নিরাপদ শহরে এক টুকরো বাংলাদেশ

40

ছবি : ইদ্রিছ আলী

হাসান মো.শামীম, আবুধাবি থেকে
আপনি কি জানেন পৃথিবীর অন্যতম সেরা নিরাপদ শহর কোনটি। জানলে অবাক হবেন এই শহরটি আমাদের এশিয়া মহাদেশেই অবস্থিত। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আবুধাবি বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ শহর হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে । সম্প্রতি এক জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ শহর হিসেবে উঠে এসেছে আবুধাবির নাম । সেই নিরাপদ শহরে যখন কাল বাংলাদেশ আফগানিস্থান মুখোমুখি হল তখন স্টেডিয়াম এলাকা লোকে লোকারন্য। নয় লক্ষ একুশ হাজার জনসংখ্যার এই শহর যেন হয়ে ঊঠেছিল বাংলাদেশী দের আস্তানা। ম্যাচ শুরু হবে দুপুর সাড়ে তিনটায়। অথচ দুপুর দুইটা থেকেই দেখা যাচ্ছিল মানুষের স্রোত। এদের বেশিরভাগ মানুষের ম্যাচের দিন কাজ ছিল। কিন্তু তারা শুধু বাংলাদেশের খেলা দেখার জন্য ছুটি নিয়েছেন। নানা বর্নে নানা রংগে নিজেদের সাজিয়ে এসেছেন স্টেডিয়াম পাড়ায়। মুখ ভর্তি হাসি। আর প্রান খোলা উল্লাস। বহুদিন পরে যেন তারা ফিরছিলেন বাংলা মায়ের কোলে। তাদের কারনে পৃথিবীর অন্যতম নিরাপদ শহর কিছু সময়ের জন্য বয়ে উঠেছিল এক টুকরো বাংলাদেশ।
অথচ এই আরব আমিরাত পাকিস্থানের হোম ভেন্যু। কিন্তু পাকিস্থানের ম্যাচে গ্যালারি খা খা করে। বিপরীতে বাংলাদেশ ম্যাচে থাকেনা তিল ধারনের জায়গা। প্রতিপক্ষ যেই হোক আফগানিস্থান কিংবা শ্রীলংকা,বাংলাদেশীদের অকুন্ঠ সমর্থন আছে নিরন্তর। আবুধাবিতেও তার ব্যতিক্রম হলোনা। ম্যাচের পুরো সময় বাংলাদেশ বাংলাদেশ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হল শেখ যায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়াম। বিপরীতে সংখ্যায় অল্প হলেও আফগানরাও ক্রিকেট পাগল। দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে দলকে চিৎকার করে সাপোর্ট দেওয়ার প্রবনতা লক্ষ করা গেল। যাতে বলা বাহুল্য বাংলাদেশেরই জয় হয়েছে তাতে সব সময়। মাশরাফি সাকিব যেন খেলছিলেন ঘরের মাঠেই।

আবুধাবি শহরটির অপরাধের নিম্নমাত্রা কম হওয়াতে একে বলা হয় বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ শহর।। তবে শুধু নিরাপত্তা নয় বসবাস, কাজ এবং ব্যবসার জন্য বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা শহর হিসেবে উঠে এসেছে আবুধাবির নাম। যার অন্যতম চালিকা শক্তি বাংলাদেশী শ্রমিক ব্যবসায়ীগণ। সুনামের সাথে দীর্ঘদিন ধরে তারা বসবাস করে আসছেন এই শহরে। সে কারনে বাংলাদেশীরা এখানে খুব জনপ্রিয়। সততার কারনে তাদের খুব পছন্দ করেন এখানকার স্থানীয়রা। কথা হয় এরকম একজন প্রবাসী শ্রমিক নাজিমের সাথে। তিনি প্রাইভেট গাড়ি চালান একজন শেখের। খেলা দেখতে এসেছিলেন প্রায় দুই ঘন্টা ড্রাইভ করে। মালিককে দেশের খেলা বলতেই তাকে সহাস্যে ছুটি দিয়ে দেন। বলে দেন মাঠে যখন যাচ্ছো তখন দলের জয় নিয়েই এসো। এমনই ভাল ভাবমুর্তি আছে এখানে বসবাস করা বাংলাদেশী শ্রমিক ব্যবসায়ীদের। তারা এই ভাল ইমেজ নিয়েই এখান বসবাসা করতে চান সব সময়।

এ ব্যাপারে আলাপ করেন এসিসির একজন কর্মকর্তা। তিনি বলেন ‘নিরাপত্তা এবং ভার্চুয়াল অপরাধমুক্ত শহর হিসেবে আবুধাবির নিরেট সুনাম সব সময় রয়েছে। আবুধাবির যেখানেই আপনি যান না কেনো, নিরাপদ বোধ করবেন। যে কারণে এই শহর ভ্রমণকারীদের মনে প্রশান্তি আনবে।’

অপরদিকে আবুধাবি সরকারও তাদের শহরকে নিরাপদ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বসবাসের স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সে প্রচেষ্ঠার ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপেই। আর তাই পর্যটক হতে শুরু করে বিশ্বের যে কোনো ব্যক্তিই আবুধাবিতে ভ্রমণে স্বাচ্ছন্দ বোধ করবেন। নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নেবেন এই আবুধাবিকেই। আর এই শহরে যখন টাইগাররা খেলে তখন নিরাপত্তার চাদর সরিয়ে তা যেন হয়ে উঠে এক টুকরো বাংলাদেশ।