শপথ গ্রহণ শেষ, আরিফের চ্যালেঞ্জ শুরু

242

“স্বপ্নের নগরী হবে সিলেট”

স্টাফ রিপোর্টার
দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ গ্রহণ করলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বেলা সোয়া ১১ টায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সবাইকে জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।

সিলেট ছাড়াও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সিলেট ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন কাউন্সিলর ও মহিলাদের শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

সিলেট থেকে পরিবারের ৫ সদস্যকে সাথে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২য় মেয়াদে নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। বহুল কাঙ্খিত এই দিনে মাকে পাশে রেখেছিলেন তিনি। এর আগেও মায়ের দোয়া নিয়ে নির্বাচনী প্রচারনায় নামেন আরিফুল হক চৌধুরী।

দ্বিতীয়দফায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর পর শপথ গ্রহণ করেন নির্বাচিত কাউন্সিলররা। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৌফিকুল হাদী, ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিক্রম কর সম্রাট, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালাম আজাদ লায়েক, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোখলেছুর রহমান, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তারেক উদ্দিন তাজ, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রকিবুল ইসলাম ঝলক, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সিকন্দর আলী, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শান্তনু দত্ত সনতু, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছয়ফুল আমিন বাকের, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল মুহিত জাবেদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের রাশেদ আহমদ, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবিএম জিল্লুর রহমান, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের শওকত আমীন তৌহিদ, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুর রকীব তুহিন, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ সেলিম, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোস্তাক আহমদ, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোহেল আহমদ রিপন, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তাকবীর ইসলাম পিন্টু, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আজম খান শপথ গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই রাজশাহী এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে ৯২ হাজার ৫৯৮ ভোট পেয়ে পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হন।

গত ৩০ জুলাই সিসিক নির্বাচনের দিন সংঘাত ও জাল ভোটের কারণে দুটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্র দুটিতে গত ১১ আগস্ট পুনরায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় এবং তিনি বিজয় লাভ করেন।

স্থগিত হওয়া দুটি কেন্দ্রে ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করে আরিফ তার আবেদনে জানান, স্থগিত হওয়া গাজী বোরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৩ হাজার ২২১ জন ভোটারের মধ্যে ইতিমধ্যে ৮০ জন মারা গেছেন এবং আরো ৮০ জন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

অন্যদিকে, হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২ হাজার ৫৬৬ জন ভোটারের মধ্যে ৩৮ জন মারা গেছেন এবং বিদেশে আছেন ১০০ জন। এছাড়া এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন আরো ৩ জন। সর্বমোট স্থগিত হওয়া এই দুই কেন্দ্রের মোট ৩০১ জন ভোটার মৃত বা দেশের বাইরে রয়েছেন।

বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী তার ১৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছিলেন। আরিফ বলেন, আগামীতেও ছড়া ও খাল উদ্ধার কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জলাবদ্ধতামুক্ত নগরী করার স্বার্থে সুরমা নদীকে খনন করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্ঠা গ্রহণ করবো। সিলেট নগরীর যানজট নিরসন ও হকার পুনর্বাসনে সম্মিলিত প্রয়াস গঠন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণ, বস্তিবাসীদের চিকিৎসা সেবায় নগরীতে স্যাটেলাইট ক্লিনিকের সংখ্যা বৃদ্ধি করণ, নগরে ২৫ শয্যা বিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার নির্মাণ, শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষ্যে স্কুলের সংখ্যা ও কার্যক্রমে আওতা বৃদ্ধি করণ, নগরীতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ।

এছাড়া পূর্বে গৃহীত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পগুলোকে দ্রুতএগিয়ে নেয়ার ব্যাপারে তার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান সাবেক এই নগর পিতা। সিলেটে ২০ দলীয় জোটের মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্প ৪৫টি ও ৪৭টি প্রকল্পের চলমান রয়েছে বলে নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ করেন তিনি।

ইশতেহার ঘোষণার পর আরিফুল হক চৌধুরী আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের ঘোষিত ইশতেহারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, আমার ভাই কামরান তাঁর নির্বাচনি ইশতেহারে যেসব বিষয় উল্লেখ করেছেন সেগুলো আমার মেয়াদকালীন সময়ে অধিকাংশ কাজ বাস্তবায়ন করেছি। আর যা তিনি করবেন সেগুলো আমার চলমান কাজের মধ্যে রয়েছে। এই সিলেটের উন্নয়নে তিনি ১৭ বছরে যা করতে পারেননি আমি ৩৩ মাস জেলখাটার পরও সেই সব দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করেছি।

তিনি আরও বলেন, আমি এই সিলেট নগরের জন্য কি করেছি তা জানে এই সিলেটের মানুষ। সিলেটকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখার জন্য আমাকে একের পর এক মামলা দিয়ে কারাগারে বন্দি রাখা হয়। কিন্তু এই সিলেটের মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় আমি জেল থেকে মুক্তি পেয়েই উন্নয়নমূলক কাজে হাত দেই। আমি দায়িত্ব নেয়ার পূর্বে অর্থাৎ ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে সিটি করপোরেশনের সর্বমোট আয় ছিল ১৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। মাত্র ১ বছরের ব্যবধানে ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে তা প্রায় ৩৩ কোটি ২১লাখ টাকায় উন্নীত করেছি। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে এই আয় প্রায়৫০ কোটি ছাড়িয়ে যায়।

ইশতেহারে যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন তা হলো- অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রযুক্তি নির্ভর সিলেট গড়া, সিলেটকে ওয়াইফাই জোনের আওতায় নিয়ে আসা, যানজটন নিরসন ও হকার পুনর্বাসনের জন্য

তৈরি হচ্ছে স্থায়ী মার্কেট, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কমেছে দূষণ, বস্তিবাসীদের জন্য স্যানেটারি কক্ষের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে অগ্রাধিকার, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, ‘ড্রিম টিম’এ শিক্ষিত বেকারদের চাকরির সুযোগ, নারীদের জন্য পৃথক ইন্সটিটিউট ও টাউন বাসের ব্যবস্থা, লানিং রিসোর্স সেন্টার, পিছিয়ে পড়া দক্ষিণ সুরমার জন্য থাকবে বিশেষ নজর, আগামী সিলেট গড়তে প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।

তিনি বলেন, টাউন বাস প্রাইভেট কারের আধিক্য কমানোর লক্ষ্যে স্কুলভিত্তিক বাস চালু ও রাস্তা প্রশস্তকরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। ট্রাক টার্মিনাল চালু ও কদমতলী বাস টার্মিনালকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরিত করার কথা উল্লেখ করে আরিফ বলেন, হকারদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে লালদিঘী মার্কেটের পুরানো ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। এখানে সুপরিসরে মার্কেট নির্মাণ করে হকারদের পুনর্বাসন করা হবে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে হকারদের তালিকাও করা হয়েছে। মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী গত ২৬ জুলাই বৃহসপতিবার বিকালে তার নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ে এ ইশতেহার ঘোষণা করার সময় ‘সিলেট টাওয়ার’ নির্মাণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নগরীতে পরীক্ষামূলকভাবে ওয়াইফাই চালুর কাজ শুরু করা হয়েছে ও ইন্টারনেট প্রোভাইডার কোম্পানির সাথে আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি আবারো নির্বাচিত হলে এ প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে।