জন্মাষ্টমী মহোৎসব আজ

15

সবুজ সিলেট ডেস্ক
হিন্দু ধর্মালম্বীদের অবতার ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মবার্ষিকী’ আজ রোববার। ‘দুষ্টের দমন আর সৃষ্টের পালন’-করতে ৫২৪৫ বছর আগে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন শ্রীকৃষ্ণ। শ্রী শ্রী গীতা ও শ্রীমদ্ভাগবতের মহান প্রবক্তা পুরুষ, সনাতন ধর্মের প্রাণ পুরুষ, মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অশেষ প্রেরণাময় ভাবসঞ্চারী শ্রীকৃষ্ণ আজ থেকে ৫২৪৫ বছর আগে দ্বাপর যুগের ক্রান্তিলগ্নে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়ে দানবকুলের কুটিল ধূম্রজাল ও সংকটাবর্ত ধ্বংস করে তদানীন্তন সামাজিক ও ধর্মীয় অস্তিত্বকে রক্ষা করেছিলেন। তারই আধ্যাত্মিক ও সমাজকল্যাণমুখী কর্মকান্ডের স্মারক অনুষ্ঠান জন্মষ্টমী মহোৎসব যা মধুরতম যোগলীলার ভাব উদ্দীপক। কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরী থেকে বিকাল ৩টায় বের হবে বর্ণাঢ্য জন্মাষ্টমীর মহাশোভাযাত্রা। এটি পুরাতন ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কএ গিয়ে শেষ হবে। এদিন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ হিন্দুধর্মালম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য সকাল ১১টায় বঙ্গভবনে সংবর্ধনার আয়োজন করেছেন। এদিকে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার জেএম সেন হল থেকে লাখো ভক্তের অংশগ্রহণে বের হবে ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী’র মহাশোভাযাত্রা। রোববার সকাল ১০টায় এ শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন সহকারী ভারতীয় হাইকমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জী।

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দে। তিনি ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করেন।

দাবিগুলো হচ্ছেÑ ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার মূলমন্ত্র অনুযায়ী সনাতন ধর্মের লোকজনের নিরাপত্তা ও সম-অধিকার, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের মানবতাবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে শাস্তি, বেদখল হওয়া মঠ, মন্দির ও দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধার-সংরক্ষণে প্রয়োজনে আইন প্রণয়ন, দুর্গাপূজায় চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ফাউন্ডেশনে পরিণত করা, হামলায় বিধ্বস্ত মঠ, মন্দির ও সরকারি উদ্যোগে রামুর বৌদ্ধবিহারের মতো সেনাবাহিনী দ্বারা পুনর্নিমাণ, অর্পিত সম্পত্তি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রতি জেলায় বিশেষ আদালত গঠন, এরশাদ সরকারের আমলে সৃষ্ট বাংলা নববর্ষের তারিখ বিভ্রাটের অবসান, প্রতি জেলায় শ্রীকৃষ্ণ মন্দির প্রতিষ্ঠায় সরকারি জায়গা বরাদ্দ এবং জন্মাষ্টমী উৎসবে সরকারি ভোগ্যপণ্য বরাদ্দের ব্যবস্থা করা।

এবার মহোৎসবের কর্মসূচিতে রয়েছে রোববার দুপুর ১২টায় মাতৃসম্মেলন উদ্বোধন করবেন রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ শক্তিনাথানন্দজী মহারাজ, বিকেল তিনটায় ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিকেল পাঁচটায় সনাতন ধর্মমহাসম্মেলন, মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলন করবেন ঋষিধাম ও তুলসীধামের মোহন্ত মহারাজ সুদর্শনানন্দ পুরী মহারাজ, উদ্বোধন করবেন কৈবল্যধামের মোহন্ত মহারাজ অশোক কুমার চট্টোপাধ্যায়, রাতে জন্মাষ্টমী পূজা, ষোড়শপ্রহরব্যাপী মহানাম সংকীর্তনের শুভ অধিবাস, সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে অহোরাত্রি মহানাম সংকীর্তন শুরু। সকাল নয়টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চোখ পরীক্ষা ও ব্লাড গ্রুপিং। ৫ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্ম মুহূর্তে মহানাম সংকীর্তনের সমাপন। প্রতিদিন দুপুর ও রাতে মহাপ্রসাদ বিতরণ।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন পরিষদের সাবেক সভাপতি ও রাউজান পৌরসভার মেয়র দেবাশীষ পালিত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তপন কান্তি দাশ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার।

উপস্থিত ছিলেন কার্যকরী সভাপতি ডা. মনোতোষ ধর, সহ-সভাপতি সাধন ধর, অলক দাশ, চন্দন দাশ, বিদ্যালাল শীল, পরেশ চন্দ্র চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক লায়ন আশীষ কুমার ভট্টাচার্য, তপন কান্তি দাশ, প্রকৌশলী আশোতোষ দাশ, দিলীপ কুমার ঘোষ, ডা. বিধান মিত্র, রবি শংকর আচার্য, উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক বাবুল ঘোষ বাবুন, সদস্যসচিব রতœাকর দাশ টুনু, যুগ্ম আহ্বায়ক ঝুন্টু চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক রতন আচার্য, উপ-প্রচার সম্পাদক এস প্রকাশ পাল, পলাশ কান্তি নাথ প্রমুখ।