে দাবী করছেন শিমু বেগম নামের গৃহবধূ। এমনকি স্বামীর অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করায় নির্যাতনের শিকার হয়ে ঘর ছাড়া হতে হয়েছে তাকে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। শিমু বেগম বাদী হয়ে গত বুধবার হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তার স্বামী সুজন মিয়া ও পরিকিয়া প্রেমিকা নাজমিন বেগমসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে প্রকাশ, গত বছরের ১৫ই অক্টোবর উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের শতক গ্রামের মৃত কবির মিয়া পুত্র সুজন মিয়ার সাথে একই ইউনিয়নের সাতাইহাল (দক্ষিণ কুর্শা) গ্রামের মৃত রমজান মিয়ার কন্যা শিমু বেগম এর বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পর থেকেই সুজন মিয়া নাজমিন নামের মহিলার সাথে পরকিয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে পরেন। এমনকি তার স্ত্রী শিমুকে কোন পাত্তা না দিয়ে পরকিয়া প্রেমিকা নাজমিনের কথা মতো সে চলাফেরা করে। তাকে একান্তভাবে সহযোগীতা করেন তোয়াব উল্লা ও কুরুশ মিয়ার নামের লোক।

সে প্রায়ই যৌতুকের জন্য শিমু বেগমকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। সংসারের কথা চিন্তা করে শিমু তার গরীব মায়ের কাছ থেকে ইতিমধ্যে কয়েক দফায় প্রায় ২ লক্ষ টাকা এনে দিয়েছেন স্বামী সুজনকে। কিন্তু কোন মূহুর্তেই পিছপা হয়নি সুজন। সে তার পরকিয়া প্রেমিকার সাথে প্রায়ই রাত্রী যাপন করে আসছে। টাকা পয়সা ও সাংসারিক ভরন পোষন করতে থাকে পরকিয়া প্রেমিকা নাজমিনকে। নিজের চোঁখে স্বামীর এমন কু-কর্ম দেখে কোন কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি শিমু বেগম। এসব কু-কর্মের প্রতিবাদ করলেই তার উপর চলত অত্যাচার।

শিমু বেগম জানান, সর্বশেষ গত ১৯ আগষ্ট সুজনের মোবাইলে তার পরকিয়া প্রেমিকার সাথে আপত্তিকর কিছু ছবি দেখতে পায় শিমু। এ নিয়ে কথা বলার জের নিয়ে বেধরকভাবে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে শিমুকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।

এ সময় সুজন শিমুকে জানায়, সে তার মায়ের কাছ থেকে যদি ২ লক্ষ টাকা এনে দেয় তাহলে তার সাথে সংসার করতে পারবে এবং এই টাকা দিয়ে বিদেশে গমন করবে সুজন। অবশেষে কোন উপায় না পেয়ে শিমু বেগম বাদী হয়ে গত বুধবার হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তার স্বামী সুজন মিয়া ও পরিকিয়া প্রেমিকা নাজমিন বেগমসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য নবীগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তাকে দাছিু¡বার দিয়েছেন। অপরদিকে, সুষ্ট বিচারের দাবী করছেন গৃহবধূ শিমু বেগম।