শুভ জন্মদিন,আপনার বয়স কত?

78

হাসান মো. শামীম, আবুধাবি থেকে
দিনটা ছিল রশিদ খানের। উইকেট প্রাপ্তি কিংবা ব্যাটিং এর জন্য নয়। দিনটি ছিল তার জন্মদিন। আসলেই তার বয়স কত তা নিয়ে আছে ধুম্রজাল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে আছে ব্যাপক হাস্যরস । আছে তার জন্মদিন বয়স নিয়ে নানা ধরনের ট্রল। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত টি হল রশিদ খান জন্মগ্রহন করেছেন ৬ বছর বয়সে। সে কারনে ২৬ বৎসর অতিক্রান্ত করলেও তার বয়স ২০!
তবে পক্ষে বিপক্ষে যত মতই থাকুক,রশিদ আছেন নিজের মতই। অদ্ভুদ রহস্যময় বোলিং দিয়ে নিয়তই নিজেকে প্রমাণ করছেন অন্য উচ্চতায়। সেই প্রবাদবাক্যের মত তার ছটে চলা “জন্ম হোক যথাতথা কর্ম হোক ভাল।”

বরাবরের মত বিধঃস্বী পারফরমেন্স দিয়ে বাংলাদেশকে গুড়িয়ে দিয়েছেন একা হাতে। খোদ মাশরাফি আফগানিস্তানের সাথে ম্যাচ হেরে বলেছেন বাংলাদেশের ম্যাচ হারার কারন ৪০ ওভার পরে ম্যাচের লাগাম ছুটে যাওয়া। এরপর আর ট্র‍্যাকে উঠতে পারেনি টাইগাররা। দীর্ঘদিন পরে তামিমবিহীন ওপেনিং জুটি ব্যার্থ হয়েছে। সামাল দিতে পারেনি মিডল অর্ডারের ব্যাটসমানরাও। প্রেস কনফারেন্সে ক্যাপ্টেনকে যখন জিজ্ঞেস করা হল তারকা বিহীন এই বিকল্প দল তার আশা পুরন করতে পেরেছে কিনা,মাশরাফি স্বভাবসুলভ ভংগীমায় আগলে ধরলেন তার জুনিয়ারদের। বললেন এখানে কেউ বিকল্প খেলোয়াড় নন, এশিয়া কাপের ১৫ সদস্যের দল থেকেই তারা এসেছেন। এরাই বাংলাদেশের সেরা খেলোয়াড় এই মুহুর্তে।

ভ্রমন ক্লান্তি নিয়ে বাংলাদেশের অভিযোগ অনুযোগ থাকলেও রশিদ খানের এ ব্যাপারে মত একদম উলটো। ১৬ ঘন্টার ব্যবধানে দুটি ভেন্যুতে ম্যাচ খেলার ব্যাপারে তার মতামত হচ্ছে “আমরা পেশাদার খেলোয়াড়। আমাদের সেই ফিটনেস আছে দ্রুত একজায়গা থেকে আরেক জায়গাতে যাওয়ার। এতে অভিযোগের কিছু নেই। শিডিউল হলে খেলতেই হবে।”

নিজের জন্মদিনে যেন কথার খই ফুটছিল তার মুখে। তার বোলিং নিয়ে অনেক কাটাছেড়া হয়। স্লো মোশনে নানা ভিডিও ফুটেজ করে বিশ্লেষন করা হয়। এতে নাকি তার মজাই লাগে। তিনি কখনো এসব আমলে নেননা। তার যুক্তি হচ্ছে ব্যাটসম্যানদের চোখে তো আর ক্যামেরা লাগানো নেই! এর উপর তার দ্রুত গতির একশান বোঝাও ব্যাটসম্যানদের জন্য টাফ। সে কারনেই এত উইকেট পাচ্ছেন বলে মনে করেন তিনি। জন্মদিনের আগের দিন বলেছিলেন বাংলাদেশ নয় আফগানিস্তান ভাবছে এশিয়া কাপ নিয়ে। তার কথায় অনেকে অহমিকা খুজে পেলেও বাস্তবে তা করে দেখিয়েছেন রশিদ। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকা আর ফেভারিট বাংলাদেশের গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে তার আফিগানিস্তান। ২০১০ টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপে যাদের সুযোগ পাওয়াতেই ভুরু কুচকে উঠেছিল অনেকের আজ মাত্র আট বছরের ব্যবধানে তারাই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠেছে এশিয়া কাপের সুপার ফোরে। যা সত্যিই প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। অভিনন্দন আফগানিস্তান। শুভ জন্মদিন রশিদ খান।