সিলেট ১ আসন : অর্থমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত না নেত্রীর পছন্দ

1282

নুরুল হক শিপু
আর ক’দিন পরই নির্বাচনকালীন সংক্ষিপ্ত সরকার গঠন করা হবে। এ সরকারে কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের দেখা যেতে পারে। অর্থমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য এ সরকারে থাকতে পারেন বলে আশা করা যাচ্ছে। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার আগামী নির্বাচনে নিজে অংশগ্রহণ করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, এ আসনে তার অনুজ নির্বাচন করবেন। অর্থমন্ত্রীর এ ঘোষণার পর সিলেট-১ আসনের আগামী নির্বাচনে কে প্রার্থী হচ্ছেন এ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, অর্থমন্ত্রীর পছন্দ নয়, মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা যাকে নৌকার মাঝি করবেন তিনিই এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাই শেখ হাসিনার দিকেই দৃষ্টি এখন সিলেট আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের। তবে সিলেট-১ আসন থেকে যেমন মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীর সংখ্যা কম নয়; তেমনি আলোচনায়ও রয়েছেন কয়েকজন।

সূত্র মতে, দলের প্রয়োজনে কয়েক দিন আগেও নির্বাচন করবেন বলে জানালেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করছেন না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারে সম্ভবত আমি থাকছি। কারণ আমি তো আর নির্বাচন করছি না। মন্ত্রী বলেন, হ্যাঁ, আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আর নির্বাচন করছি না। আমার ভাই (সাবেক রাষ্ট্রদূত আবদুল মোমেন) নির্বাচন করবে, আমি তাঁর সমর্থক হয়ে কাজ করবো।

এদিকে, সিলেট-১ আসন নিয়ে একটি মিথ রয়েছে সারাদেশে। সিলেট-১ আসনে যে দল বিজয়ী হয়; সরকারও হয় সেই দলের। স্বাধীনতা উত্তর প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টি থাকে ‘সিলেট-১’ আসনের দিকে। তাই সকল দলই বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে সিনিয়র ও গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়। বিগত দিনে এই আসন থেকে বিএনপির হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান এবং আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করেছেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মুহিত বর্তমানে সংসদ সদস্য ও অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করতে পারেন বলে বেশ কয়েকজন আলোচনায় রয়েছেন। এদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের অনুজ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. একে আবদুল মোমেন, নগরীর কাজীটুলার বাসিন্দা সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন এবং হবিগঞ্জের মাধবপুরের কৃতিসন্তান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন এবং সদ্য অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত পরাজিত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।

ছহুল হোসাইনের পারিবারিকসূত্রে জানা গেছে, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে ছহুল হোসাইন কোনো কিছু জানাননি। তবে আওয়ামী লীগের শীর্ষ অনেক নেতার মুখেই শোনা যাচ্ছে তিনি আওয়ামী লীগের টিকেট পেতে পারেন।

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় পরিষদের চেয়ারম্যান ড. এ কে আবদুল মোমেন দেশে ফেরার পর থেকেই আলোচনায়। তিনিই সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হবেন এমন ইঙ্গিত একাধিকবার দিয়েছেন তাঁরই অগ্রজ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। নগরী জুড়ে ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়েছেন তার শুভাকাঙ্খি ও সমর্থকেরা ।

আর বাংলাদেশ ব্যাংকের সপ্তম গভর্ণর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন একজন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ হিসেবে আওয়ামী লীগ তাঁকে মনোনয়ন দিতে পারে বলেও নেতাদের মুখে শোনা যাচ্ছে।

সিলেট-১ আসনে কে প্রার্থী হতে পারেন জানতে চাইলে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী বলেছেন তিনি নির্বাচন করবেন না তাঁর ছোট ভাই নির্বাচন করবেন এটি তাঁর একান্ত এবং ব্যক্তিগত মতামত। তিনি বলেন, সিলেট-১ আসন হচ্ছে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন এই আসনের প্রার্থী জননেত্রী শেখ হাসিনাই ঠিক করবেন। নেত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন আমরা তার জন্যই কাজ করবো।’

এ ব্যাপারে মহানগর আওয়ামী লেিগর সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সিলেট-১ আসনের এমপি হচ্ছেন অর্থমন্ত্রী তিনি তাঁর মতামত দিতেই পারেন-এটা স্বাভাবিক। আসাদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনে পুরো দেশবাসীর দৃষ্টি থাকে সিলেট-১ আসনের দিকে। সাধারণত এই আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী দেওয়া হয়। দলীয় সিদ্ধান্ত এবং দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তের দিকেই আমাদের দৃষ্টি। জননেত্রী যাকে নৌকার মাঝি করবেন আমরা তার জন্যই কাজ করবো।’