পদ ফিরে পাওয়ার জন্য মরিয়া আবু সরকার

186

সবুজ সিলেট ডেস্ক
সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীর গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরকারী সিলেট জেলা ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের বহিস্কৃত সভাপতি আবু সরকার আবারো নিজের পদ ফিরে পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেছেন। তিনি জোরপূর্বক শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে অবস্থান নেয়ার পায়তারা করছেন।

বর্তমান দায়িত্বশীল নেতাদের নানাভাবে হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আবারো চাচ্ছেন নিজের হারানো পদ ফিরে পেতে। আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুর রহমান চৌধুরীর গাড়িতে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি প্রায় দুই মাস কারাগারে ছিলেন। পরে জামিনে বের হন। জামিনে বের হওয়ার পর এখন তিনি আবারও নিজের অনুসারী শ্রমিক নেতাদের নিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নে কর্তৃত্ব স্থাপন করতে চাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবু সরকারের এমন কর্মকান্ডে সিলেটে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুর রহমান চৌধুরীর অনুসারী বেশ কয়েকজন নেতা এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, এমসি কলেজ হোস্টেলে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরকারী, নিবেদিতপ্রাণ আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুর রহমান চৌধুরীর গাড়ি ভাঙচুরকারী এই সন্ত্রাসীকে যদি আবারও শ্রমিক ইউনিয়নের দায়িত্বে বহাল করা হয় তবে আওয়ামী পরিবার নিরবে তা সহ্য করবে না। সিলেট আওয়ামী পরিবার এমন ঘটনা প্রতিহত করবে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ , ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগ নেতৃবৃন্দ প্রয়োজনে আবারও এই সন্ত্রাসীকে প্রতিরোধ করতে রাজপথে নামবেন। যেকোনভাবে এই সন্ত্রাসীকে পদে পুনর্বহাল প্রতিহত করা হবে।

সূত্রে জানাগেছে, নিজের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আবু সরকার বর্তমান কার্যকরী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ২য় শ্রম আদালত চট্টগ্রামে মামলা (নং৪১/১৭) দায়ের করেন। অন্যদিকে সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি মো. দিলু মিয়া উল্টো আবু সরকারের বিরুদ্ধে এবং তার বহিস্কারাদেশ বহালের দাবিতে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন করেন। যার প্রেক্ষিতে আদালত ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। এজন্য এখনও আবু সরকারের বহিস্কারাদেশ বহাল রয়েছে।

এর আগে গত ২০১৭ সালের গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর বেলা আড়াইটার দিকে নগরের সোবহানীঘাটে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীর গাড়িতে (ঢাকা মেট্রো- ঘ-১৩-৪৪৯৯) পরিবহন শ্রমিকরা হামলা চালায়। আগের দিন গত শুক্রবার রাতে মাদকসহ দুই শ্রমিককে আটকের পর রাধিকা রঞ্জন ওরফে আবু সরকারের নেতৃত্বেই মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয়ে হামলা ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে।

পরদিন রাতে পুলিশ বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি ও শাহপরাণ থানায় দায়ের করে। ওই মামলায়ও আবু সরকারকে আসামি করা হয়। তবে আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুর রহমান চৌধুরীর পক্ষে দায়ের করা মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করা হলেও ওই ঘটনায় আবু সরকার জড়িত বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরীর গাড়ি ভাঙচুরের পর সিলেট নগরের মেন্দিবাগ মোড় ও টিলাগড়সহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় ভাঙচুর করেন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ওই সময় টিলাগড়ে আবু সরকারের বাড়িতেও হামলা ভাঙচুর হয়।

পরে ১০ এপ্রিল আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুর রহমান চৌধুরীর গাড়ি ভাঙচুরের মামলায় জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আবু সরকারসহ আটজনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওইদিন দুপুরে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে আবু সরকারসহ আসামিরা আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে আবু সরকার জামিনে বের হয়ে আসেন।

এদিকে গাড়ি ভাংচুর ও হামলার ঘটনায় সিলেট জেলা ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের জরুরি সভায় সাবেক সভাপতি আবু সরকার সহ ৮ জনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। চলতি বছরের ১৮ আগস্ট দুপুরে বাইপাস মহাসড়ক, সাউথ সুরমা সিএনজি পাম্প সংলগ্ন প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় তাদের বহিস্কার করেন সংগঠনটির দায়িত্বশীলরা। সভায় সংগঠনের সভাপতি দিলু মিয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুরের পরিচালনায় কার্যকরী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও ১৭টি উপ-কমিটির সকল নেতৃবৃন্দ, সদস্য এবং সাবেক নেতৃবৃন্দ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ওই সভাটিতে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় সাবেক সংসদ সদস্য ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ব্যবহৃত সরকারি গাড়ি ভাঙচুর, সংগঠনের সংবিধান পরিপন্থি, অনৈতিক কর্মকান্ড ও অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় সংগঠনের সাবেক সভাপতি আবু সরকার সহ ৮ জনকে সংগঠনের পক্ষ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে তাদের অপকর্মের নিন্দা জানানো হয়। সেই সঙ্গে এই কুচক্রীমহলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনের নাম ব্যবহার করে এই কুচক্রী মহল কোনো অপকর্ম সৃষ্টি করলে বা সংগঠন পরিপন্থি কোনো কাজ করলে সংগঠন এর দায়ভার গ্রহণ করবে না বলে জরুরি সভা থেকে জানানো হয়।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সিলেট ল’কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক রশিদুল ইসলাম রাশেদ বলেছেন, সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী হচ্ছেন সিলেট আওয়ামী পরিবারের সকল সংগঠনের অভিভাবক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। তিনি নিচের সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও অভিভাবক। তাই নিবেদিতপ্রাণ এই আওয়ামী লীগ নেতার গাড়িতে হামলাকারী সন্ত্রাসী আবু সরকারকে যদি আবারও তার দায়িত্বে বহাল করা হয় তবে সেটি আমরা মেনে নিতে পারিনা। আমরা এটি প্রতিরোধ করবো।