এক্সেলসিওর লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ গঠন নিয়ে হাইকোর্টে মামলা

35

সবুজ সিলেট ডেস্ক
সিলেটে প্রবাসীদের অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগ শহরতলীর দলইপাড়ায় গড়ে উঠা এক্সেলসিওর রিসোর্টের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বেআইনীভাবে এই প্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন করা হয়েছে- এমন অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে আদালত পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ জামাল নুরুল হুদা ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাঈদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টদের আদালতে তলব করেছেন।

গত ১২ আগস্ট হাইকোর্টে এই কোম্পানী মেটার মামলা (নং-২৫৫/২০১৮) দায়ের করেন এক্সেলসিওর সিলেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুকুর রহমান। হাইকোর্টের একক বেঞ্চের বিজ্ঞ বিচারপতি খোরশেদ আলম সরকার বাদী পক্ষের বক্তব্য শুনে অভিযোগ আমলে নেন এবং মামলার বিবাদী জয়েন্ট স্টক এক্সচেঞ্জের রেজিস্ট্রার, এক্সেলসিওর সিলেট লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ জামাল নুরুল হুদা, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাঈদ চৌধুরীসহ ১০ পরিচালককে আগামী ১১ অক্টোবর আদালতে উপস্থিত হওয়ার নোটিশ প্রদান করেছেন।

মামলার আরজির বক্তব্যে জানা যায়, ২০১৩ সালে এক্সেলসিওর সিলেট লিমিটেডের ৫ বছর মেয়াদী পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। চলতি বছরে এই কমিটির মেয়াদ শেষ হলে পরিচালকবৃন্দ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শাহ জামাল নুরুল হুদা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাঈদ চৌধুরীর কাছে বার্ষিক সাধারণ সভা আহবান করে হিসাবাদি উপস্থাপনা ও নতুন কমিটি গঠনের তাগিদ দেন। কিন্তু, সাঈদ চৌধুরী কোন হিসাব না দিয়ে বিগত ৬জুন কোম্পানীর একটি সভা দেখিয়ে ঐ সভাতে ১০ জন পরিচালক উপস্থিত ছিলেন বলে বর্ণনা করে কোম্পানীর পরিচালক জিলু মিয়াকে চেয়ারম্যান ও আহমদ আলীকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক গঠন করে নেন। ঐ কমিটি অনুমোদনের জন্য তিনি জয়েন্ট স্টক এক্সচেঞ্জে প্রয়োজনীয় দরখাস্ত দাখিল করেন।

ইত্যবসরে শাহ জামাল নুরুল হুদা ও সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত কমিটির পরিচালকরা লন্ডনে এক সভায় মিলিত হন। ১৭/০৬/২০১৮ ইংরেজি তারিখে অনুষ্ঠিত ঐ সভায় কোম্পানীর ১৯ জন পরিচালকের মধ্যে শাহ জামাল নুরুর হুদা ও সাঈদ চৌধুরী ছাড়া বাকী ১৭ জন পরিচালকের প্রায় সবাই উপস্থিত ছিলেন। ঐ সভাতে সর্বসম্মতিক্রমে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাঈদ চৌধুরীকে অপসারণ করে পরিচালক মাসুকুর রহমানকে ব্যবস্থপনা পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয়। নতুন এই কমিটির দায়িত্ব গ্রহণের লক্ষ্যে তা অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশের জয়েন্ট স্টক এক্সচেঞ্চে আবেদন দাখিল করা হয়। কিন্তু, এ সময় জয়েন্ট স্টক এক্সচেঞ্চের রেজিস্ট্রার জানান, এর আগেই জিলু মিয়াকে পরিচালক ও আহমদ আলীকে ব্যবস্থপনা পরিচালক করে একটি পরিচালনা কমিটি অনুমোদনের আবেদন দাখিল করা হয়েছে জয়েন্ট স্টক এক্সচেঞ্জে। ফলে, জয়েন্ট স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুকুর রহমানের কমিটিকে অনুমোদন দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় সংক্ষুব্ধ হয়ে মাসুকুর রহমান গত ১২ আগস্ট হাইকোর্টে কোম্পানী মেটার মামলা (নং-২৫৫/২০১৮) দায়ের করেন।

এক্সেলসিওর সিলেট লিমিটেডের নবনিযুক্ত ব্যবস্থপনা পরিচালক মাসুকুর রহমান অভিযোগ করেন, বিগত ৫ বছরের আয় ব্যয়ের হিসাব দেয়ার বিষয়টিকে কৌশলে পাশ কাটাতেই শাহজামাল নুরুল হুদা ও সাঈদ চৌধুরী ভুয়া একটি সভা দেখিয়ে নতুন একটি কমিটি গঠন করে দায়িত্ব অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে সরে যাবার চেষ্টা করছেন।

তিনি জানান, এক্সেলসিওর সিলেট লিমিটেডের ১৯ জন পরিচালকের প্রায় সকলেই প্রবাসী। যে ১০ জন পরিচালকের উপস্থিতিতে সভা হয়েছে মর্মে বলা হচ্ছে, তাদের কেউ-ই সে সময় বাংলাদেশে ছিলেন না। এক্সেলসিওর সিলেট লিমিটেডে বিগত ৫ বছরে পরিচালকবৃন্দ প্রায় ২৯ কোটি টাকা জমা করেছেন। ঐ টাকার হিসেব না দিয়ে বিদায়ী চেয়ারম্যান শাহ জামাল নুরুল হুদা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাঈদ চৌধুরী দায় এড়ারেনার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন বর্তমান ব্যবস্থপনা পরিচালক।

উল্লেখ্য, সিলেটের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জাকারিয়া হোসাইন সিলেট নগরীর খাদিমপাড়া ইউনিয়নের দলইরপাড়া এলাকায় সুদৃষ্ট টিলাবেষ্টিত ভূমি জাকারিয়া সিটি নামের রিসোর্ট গড়ে তুলেন। পরবর্তীতে এক্সেলসিওর সিলেট লিমিটেড ৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকায় এটি কিনে নিয়ে নামকরণ করে এক্সেলসিওর রিসোর্ট।