সিলেট বিভাগে কে হচ্ছেন নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রী

350

নুরুল হক শিপু
চলতি মাসের শেষের দিকে গঠিত হতে যাচ্ছে নির্বাচনকালীন সরকার। নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছেতেই চূড়ান্ত হবে সংক্ষিত মন্ত্রীসভা। তবে সংসদে না থাকায় নির্বাচনকালীন সরকারে থাকছে না বিএনপি-বিষয়টি অনেকটাই চূড়ান্ত। নির্বাচনকালীন সরকারে সিলেটের একাধিক মুখ দেখা যেতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সিলেট-১ আসনের এমপি ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজে এ মন্ত্রীসভায় থাকতে পারেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। আর শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ মন্ত্রীসভায় থাকতে পারেন বলে আশা করছেন সিলেট আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

পূর্বের গণতান্ত্রিক সরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সেনাশাসিত সরকার, স্বৈর-শাসিত সরকারসহ সকল মন্ত্রীসভায়ই সিলেটের বিশিষ্টজনেরা স্থান পেয়েছিলেন। এছাড়া সিলেট থেকে দেশবরেণ্য নেতারা সংসদ সদস্য হয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন মহান জাতীয় সংসদে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন, সাবেক স্পীকার হুমায়ুন রশীদ, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদ, সাবেক মন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজী, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এমএ এস কিবরিয়া, সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসিন আলী, এনামুল হক মোস্তফা শহীদ, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ, প্রতিমন্ত্রী এবাদুর রহমান চৌধুরীসহ অনেকেই। এছাড়া বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান দায়িত্ব পালন করছেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টামন্ডলীতে ছিলেন, প্রয়াত মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাক্তার এম.এ মালিক, গীতিআরা সাফিয়া, সুলতানা কামাল, রাশেদা কে চৌধুরী, জামিলুর রেজা চৌধুরী, ইফতেখার আহমদ চৌধুরীর মতো বিশিষ্টজন। তাই এবারের নির্বাচনকালীন মন্ত্রীসভায় অর্থমন্ত্রী ছাড়াও দেখা যেতে পারে সিলেটের আরো ২/১টি মুখ।

গত বুধবার অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ২৭ ডিসেম্বর। নির্বাচন কমিশনই ২৭ ডিসেম্বর দিনটি ঠিক করেছে। নির্বাচন কমিশনই এই তারিখ ঘোষণা করবে। তারাই আয়োজন করবে আসন্ন নির্বাচনের। অর্থমন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বরে নির্বাচনের জন্য দিন পাওয়া খুবই কঠিন। ডিসেম্বরে মাসে বিভিন্ন দিবস ও অনুষ্ঠান নিয়ে মানুষ ব্যস্ত থাকে। এর ফলে নির্বাচনের জন্য নিরাপদ তারিখ পাওয়া খুবই কঠিন। তিনি বলেন, তিনি নির্বাচন করবেন না। তাঁর অনুজ নির্বাচন করবেন। তিনি থাকতে পারেন নির্বাচনকালীন মন্ত্রীসভায়।

সূত্র মতে, আগামী ডিসেম্বরই হচ্ছে একাদশ সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের তিন মাস আগে অর্থাৎ আগামী অক্টোবর মাসে গঠিত হবে নির্বাচনকালীন সরকার। নির্বাচনকালীন সরকারের অবয়ব এবং রূপরেখা নিয়ে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী টিম। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনকালীন সরকারের একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো খুব শিগগিরই তুলে ধরবে উন্নয়ন সহযোগী দেশ, জাতিসংঘ এবং বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনকালীন সরকার ২০১৪’র আদলেই হবে। জাতীয় সংসদে বিদ্যমান দলগুলোর মধ্যে থেকে আনুপাতিক হারে সদস্য নিয়ে একটি ছোট মন্ত্রীসভা নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবে।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনকালীন প্রতিটি পরিষদে সিলেটের গুণিজনরা ছিলেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা এবারো সিলেটের বিশিষ্টজনদের এই মন্ত্রীসভায় রাখবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। অর্থমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর মতো মানুষকে এ মন্ত্রীসভায় রাখা হলে সিলেটের মানুষ অনেক খুশি হবেন বলে আমার মনে হয়।’

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকারে সংসদ সদস্যরা থাকতে পারবেন। সিলেটের কারা এই মন্ত্রীসভায় থাকবেন তা জননেত্রী শেখ হাসিনাই সিদ্ধন্ত নেবেন। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’