মরুর শহরে ভালো নেই তারা

89

হাসান মো.শামীম, আরব আমিরাত থেকে
দেশে থাকতে ইত্তিহাদ এয়ারলাইন্সে চাকুরী করতেন জাহিদ ইকবাল রাজু। চার বছর আগে পোস্ট গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি নিয়ে চলে আসেন দুবাই। এখানে এসে বিপাকে পরেন তিনি। যে কাজে এসেছিলেন তা পছন্দ হচ্ছিলোনা। চাইছিলেন কাজটা বদলাতে। কিন্তু স্থানীয় বাংলাদেশীরা তাকে বলেন কোনভাবেই ভিসা বদল করা সম্ভব নয়। যে কাজের ভিসা নিয়ে এসেছেন সে কাজেই থাকতে হবে। কিন্তু রাজুর দমার পাত্র নন। তিনি মেইল করেন আরব আমিরাত হিউম্যান রাইটস এর কাছে৷ তারা তার সিভি দেখে উৎসাহিত করেন কাজ বদলের জন্য। বলেন রাজু মত যোগ্য ব্যক্তি চাইলে এখানে তার পছন্দসই যেকোন কাজ করতে পারেন। এরপর তিনি ওই কাজ ছেড়ে একটি বিদেশী সংস্থায় কাজ নেন। বর্তমানে স্ত্রী সন্তান নিয়ে আরব আমিরাতের শারজা শহরে বেশ ভালই আছেন তিনি। তবে রাজু একটি ব্যতিক্রমী উদাহরন মাত্র। নানা ভ্রান্ত ধারনা এবং অজ্ঞতায় এ দেশে বসবাসকারী প্রবাসীরা আছেন নিদারুন কষ্টে। মরুর শহরে সময় ভাল কাটছে না তাদের।

ভাল না থাকার অন্যতম কারন উচ্চবিলাস অজ্ঞতা ও অশিক্ষা। আমাদের প্বার্শবর্তী দেশ ভারত যখন আরব আমিরাতে হাই লেভেলের চাকুরীতে মানুষ দিচ্ছে,বাংলাদেশ সেখানে আটকে আছে শ্রমিক পর্যায়েই। সে কারনে ঠিক মত না জেনে এখানে আসা অনেক মানুষ প্রতিনিয়ত পোহাচ্ছেন নিদারুন ভোগান্তি। ভিসা নিয়ে বাংলাদেশীদের মধ্যে আছে নানা ধরনের গুজব। এর অন্যতম হচ্ছে কাজের ভিসার ধরন বদল করা যায়না। অথচ আদতে এরকম কোন নিয়ম নেই। চাইলেই আপনি ভিসার ধরন বদলাতে পারেন। তবে এজন্য আপনার থাকতে হবে উপযুক্ত শিক্ষা। ভাল সাবজেক্টে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রিধারীরা এখানে আলাদা সম্মান পান। অপর দিকে ভিসার মেয়াদ খুইয়ে বসে থাকা অনেক বাংলাদেশী উলটো ঝামেলা করেন আরব আমিরাত সরকারের সাথে। শারজা শহরে আছে বাংলা টাউন নামের একটি জায়গা৷ সেখানে বসবাসকারী বেশির ভাগ মানুষ বাংলাদেশের সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের। এখানে বাস করা আশিভাগ মানুষের দুবাইয়ে থাকার কোন অনুমতি নেই। কিন্তু তবুও তারা আছেন। পুলিশের হাত থেকে বাচার জন্য তারা একসাথে চলা ফেরা করেন। কাছে পিঠে কাজে গেলে একসাথেই যান। পুলিশ আতংকে তারা হয়ে উঠেছেন আগ্রাসী। তাদের ভয়ে ওই এলাকায় প্রবেশ করেন না স্থানীয় অধিবাসীরা। কিছুদিন আগে লোকাল ব্যবসায়ীদের সাথে হকিস্টিক নিয়েও নাকি মারামারি করেছেন তারা।

এসবের মুলে আদতে দেশ থেকে বিশাল স্বপ্ন নিয়ে এখানে এসে তা না পাওয়া। প্রতিনিয়ত না পাওয়ার বেদনা তাদের করে তুলেছে অপরাধপ্রবন। তাছাড়া এখন একদম শ্রমিক পর্যায়ের মানুষজন ভুগছেন কাজের অভাবে। ইমারত শ্রমিক জলিল জানান এমাসে মাত্র তিন দিন কাজের ডাক পেয়েছেন তিনি। বাকি দিন বসে থাকতে হয়েছে বেকার হয়েই। অথচ এখানে তার নিজের খরচই আছে ৭০০ থেকে ৮০০ দিরহাম। এর পরে কিছু থাকলে টাকা পাঠাতে হবে দেশে। তাদের মতে দুবাইয়ে আগের সেই জৌলুশ নেই বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য। অত্যাধুনিক মেশিন এখন অপ্রয়োজনীয় করে দিচ্ছে তাদের।

কোম্পানীগুলো শিক্ষিত স্কিলড কর্মী ছাড়া এখন কাউকে কাজে নিতে চায়না। যেখানে যোজন যোজন দুরত্বে পিছিয়ে আছেন বাংলাদেশীরা। মুলত এখানকার স্থানীয় মানুষের বাসা বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন বাংলাদেশী শ্রমিকরা। এই উপার্জন দিয়ে চলছে নিজেদের ঠিকে থাকার লড়াই। তবে ড্রাইভিং পেশায় যেসব বাংলাদেশী কাজ করছেন তাদের অবস্থা কিছুটা ভাল। শ্রমিক পর্যায়ে তারাই আয় করছেন সবচেয়ে বেশি। তবে সব মিলিয়ে বলা চলে আরব আমিরাতে বর্তমানে দুর্দিন চলছে বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য। মরুর শহরে আসলে ভাল নেই তারা।