সরকারের ১২ লাখ টাকা আত্মসাত করলেন ইউপি চেয়ারম্যান নেহাল

135

সবুজ সিলেট ডেস্ক
গোয়াইনঘাটে ৯নং ডৌবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফ ইকবাল নেহালের বিরুদ্ধে ইউনিয়নের অবকাঠামোসহ সার্বিক উন্নয়নের বরাদ্দকৃত সরকারি এলজিএসপির ১২ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে। এ ব্যাপারে সুষ্ঠ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বুধবার জেলা প্রশাসক বরাবরে স্থানীয় সচেতন মহলের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দিয়েছেন মো. মিছবাহ উদ্দিন।

এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পাল জানান, ৯নং ডৌবাড়ি ইউনিয়নে এলজিএসপি ৩য় ধাপের প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদানের বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়েছি। এই টাকা সাধারণত ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের একাউন্টে আসে। তারপর আমরা নির্ধারিত প্রকল্প অনুমোদন করে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ আহবানের পর সেই একাউন্ট থেকে টাকা তোলার কথা। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান বিধি বিধান না মেনেই ১২ লাখ টাকা একাউন্ট থেকে উত্তোলন করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

এ ব্যাপারে ডৌবাড়ি ইউপি সদস্য আবিদ উল­াহ জানান, ইউপি চেয়ারম্যান কয়েকজন ইউপি সদস্যকে নিজের পক্ষে এনে বিধিবহির্ভূতভাবে ১২ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। তিনি ভিজিএফের চাল বিতরণেও অনিয়ম করে যাচ্ছেন।

স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-২০১৮ বৎসরের চলমান এলজিএসপি ৩য় ধাপের বরাদ্দকৃত ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা থেকে ১২ লক্ষ টাকা ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ ইকবাল নেহাল ভুয়া প্রকল্প ও হতদরিদ্রদের তালিকা করে আত্মসাৎ করেছেন। এ ব্যাপারে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

সূত্র জানায়, এলজিএসপি ৩য় ধাপের প্রকল্পের সিংহভাগ টাকাই চেয়ারম্যান নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে এলাকাবাসীর স্মারকলিপি প্রদানের পর তা পুনরায় ফেরত দিতে তোড়জোড় শুরু হয়েছে জড়িতদের পক্ষ হতে।

অভিযোগকারী মিছবাহ উদ্দিন জানান, পিছিয়ে পড়া একটি ইউনিয়নে সরকারের তরফে বরাদ্দকৃত উন্নয়নের টাকা ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ ইকবাল নেহাল ও কতিপয় সদস্য কর্তৃক আত্মসাতের ঘটনা প্রতীয়মান হওয়ায় জনস্বার্থে আমি তার প্রতিবাদে স্মারকলিপি দিয়েছি। শুধু তাই নয় ইউনিয়ন পরিষদ দিনের পর দিন বন্ধ রেখে নাগরিক দুর্ভোগ, ১% সহ উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন হরিলুটে চেয়ারম্যানের দুর্নীতির সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের। সরেজমিনে তদন্ত হলে সকল ঘটনাই বেরিয়ে আসবে।

এদিকে বক্তব্যের জন্য অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ ইকবাল নেহালকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
ইউপি সদস্য জলি দাস জানান, একদিন আগে জানতে পেরেছি ইউপি সদস্য কর্তৃক এলজিএসপি’র প্রকল্পের টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মিসবাহ উদ্দিন ঘটনাটি স্থানীয় সংসদ সদস্য, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, বিভাগীয় দুর্নীতি দমন কমিশন কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক, জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন কর্মকর্তা সিলেট, পুলিশ সুপার, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও অবগত করেছেন।