৪০ কোটি টাকা হিসাবের দাবিতে ট্রাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ

218

‌’আহত শ্রমিক সাহায্য তহবিল’

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেট জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক সাহায্য তহবিল ও মালিক গ্রুপের নামে ৪০ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রকাশ হওয়ার পর পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের মাঝে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দফায় দফায় বৈঠক হচ্ছে মালিক শ্রমিকদের মাঝে। তবে এখনো বন্ধ হয়নি ট্রাক মালিক গ্রুপের নামে চাঁদা উত্তোলন। বৃহস্পতিবারও অন্যদিনের মতো চলছিলো সকল স্পটে টাকা উত্তোলন। বিশেষ করে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের পাল্টা পাল্টি কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ সমাধানে বৃহস্পতিবার ১৭ থানা আঞ্চলিক কমিটির সভা চলাকালে অফিসের বাইরে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শ্রমিকরা।

এক পর্যায়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এমনকি শ্রমিকদের বিরুদ্ধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের দুই প্লাটুন পুলিশ সহযোগীতা করেছেন।

দীর্ঘ সাত মাস ধরে জেলা ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন না দেওয়া ও সংগঠনের টাকা আত্মসাতের ঘটনা নিয়ে সৃষ্টি হয় বড় ধরনের জটিলতার। এক পর্যায়ে পাল্টা আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হলে শুরু হয় বহিষ্কার পাল্টা বহিষ্কার। সাধারণ শ্রমিকরা সম্মিলিত হয়ে সংগঠনের প্রতিষ্টাতা ও আহবায়ক মাখন মিয়ার নেতৃত্বে সমবেত হতে থাকে। তারা সদস্য বই নবায়ন’সহ দিলু মিয়ার কমিটির সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেন। এক পর্যায়ে কয়েক হাজার শ্রমিক নগরীর সোবহানীঘাটস্থ আগ্রা কমিউনিটি সেন্টারে সভার দিন তারিখ নির্ধারণ করলে দিলু মিয়া ও গফুর মিয়া প্রশাসনের মাধ্যমে শ্রমিক সমাবেশটি পন্ড করেদেন। শ্রমিকদের টাকা আত্মসাতের প্রতিবাদ করায় তারা সাধারণ শ্রমিকদেরকে বিভিন্ন মামলার আসামী করেছেন। খোদ সংগঠনের প্রতিষ্টাতা বয়োজৈষ্ঠ মাখন মিয়া’সহ অন্যান্য মুরব্বীদেরকে চুরির মামলার আসামী করেছেন। বিভিন্ন আঞ্চলিক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করে।

এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ১৭ থানা আঞ্চলিক কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে কয়েক হাজার শ্রমিক উপস্থিত হয়ে অফিসের বাইরে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীরা সাধারণ সম্পাদক গফুর মিয়া কর্তৃক আত্মসাতকৃত উদ্ধার করতে শ্রমিক নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানান। পাশাপশি শ্রমিকের টাকা আত্মসাত করায় গফুর মিয়া’কে গ্রেফতার করতে এবং টাকা উদ্ধার করতে পুলিশ প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানান।

এদিকে ট্রাক মালিক গ্রুপের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের সংবাদ দৈনিক সবুজ সিলেটে প্রকাশ হওয়ায় মালিক গ্রুপের মাঝে শুরু হয়েছে তোলপাড়। সংগঠনের সিনিয়র নেতারা দায়ী করছেন সন্দেহজন দুই ব্যক্তি। তাদের অভিযোগ শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে আতাত করে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ নিচ্ছেন। অথচ সংগঠনের কাছে এমন তথ্য গোপন রেখে যারা বিশ্বাস ঘাতকতা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের দায়ভার ট্রাক মালিক গ্রুপ নেবে না। টাকার ভাগ গ্রহণকারী ও ট্রাক শ্রমিক নেতা গফুর মিয়াকে গ্রহণ করতে হবে। পাশাপশি সংগঠনের সাড়ে তিন বছরের টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে। নতুবা এর পরিনতি শুভ হবে না। আইনের কাঠগড়ায় দাড়াঁতে হবে। এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেন তারা।

এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা-মোগলাবাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোঃ কাউছার আহমদ বলেন, ১৭ থানা আঞ্চলিক কমিটির নেতৃবৃন্দ নিয়ে আপোষে সমাধানের জন্য জেলা অফিসে যাই। বাহিরে কয়েক হাজার সাধারণ শ্রমিক টাকা আত্মসাতের ঘটনায় বিক্ষোভ করেন। পরে বিচারের আশ্বাস দিলে সবাই শান্ত হন।