ধানের শীষে আস্থা নেই দুই প্রার্থীর

98

গোলাপগঞ্জ পৌরসভার উপ-নির্বাচন

নুরুল হক শিপু
ঘনিয়ে আসছে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে উপ-নির্বাচন। দিন যতো এগুচ্ছে আলোচনা ততোই বাড়ছে। বিশেষ করে পৌরবাসীর কাছে আলোচিত নাম এখন বিএনপি। নানা নাটকীয়তার পর বিএনপি এ উপ-নির্বাচনে প্রার্থী দিতে সক্ষম হলেও বাছাইয়ে ছিটকে পড়েন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রাজু আহমদ চৌধুরী। এর আগে দলের পদধারী দুই নেতা দলীয় মনোনয়নই ফিরিয়ে দেন। তাঁরা নির্বাচন করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। তাদের স্বতন্ত্র ভূমিকা নিয়ে পৌরবাসীর প্রশ্ন ‘ধানের শীষে আস্থা নেই ওই দুই নেতার।’ বিএনপির দলীয় পদ থাকা সত্ত্বে স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ওই দুই নেতা হলেন, গোলাপগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন (মোবাইল) ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির নেতা স্বতন্ত্রপ্রার্থী মহিউস সুন্নাহ চৌধুরী নার্জিস (নারিকেল গাছ)। তাঁরা দলীয় প্রার্থী না হওয়ায় এবং রাজুর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় বিএনপি এ নির্বাচনে প্রার্থীহীন থেকে গেল। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির এ দুই নেতার বিরুদ্ধেও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে মেয়র পদে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রাজু আহমদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার খোরশেদ আলম। এরপর প্রার্থীহীন থেকে যায় বিএনপি।

বিগত পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া শাহিন। কিন্তু এবার উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই দলের মনোনয়ন নিতে অপারগতার কথা জানান তিনি। এরপর গত ৫ সেপ্টেম্বর সিলেট বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধরাণ সম্পাদক মহিউস সুন্নাহ নার্জিসকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেন। কিন্তু এর একদিন পরই বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন না বলে জানান নার্জিস। এমন অবস্থায় বিপাকে পড়ে সিলেট বিএনপি। প্রার্থীহীন বিএনপি থাকলেও দলের দুই নেতা একে অপরের গলার কাঁটা হয়ে গেছেন। দুজনের জনপ্রিয়তা কমবেশি থাকার কারণে এ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় ভোট ভাগাভাগি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর দলীয় ভোট ভাগাভাগি হলে জয় নয়; বিএনপির এ দুই নেতার পরাজয়ও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা নেতাকর্মীদের।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও নানা নাটকীয়তার পর দলীয় প্রার্থী দিয়েছিল বিএনপি। বিএনপির একক প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হলেও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সবচেয়ে নিকটবর্তী পৌরসভা গোলাপঞ্জের উপ-নির্বাচনে প্রার্থী দিতে না পারা এবং দলের দুজন নেতা ধানের শীষ প্রতীক না নিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করাকে বিএনপির ব্যর্থতা বলেই মনে করছেন তৃণমূল নেতারা।

এ উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র দুই বিএনপি নেতার সাথে লড়ছেন আরো দুইজন। তাঁরা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু (নৌকা), যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম রাবেল (জগ)।

গত ৩১ মার্চ নির্বাচিত পৌর মেয়র সিরাজুল জব্বার চৌধুরী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর এক মাস ১১ দিন পর ১১ জুলাই মেয়র পদটি শূন্য ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। গত ৩ সেপ্টেম্বর উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩ অক্টোবর গোলাপগঞ্জ পৌরসভার উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, ‘আমরা দলীয় প্রার্থী দিয়েছিলাম। যাকে দলীয় প্রার্থী দেওয়া হয় তাঁর মনোনয়ন বাছাইয়ে বাতিল হয়ে যায়। তিনি বলেন, বিএনপির দু’জন নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন। যদি আমাদের দলীয় প্রার্থী এখানে থাকতেন তাহলে অবশ্যই তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হতো। যেহেতু তাঁরা স্বতন্ত্র প্রার্থী, তাই এই মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। একপ্রশ্নের জবাবে আলী আহমদ বলেন, কৌশলগত কারণে হয়তোবা এই দুজন প্রার্থী দলীয় প্রতীক না নিয়ে স্বতন্ত্র হয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এবং প্রেক্ষাপটও তাঁদের স্বতন্ত্রপ্রার্থী করতে বাধ্য করতে পারে। তবে সার্বিক বিষয় আমরা দেখবো। তবে সময় নেবো।’

এ ব্যাপারে পৌর বিএনপির সভাপতি মুশফিকুর রহমান মহি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় নার্জিসকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিলো তিনি কেনো ফিরিয়ে দিলেন-তা আমার জানা নেই। তবে দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে আমি ছিলাম না। তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী নেই-তা ঠিক, তবে আমাদের দলের যে দুজন নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন বিএনপির ভোট তাঁরা দুজনই ভাগাভাগি করে পাবেন। তাদেরকে ছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীর ভোট দেয়ার জায়গা নেই। মহি বলেন, দলীয় ভোট ভাগাভাগি পরাজয়েরও কারণ হতে পারে। কারণ গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির অবস্থা সবসময়ই ভালো।’

গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া শাহিন বলেন, ‘আমি কেন বিএনপির প্রার্থী হলাম না তা ভালো জানেন জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম। কারণ গত নির্বাচনে আমি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছি, কিন্তু এবার আমাকে মনোনয়ন দেয়ার সময় ডাকা হয়নি। এবার নার্জিস চৌধুরীকে ডেকে নিয়ে তিনি মনোনয়ন দেন। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন নার্জিস প্রত্যাখান করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। আমাকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া হলে আমি অবশ্যই দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতাম। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই জণগন আমাকে মূল্যায়ন করে নির্বাচিত করবেন বলে আমি শতভাগ আশাবাদী।’

সিলেট জেলা বিএনপির নেতা ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী মহিউছসুন্নাহ চৌধুরী নার্জিসকে একাধিকবার ফোন করে পাওয়া যায়নি।