জামালগঞ্জে জাল চুক্তিনামা দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ

13

সবুজ সিলেট ডেস্ক
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজারে জাল চুক্তিনামা তৈরি করে স্থানীয় প্রভাবশালীদের দ্বারা একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে নেওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার দুপুর ১২ টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো. নূরুল হক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তিনি উপজেলার উত্তর কামলাবাজ গ্রামের মৃত বরজু মিয়ার ছেলে।

সাচনাবাজারে একটি দোকানঘর ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ সাত বছর ধরে মেসার্স জুবায়ের স্টোর নামের একটি মুদি দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন নূরুল হক। সম্প্রতি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় দোকাকোঠার মালিকপক্ষের কাছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল বিক্রির জাল চুক্তিপত্র তৈরি করে দখল করে নেওয়ার অভিযোগ তার। এসময় দোকানে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল ছিল বলে জানানো হয়। স্থানীয়ভাবে এর প্রতিকার পাওয়া দূরে থাক উল্টো প্রভাবশালীদের দায়ের করা একটি চুরির মামলায় দুই দিন জেল খাটতে হয়েছে বলে অভিযোগ নূরুল হকের।

তিনি আরও জানান, জামালগঞ্জের উত্তর কামলাবাজ গ্রামের তৈয়ব আলীর নিকট থেকে সাত বছর পূর্বে মুদি দোকান দেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি ভিট ভাড়া করেন ব্যবসায়ী নূরুল হক। ভাড়ার অগ্রিম টাকা দিয়ে ওই ভিটে পাকা একটি দোকানঘর তৈরি করে ব্যবসা করছিলেন তিনি। প্রায় দুই বছর পূর্বে তৈয়ব আলীর মৃত্যুর পর দোকানঘরের ভাড়া আদায় করে যাচ্ছেন তার নাবালক ছেলে আনোয়ার হোসেন। সম্প্রতি স্থানীয় প্রভাবশালী নূরু মিয়া আনোয়ার হোসেনকে প্ররোচিত করে গত আগস্ট মাসে দোকানের মালামাল বিক্রি করে দেওয়ার একটি জাল চুক্তিপত্র তৈরি করেন। এরপর ১৫ আগস্ট বিকাল ৫টায় নূরুল হকের অনুপস্থিতিতে ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা তার ছোট ভাই আব্দুস শহীদকে বের করে দিয়ে দোকানঘরে তালা দেন নূরু মিয়ার লোকজন। দোকানঘরে থাকা প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল বেহাত হয়ে যাওয়ার ভয়ে একই দিন এতে পালটা তালা ঝুলান নূরুল হক।

তিনি আরও জানান, ১৫ আগস্ট রাতে তালা খুলে দেওয়ার জন্য নূরুল হককে মোবাইল ফোনে নির্দেশ দেন জামালগঞ্জ থানার ওসি মো. আবুল হাসেম। সেইসাথে থানায় গিয়ে তাঁর সাথে দেখা করতেও বলেন। প্রভাবশালী প্রতিপক্ষ মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে ফাঁসাতে পারে এমন ভয়ে থানায় না গিয়ে বিবদমান দোকানঘরে স্থিতাবস্থা চেয়ে গত ২০ আগস্ট সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিবিধ মামলা (নং ২৯০/১৮) দায়ের তিনি। আদালত বিবদমান স্থানে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখতে জামালগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। কিন্তু ওই দিনই রাত ১১টার দিকে দোকানঘরটি আনোয়ার হোসেনকে খুলে দেয় জামালগঞ্জ থানাপুলিশ।

তিনি আরও জানান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বেদখলের বিচার স্থানীয়ভাবে না পেয়ে বিষয়টি স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের জানান নূরুল হক। ২৬ আগস্ট সরেজমিন পরিদর্শন করে বিবদমান পক্ষদ্বয়ের বক্তব্য শোনার পর বিকাল ৩টার দিকে জামলগঞ্জ থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে বসে বিষয়টি তাঁকে অবহিত করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। বিবদমান বিষয়টি থানাপুলিশের উপস্থিতিতে সাচনা বাজার বণিক সমিতির মধ্যস্থতায় মিটমাট করার সিদ্ধান্ত হলেও ২৮ আগস্ট বিকাল ৩টার দিকে ভিট মালিক আনোয়ার হোসেনের তাৎক্ষণিক দায়ের করা একটি মিথ্যা চুরির মামলায় (জিআর ৬৩/২০১৮) সাচনাবাজার থেকে পুলিশ ব্যবসায়ী নূরুল হককে গ্রেফতার করে। পরদিন জেলহাজতে পাঠায় তাকে। ওই মামলায় তার দুই সহোদর মো. শহিদ মিয়া ও আব্দুল মোতালেসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকেও আসামি করা হয়। থানায় আটকে রাখাকালীন সময়ে ব্যবসায়ী নূরু মিয়া বিবদমান বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে মর্মে কাগজে সই করতে তাকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ তার। দুই দিন কারাভোগের পর ৩০ আগস্ট বৃহস্পতিবার জামিনে মুক্ত নূরুল হক।

তিনি আরও জানান, আনোয়ার হোসেনের দায়ের করা মামালার এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে দিন-দুপুরে রামদা, লাঠি, লোহার রড নিয়ে দোকানে প্রবেশের কথা বলা হলেও নূরুল হকের বিরুদ্ধে দোকানের ক্যাশ হতে ৭৫ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ আনা হয়, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

নূরুল হকের প্রতিপক্ষ নূরু মিয়া বলেন, প্রতিবেশি ব্যবসায়ী হিসেবে আমি আনোয়ার হোসেকে সহযোগিতা করছি, এখানে আমার কোন স্বার্থ জড়িত নেই। নূরুল হক আমার উপস্থিতিতে আনোয়ার হোসেনের নিকট তার দোকানের মালামাল বিক্রির যে চুক্তিনামা করেছেন এতে আমি সাক্ষী।

জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসেম জানান, আয়োরার হোসেনের দায়ের করা একটি চুরির মামলায় নূরুল হককে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এখানে পুলিশ কোন পক্ষাবলম্বন করেনি।