১২ বছর পর দখলমুক্ত হল তারাপাশা স্কুল এন্ড কলেজের খেলার মাঠ

28

রাজনগর প্রতিনিধি
দীর্ঘ ১২ বছর পর মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার তারাপাশা স্কুল এন্ড কলেজের খেলার মাঠ দখলমুক্ত হয়েছে। ১ একর ২ শতক জমির খেলার মাঠে দখল করে রোপন করা হয়েছিল শতাধিক কলা গাছ। টিন ও বাঁশের তৈরি ঘরও নির্মাণ করা হয়েছিল। অবশেষে তারাপাশা স্কুল এন্ড কলেজের (মোকদ্দমা নস্বর ১/ ২০১৮) আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় বিজ্ঞ রাজনগর সহকারী জজ আদালতের পক্ষ থেকে স্কুলকে ওই জমির দখল দেয়া হয়েছে। এতে আনন্দ-উল্লাসে মেতেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কামারচাক ইউনিয়নের তারাপাশা স্কুল এন্ড কলেজের খেলার মাঠের ১ একর ২ শতক জমি ২০০৬ সাল থেকে দখল করে ছিলেন স্থানীয় প্রভাবশালী তৈমুছ আলী। এনিয়ে ২০১১ সালে তৈমুছ আলীর বিরুদ্ধে রাজনগর সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই মামলার রায় বিদ্যালয়ের পক্ষে এলেও তৈমুছ আলী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন। সম্প্রতি তৈমুছ আলীর করা আপিল খারিজ করে দিয়ে আদালত ওই জমি বিদ্যালয়কে জমি বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন। পরে তারাপাশা স্কুল এন্ড কলেজের আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার সকালে বিজ্ঞ রাজনগর সহকারী জজ আদালতের পক্ষ থেকে স্কুল এন্ড কলেজের মাঠ দখলমুক্ত করা হয়। কলা গাছ কেটে ও ঘরটি সড়িয়ে দখল বুঝিয়ে দেয়া হয় তারাপাশা স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষকে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, রাজনগর সহকারী জজ আদালতের পক্ষ থেকে কবির আহমদ, শামসুদ্দিন আহমদ, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পুলিশ, তারাপাশা স্কুল এন্ড ও কলেজের গর্ভনিং বডির সভাপতি ফয়জুুল হক, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রহিম খান, কামারচাক ইউপি চেয়ারম্যান নজমুল হক সেলিম, কামারচাক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বশারত আলী, সাধাারন সম্পাদক মাহবুব খান প্রমুখ।

এ ব্যাপারে তারাপাশা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রহিম খান বলেন, আমরা খেলার মাঠ থাকা সত্ত্বেও দির্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের খেলার সুযোগ দিতে পারিনি। স্থানীয় প্রভাবশালী তৈমুছ আলী মাঠের জায়গা দখল করে রাখায় ২০১১ সালে আমরা মামলা করি। মামলার রায় স্কুলের পক্ষে এলেও তৈমুছ আলী আবার আপিল করায় দখল নিতে পারছিলাম না। অবশেষে আদালতের রায় ও সকলের সহযোগিতায় আমরা মাঠটি দখমুক্ত করতে পেড়েছি।