দিলু-গফুরকে অবৈধ ঘোষণা করলো আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তর

102

৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার
অবশেষে জেলা ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের মেয়াদ উত্তীর্ণ কার্যকরি কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করলো সিলেট আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তর। তারা ঐ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শ্রম অধিদপ্তরের আইন এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার সময় বেধে দিয়েছেন। অন্যতায় আইন অনুযায়ী অবৈধ কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে এ নির্দেশ দিয়েছেন উপ পরিচালক কাজি শহীদুল ইসলাম। কিন্তু শ্রমিক নেতারা প্রায় ১ সপ্তাহ চিঠিটি গোপন রেখেছেন। শ্রম অধিদপ্তরের এই চিঠিটি পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দিলু মিয়া, সালাম মিয়া ও গফুর মিয়া। তারা কুটকৌশলের আশ্রয় নিতে বিভিন্নজনের দোয়ারে ধরনা দিচ্ছেন। ব্যয় করছেন সংগঠনের অনেক টাকা।

জানা যায়, দীর্ঘ সাত মাস ধরে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধ ভাবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক’সহ কার্যকরি কমিটির নেতৃবৃন্দ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ৮০ ভাগ শ্রমিক অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। কিন্তু অবৈধ কমিটির লোকজন আন্দোলনকারীদেরকে বহিষ্কার, আঞ্চলিক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত ও মামলা দিয়ে নানা ভাবে হয়রানী করা শুরু করেন। এমনকি শ্রমিক ইউনিয়নের অফিসে সাধারণ সম্পাদক গফুর মিয়া দেশীয় অস্ত্র এনে রাখেন, শ্রমিকদেরকে মারার জন্য। তাতে সাধারণ শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেও কোন ফলাফল পাননি। এক পর্যায়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক পেডারেশেনের স্মরনাপন্ন হলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী সমস্যা সমাধান ও নির্বাচনের প্রস্তুতি ব্যাপারে ৫ জনের একটি কমিটি করে দেন।

তাতে কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি আব্দুর রহিম দুদু বক্স’কে করা হয় আহবায়ক। পাঁচ সদস্যের আহবায়ক কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, লোকমান মিয়া, মনিরুল ইসলাম মনির, মনতাজ মিয়া ও জ-িএর মিয়া। কিন্তু সেই কমিটির বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ প্রত্যাখান করেন ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির নেতৃবৃন্দ। এক পর্যায়ে তারা দাপট দেখিয়ে ক্ষমতায় থাকার কৌশল করেন। ফলে সমাধান ছাড়াই বন্ধ থাকে কমিটির কার্যক্রম। তখন সাধারণ শ্রমিকরা ঐকবদ্ধ হয়ে গঠনতন্ত্র মোতাবেক একটি এডহক কমিটি গঠন করেন। তাতে সকলের অনুরোধে আহবায়ক করা হয় সংগঠনের প্রতিষ্টাতা মাখন মিয়া’কে। পরে সাধারণ শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবী দাওয়া ও অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে সহযোগীতা চাইলে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে সকল প্রকার সহযোগীতা করা হয়।

-এরই অংশ হিসেবে ঘটনার সত্যতা যাচাই বাচাই করে সিলেট আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মেয়াদ উর্ত্তীণ কমিটিকে অবৈধ কমিটি আখ্যায়িত করে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার জন্য সংগঠনের মেয়াদ উর্ত্তীণ কমিটির সভাপতি দিলু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুরকে নির্দেশ দেন। তার লিখিত নিদের্শ নামায় উল্লেখ করেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্বাচন না দেওয়ায় বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এবং গঠন্তন্ত্রের ২৪ নং অনুচ্ছেদের বিধান লঙ্ঘন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচন দেওয়ার জন্য অবশেষে শ্রম অধিপ্তরেরর নির্দেশ চলে আসায় একটি মাইনাসের নির্বাচন করতে চাইছে জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির নেতৃবৃন্দ। তারা আবু সরকার’সহ সকল বহিষ্কৃত নেতৃবৃন্দকে নিয়ে শুরু করেছে নানা ষড়যন্ত্র।

শ্রম অধিদপ্তরের কাগজ পেয়েছেন বলে জানান ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গফুর মিয়া। তিনি আরো জানান, আ-এরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।