তামাবিল স্থল বন্দর : কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন ভবনের নেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন

31

জাকির হোসেন, গোয়াইনঘাট
সিলেটের সীমান্ত জনপদ গোয়াইনঘাটের তামাবিল স্থল বন্দর দিয়ে চুনা পাথর, পাথর ও কয়লা আমদানি রফতানি এবং যাত্রী ভ্রমণ কর বাবদ প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় হচ্ছে। এতে করে সমৃদ্ধ হচ্ছে সরকারের রাজস্ব ভান্ডার। রাজস্ব আয়ের দিক থেকে এই স্থল বন্দরের চাকা সচল থাকলেও দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে স্থল বন্দরটির কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন ভবনের কোন উন্নয়ন হয়নি। যার ফলে পূর্ণাঙ্গ বন্দরে রূপান্তরিত হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিক থেকে পূর্ণতা পায়নি তামাবিল স্থল বন্দর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন ভবনে নেই বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের (আমদানি ও রফতানিকারক) প্রয়োজনীয় বসার ব্যবস্থা। এছাড়াও এই চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে ভ্রমণ আগ্রহী যাত্রীদের সেবার দিকটাতেও বিরাজ করছে একই অবস্থা। তাদের জন্য বসার যে যায়গা রয়েছে তাও বেশ সংকুলান। এখানে নেই সু-পেয় পানির ব্যবস্থা, ওয়াশ রুম ও পরিচ্ছন্ন শৌচাগার। ফলে প্রতিনিয়তই ভোগান্তি পোহাচ্ছেন এই চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাতায়তকারী ব্যবসায়ী ও পর্যটকেরা।

জানা যায়, ২০০১ সালে তামাবিল শুল্ক স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ স্থল বন্দর ঘোষণার পর ২০১৫ সালে ৬৯ কোটি টাকা ব্যায়ে বন্দরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। গেল বছর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ স্থল বন্দরটির উদ্বোধন করেন বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুর মুহিত ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান। বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ স্থল বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হলেও কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন পুলিশের কার্যালয়ের ভৌতকাঠামোগত উন্নয়ন রয়েছে উপেক্ষিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিক থেকে এই বন্দর দিয়ে কৃষি পণ্য ও ফলমূলসহ কয়লা ও পাথর আমদানি রফতানি শুরু হয়। তারপর থেকে কৃষি পণ্য ও ফলমূল আমদানি রফতানির হার কমতে থাকলেও ক্রমাগতভাবে বছরের পর বছর বাড়তে থাকে কয়লা ও পাথর আমদানি রফতানির পরিমাণ।

তামাবিল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, গত বছর এই শুল্ক স্টেশন দিয়ে গড়ে যে পরিমাণ কয়লা ও পাথর আমদানি হয়েছে তা থেকে গত ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে যাত্রী ভ্রমণ করসহ সরকারের কোষাগারে জমা হয়েছে ৭৬ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৫৯ কোটি টাকা।

তামাবিল স্থল বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা আলমগীর প্রধান জানান, কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন ভবনের সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রস্তাবনা রয়েছে। যে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, শীঘ্রই সরকারের বরাদ্ধের ভিত্তিতে এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ শুরু করা হবে।