টাঙ্গাইলের স্কুল ছাত্রীকে বিশ্বনাথে খুন : ঘাতক শফিকসহ গ্রেফতার ৪

63

বিশ্বনাথ অফিস
অবশেষে পুলিশের তৎপরাতায় সিলেটের বিশ্বনাথে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত কিশোরীর লাশের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাকে প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে টাঙ্গাইল থেকে সিলেটের বিশ্বনাথে নিয়ে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে।

খুন হওয়া ওই কিশোরী টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার নগরভাত আউটপাড়া গ্রামের আতাউর রহমানের মেয়ে রুমি আক্তার (১৫)। সে স্থানীয় মৈশামুড়া বসন্ত কুমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী। ওই ছাত্রীকে ঘাতক শফিক মিয়া টাঙ্গাইল কুমুদিনি হাসপাতাল থেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটের বিশ্বনাথে নিয়ে ধর্ষণের পর খুন করে।

এঘটনায় পুলিশ মোবাইলের সুত্র ধরে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধর্ষকসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো-ধর্ষক বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত ওয়াব উল্লাহ’র পুত্র শফিক মিয়া (৩২), তার স্ত্রী সোনালী আক্তার হেপী (২৩) তার দুই ভাবী দিপা বেগম (৩২) ও লাভলী বেগম (২৫)। শফিক মিয়াকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরস্থ নাসির গ্লাস ফেক্টরি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

তাদের গ্রেফতারের পর স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে গতকাল বুধবার বিকেলে থানা কম্পাউন্টে প্রেস ব্রিফিং করেছে থানা পুলিশ। এসময় থানার ওসি শামছুদ্দোহা পিপিএম বলেন, ঘাতক শফিক মিয়া টাঙ্গাইলের মির্জপুরস্থ নাসির গ্লাস ফেক্টরিতে চাকুরি করতো। এক সময় তার শাশুড়ী অসুস্থ হয়ে পড়লে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। একই ওয়ার্ডে অসুস্থ রুমি আক্তার’কে নিয়েও ভর্তি করেন পরিবারের লোকজন। এতে স্কুলছাত্রী রুমির সাথে পরিচয় হয় ঘাতক শফিক মিয়ার।

গত ৯ সেপ্টম্বর রুমি আক্তার’কে প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটের বিশ্বনাথের রামচন্দ্রপুর নিজ গ্রামে নিয়ে যায় শফিক। সেখানে ধর্ষণের পর একটি খালের পানিতে ছুবিয়ে খুন করে তার লাশ পার্শ্ববর্তী পাঠাকইন গ্রামের তবারক আলীর বাড়ির সামনের রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। খুন করার পরই টাঙ্গাইলে পালিয়ে যায় ঘাতক শফিক মিয়া।

পরে লাশটি অজ্ঞাত কিশোরীর হিসেবে উদ্ধার করে থানা পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর থেকে ঘাতক শফিকের স্ত্রী অতিআগ্রহ হয়ে আসামিদের ধরতে বার বার পুলিশকে ফোন দেয়। এতে পুলিশের সন্দেহ হলে প্রথমে তার স্ত্রী সোনালী আক্তার হেপী’কে গ্রেফতার করা হয়। এতে বেরিয়ে আসে ঘাতক শফিকের নাম।

ঘটনার প্রায় আটদিন পর ওই লাশের পরিচয় এবং ঘাতকদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আর রুমি’কে হত্যার দৃশ্য দেখে পুলিশকে অবগত না করায় তার দুই ভাবীকে গ্রেফতারকরা হয়। ঘাতক শফিক মিয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরীকে ধর্ষণের পর একাই হত্যার করেছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

এদিকে খুন হওয়া রুমি’র বড় ভাই শফিকুল ইসলাম জানান, ৪ সেপ্টেম্বর তার বোন অসুস্থ হলে ওই হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখান থেকে তার বোনকে প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটের বিশ্বনাথে নিয়ে খুন করা হয়েছে। তিনি তার পরিবারের পক্ষ থেকে এর বিচার দাবি করেছেন।