ওসমানীনগরের ক্যান্সার আক্রান্ত রিমার প্রথম স্থান অর্জন

34

ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটের চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা

বালাগঞ্জ প্রতিনিধি
বিশ্ব শিশু ক্যান্সার সচেতনতার মাস উপলক্ষে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের উদ্যোগে শিশু রোগিদের মধ্যে চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগীতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে ওসমানীনগরের ক্যান্সার আক্রান্ত রিমা। শতাধিক অংশ গ্রহকারী প্রতিযোগীদের মধ্যে সে এ সাফল্য অর্জন করেছে। এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনিষ্টিটিউট ও হাসপাতালের সেমিনার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের পরিচালক ড. মো. মেয়াররফ হোসেন। রিমার লিখিত রচনার অংশ বিশেষ পাঠ শুনে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন রাজধানীর বিশিষ্টি চিকিৎসকগণ ও উপস্থিতরা।

তবে অনুষ্ঠান শেষে পুরস্কার গ্রহনকালে রিমা কেমোথেরাপীর কারণে উপস্থিত না থাকায় মেয়ের পক্ষে তার বাবা পুরস্কার গ্রহন করেন। এদিকে রিমাকে দেখতে গতকাল হাসপাতালে যান বাংলাদেশ জাতীয় সুন্নি উলামা মাশায়ে পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্টাতা সভাপতি হাকীম মাওলানা আনছার আহমদ, সাবেক, সাবেক মেম্বার মাসুক মিয়া প্রমুখ।

হাসপাতাল থেকে এসব তথ্য জানিয়ে সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ বলেন, রিমার এ পুরস্কার প্রাপ্তি আমাদের ওসমানীনগরকে উজ্জ্বল করেছে। তার রোগ তাকে ধাবিয়ে রাখতে পারেনি।

প্রসঙ্গত, ওসমানীনগরের মোহাম্মদিয়া মাদ্রাসার ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী উসমানপুর গ্রামের দিনমজুর দুদু মিয়ার মাতৃহারা মেয়ে রিমা টাকার অভাবে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত থেকে মৃত্যুর প্রহর গুনছিল। তাকে নিয়ে ৪ সেপ্টেম্বর উক্ত প্রতিবেদক দৈনিক সবুজ সিলেট পত্রিকায় ‘ক্যান্সার আক্রান্ত মাদ্রাসা ছাত্রী রিমা বাঁচতে চায়’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ পেলে বিষয়টি নজরে আসে বালাগঞ্জের দেওয়ানবাজার ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর (শংকরপুর) গ্রামের সমাজসেবী প্রয়াত সোয়াব আলীর মেয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মানবাধিকার আইনজীবি আকলিমা বিবির। তিনি এই প্রতিবেদকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে অসুস্থ রিমার খোঁজ খবর নেন। তিনি রিমার পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সেবার জন্য বিষটি নিয়ে প্রধানন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। এর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী রিমার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। বর্তমানে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের রিমার চিকিৎসা চলছে।