হাইকোর্টের রায় ও সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

17

৪টি স্কুলের হিসাব দাখিলের নির্দেশ

সবুজ সিলেট ডেস্ক
সিলেটের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে তারা তাদের অতিরিক্ত ফি আদায় করে যাচ্ছে। নির্দেশনা অমান্য করে বিভিন্ন ফি নামীয় অর্থ আদায় করায় আনন্দ নিকেতন, রাইজ, বিবিআইএস ও গ্রামার স্কুলকে আয় ব্যয়ের হিসাব দাখিলের নির্দেশ দিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সভা ডেকেছেন জেলা প্রশাসন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহে দুল ইসলাম গত ৩ সেপ্টেম্বর সরকারী এ নির্দেশনা জারি করেন। এই সভায় আধুনিক শিক্ষায় ব্যয় কমিয়ে আনা ও সিলেটের বেশী সংখ্যক ছাত্র ছাত্রীদের আধুনিক শিক্ষায় নিয়ে আসার লক্ষে বেআইনি মোটা অংকের ফি আদায় বন্ধ ও আদায়ীকৃত ফির অর্থ ফেরত দেয়া সংক্রান্ত সিলেটের হাজারও শিক্ষার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হতে যাচেছ।

অভিভাবকরা আশা করছেন সিলেটের আধুনিক শিক্ষা ও মানুষের স্বার্থে উদাহরণ তৈরী করবেন এডিসি আবউ সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহে দুল ইসলাম।

খোজ নিয়ে জানা যায়, দুটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হওয়া রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্ ২০১৭ সালের ২৫ মে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোতে প্লে গ্রুপ থেকে ‘এ’ লেভেল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি, সেশন ফি, একাডেমিক ফি বা অন্য কোনো নামে ফি আদায় করা যাবে না মর্মে রায় দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই রায় না মেনে সিলেটের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন নামে বেআইনি ভাবে ফি আদায় করা হচ্ছে।

এছাড়া আদালতের আদেশে বলা হয়েছিল, ১৯৬২ সালের বেসরকারি বিদ্যালয় নিবন্ধন অধ্যাদেশ ও ২০০৭ সালের বেসরকারি (ইংরেজি মাধ্যম) বিদ্যালয় নিবন্ধন নীতিমালা অনুসারে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে ব্যবস্থাপনা কমিটি করতে হবে এবং সে কমিটিতে অভিভাবক প্রতিনিধি রাখতে হবে। কিন্তু সিলেটের ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোতে এ আদেশও বাস্তবায়ন করা হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ সিলেটের হাজারও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। রায়ে আদালত বলেছিলেন, শ্রেণি পরিবর্তন হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বার্ষিক পুনঃভর্তি ফি বা সেশন ফি বা অন্য কোন নামে ফি নেওয়া বেআইনি। সিলেটে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সিলেটের ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল আনন্দনিকেতন স্কুল, সিলেট গ্রামার স্কুল, রাইজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং বৃটিশ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ বিভিন্ন নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ফি আদায় করছে। এমনকি এসব স্কুলে হাইকোর্টের নির্দেশনা মেনে ব্যবস্থাপনা কমিটি করে অভিভাবক প্রতিনিধিও রাখা হয়নি।

সিলেটে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর এমন অনিয়মের বিষয়টি অবহিত হয়ে চলতি বছরের ২২ মে সিলেট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলজার আহমদ খান সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘হাইকোর্টের যাবতীয় নির্দেশনা অনুসরণ ও বাস্তবায়নের জন্য’ নির্দেশ দেন (স্মারক নং- ৩৭.০২.৯১০০.০০০.০০.০০০.১৮.১০২)। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।

পরে গত ৮ জুলাই ফের সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোকে একই নির্দেশনা দেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলজার আহমদ খান (স্মারক নং- ৩৭.০২.৯১০০.০০০.০০.০০০.১৮.১৪৪)। অভিযোগ ওঠেছে, প্রশাসনের এই নির্দেশনাও তোয়াক্কা করছে না সিলেটের ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলো। তারা তাদের ইচ্ছেমতো নানা ফি আদায় করে চলেছে। গত ২ আগস্ট আনন্দনিকেতন স্কুল, সিলেট গ্রামার স্কুল, রাইজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং বৃটিশ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে ‘সিলেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অভিভাবক অ্যাসোসিয়েশন’।

এসোসিয়েশনের পক্ষে সভাপতি মাহবুব চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুকিত অপি এড. এই আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশ পাওয়ার দিন থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে গৃহীত ফি ফেরত, বাকিদের কাছ থেকে ফি না নেওয়ার ঘোষণা নোটিশ বোর্ডে টাঙানো ও ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে এ নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়।

ইতিমধ্যে আনন্দ নিকেতন স্কুল কর্তৃপক্ষ সিলেট জেলা বারের সাবেক সভাপতি এড. দেওয়ান গোলাম রব্বানীর মাধ্যমে অভিভাবক এসোসিয়েশনের নিযুক্ত আইনজীবীর বরাবরে লিগ্যাল নোটিশের জবাব দিয়েছেন।

সর্বশেষ গত ২৮ আগস্ট বিষয়টি অবহিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক দেবজিৎ সিংয়ের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘সিলেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অভিভাবক অ্যাসোসিয়েশন’ সামগ্রিক বিষয়ে সিলেট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলজার আহমদ খান বলেন আমরা এর আগে তিনবার প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারপরও বিভিন্ন নামে ফি নেয়ার প্রমান রয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সিলেটের ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর প্রধান এবং অভিভাবকদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহে দুল ইসলাম। এবং আজ বুধবার মধ্যে স্কুল গুলোর বার্ষিকী আয় ব্যায়ের বিবরণী, ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা ও ছাত্র ছাত্রীদের নিকট থেকে আদায়কৃত ভর্তি ফি,সেশন ফি,মাসিক ফি, অন্যান্য ফি আদায়ের তথ্যাদি দাখিল করতে বলেছেন।