বিছনাকান্দিতে ইকোপার্ক : জল, পাথর আর পাহাড়ের মিতালীর সাথে যুক্ত হচ্ছে সবুজের সমারোহ

71

জাকির হোসেন, গোয়াইনঘাট
বিভিন্ন গণ-মাধ্যমের কল্যাণে গেল কয়েক বছর ধরে পরিচিতি পাওয়া সিলেটের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র বিছনাকান্দিতে এবার ইকোপার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বিভাগীয় প্রশাসন। এতে করে জল, পাথর আর পাহাড়ের মিতালীতে গড়ে উঠা পর্যটন কেন্দ্রটিতে এবার যুক্ত হচ্ছে সবুজের সমারোহ।

বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তাবিত ওই ইকোপার্কের ভূমিতে পর্যায়ক্রমে ফলজ, বনজ ও ঔষধিসহ বিভিন্ন প্রজাতির ১০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হবে।

আর প্রশাসনের গৃহীত এ পদক্ষেপ বাস্তবায়নের লক্ষে বিছনাকান্দির গোচারণভূমি এলাকায় সরকারি খাস খতিয়ানের ৩৪.৫৯ একর পতিত ভূমি চিহ্নিত ও সীমানা নির্ধারণ করে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত ওই ভূমিতে রোপণ করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা। ইতিমধ্যে ইকোপার্কের জন্য প্রস্তাবিত ভূমিতে পাঁচ শতাধিক বিভিন্ন জাতের ফলজ, বনজ ও ঔষুধি গাছের চারা লাগানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ইকোপার্কটিতে বিভিন্ন প্রজাতির দশ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হবে বলে জানিয়েছেন গোয়াইনঘাটের ইউএনও বিশ্বজিত কুমার পাল।

তিনি জানান, সরকারি পতিত ভূমিতে বৃক্ষ রোপণ করে সবুজ বনায়নের আওতায় আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা রয়েছে। সে নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যটন কেন্দ্র বিছনাকান্দির সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণের লক্ষ্যে সিলেট বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি পতিত ভূমিতে ইকোপার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যা বাস্তবায়নের লক্ষে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

পর্যটন কেন্দ্র বিছনাকান্দিতে ইকোপার্ক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করায় সিলেটের বিভাগীয় প্রশাসনের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন সিহাব বলেন, ইকোপার্ক স্থাপনের ফলে এই এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র রক্ষার পাশাপাশি বিছনাকান্দি আগত পর্যটকদের বাড়তি বিনোদনের স্থান হবে। এছাড়াও বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছ থাকায় এখানে পাখ-পাখালির আনাগুনা বাড়বে বলে তিন মনে করেন। যা প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি জানান।

সম্প্রতি ইকোপার্কের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেছেন সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মৃনাল কান্তি দেব। পরিদর্শনকালে তিনি সবুজ বনায়নের অংশ হিসেবে ইকোপার্কের ভূমিতে গাছের চারা রোপণ করেন। এসময় তিনি রোপায়িত গাছের চারার রক্ষাণাবেক্ষণে কার্যত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গোয়াইনঘাটের উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেন। মোবাইল ফোনে আলাপকালে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, ইকোপার্কটিতে সবুজের সমারোহের পাশাপাশি থাকবে বিছনাকান্দি আগত পর্যটকদের বাড়তি বিনোদনের ব্যবস্থা। পার্কের ভেতরে পর্যটকদের জন্য তৈরী করা হবে সবুজ বৃক্ষরাজির ছায়া বেষ্টিত নান্দনিক বিশ্রামাগার ও বসার স্থান। সে লক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।