কমলগঞ্জে প্রবাসীর বসতঘর আগুনে পুড়ে ছাই

14

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ছনগাঁও গ্রামে এক প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ১২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করলেও এলাকাবাসী ঘটনাটিতে রহস্যজনক বলে মনে করছেন। শনিবার রাত ১টায় আগুনে প্রয়াত তোতা মিয়ার ছেলে সৌদি প্রবাসী আব্দুস শহীদের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী শহীদের চাচাতো ভাই রমিজ মিয়া বলেন, প্রতিপক্ষের দেয়া আগুনে মরহুম তোতা মিয়ার বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মধ্যরাতে আগুনের লেলিহান শিখা এত প্রখর ছিল যে স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এতে অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র, আসবাবপত্র, অলঙ্কার, কাপড়চোপড়, দলিল দস্তাবেজ, গবাদি পশু, নগদ টাকাসহ পুড়ে প্রায় ১২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় কমলগঞ্জ মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।

স্থানীয়ভাবে জানা যায়, মরহুম তোতা মিয়ার ছেলে সৌদি প্রবাসী আব্দুর শহিদের সাথে স্থানীয় একই এলাকার ইন্তাজ মিয়ার ছেলে মতলিব মিয়া (৪৫), তার ভাই মিলন মিয়া (৫৫), তোরন মিয়া (৫০), মস্তই মিয়া (৪২) ও ভানুবিল গ্রামের তরিক মিয়ার ছেলে শফিক মিয়ার (৫০) জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘদিন থেকে মামলা ও বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধেই প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়েছে।

তবে মতলিব মিয়া প্রতিপক্ষের সাথে জমি নিয়ে দীর্ঘ বিরোধের ও মামলার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মামলায় সুবিধা নিতেই নিজেরা আগে থেকেই মাটির দেয়ালে একটি বসত ঘরের সমূহ মালামাল সরিয়ে নিজেরাই আগুন লাগিয়েছে। তিনি আরও বলেন, গ্রামবাসীর কাছেও আগুনটি রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে।

আদমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন ছনগাঁওয়ে একটি বসতঘরে আগুন লাগার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তবে তিনি বলেন, আসলেই এ আগুন রহস্যজনক। সরেজমিনে পুলিশি তদন্ত হলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলেও তিনি মনে করেন।

কমলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাস বলেন, মৌখিকভাবে অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।