বিশ্বনাথে স্কুলছাত্রীর বাল্য বিয়ে : চেয়ারম্যানসহ চারজনকে শোকজ

41

বিশ্বনাথ অফিস
বিশ্বনাথে প্রশাসনের অবহেলায় এক স্কুলছাত্রীর বাল্য বিয়ে নিয়ে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সোমবার বিয়ের দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ওইদিন রাতেই সিলেটের এক আইনজীবির বাসায় এক লন্ডন প্রবাসীর সাথে স্কুলছাত্রীর বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। বর হচ্ছেন উপজেলার পূর্ব মন্ডলকাপন গ্রামের মৃত মনু মিয়ার পুত্র যুক্তরাজ্য প্রবাসী সিলু মিয়া চন্দন। স্কুলছাত্রী উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের পুরানগাঁও গ্রামের নিজামউদ্দিনের মেয়ে তামান্না আক্তার।

সে স্থনীয় প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্রী বলে জানান, প্রধান শিক্ষক ফারুক ইকবাল। তার জন্ম নিবন্ধন সনদে জন্ম তারিখ রয়েছে ২জানুয়ারি ২০০১। সে অনুযায়ি বিয়ের দিন পর্যন্ত বয়স ১৭বছর ৮মাস ২৪দিন। এমন অভিযোগ এনে ২৪সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত আবেদন দায়ের করেন বিশ্বনাথেরগাঁও গ্রামের মৃত মদরিছ আলীর পুত্র আহমদ আলী। ওই আবেদনটি নির্বাহী কর্মকর্তার সীলসহ রিসিভ করা হয়। প্রায় একবছর আগে বিশ্বনাথ উপজেলাকে আনুষ্টানিকভাবে বাল্য বিয়ে মুক্ত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তারপরও এই বাল্য বিয়েটি হওয়ায় উপজেলার সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনায় তিন জনপ্রতিনিধি ও স্কুলশিক্ষকসহ চারজনকে শোকজ করা হয়েছে। তারা হচ্ছেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান স্বপ্না শাহিন, রামপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলমগীর, ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য শামীম আহমদ ও প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক ইকবাল।

গতকাল সোমবার পৃথকভাবে এই চারজনের কাছে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে ইউএনও অফিস সূত্রে জানাগেছে। আগামী তিন কার্যদিবসের ভেতরে ওই চারজনকে জবাব দেয়ার জন্য নির্দেশনা করা হয়েছে।

চারজনকে শোকজ করার বিষয়টি স্বীকার করে ইউএনও অমিতাভ পরাগ তালুকদার বলেন-ওই বাল্য বিয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা গৌরাঙ্গ চন্দ্র মন্ডলের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে থানা পুলিশকে মামলা নেয়ার জন্য লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, বাল্য বিয়ের ঘটনাটি আমার এলাকায় নয়। ওই বাল্য বিয়ের কাবিনসহ সম্পূর্ণ কার্যক্রম মেট্রোপলিটন এলাকায় হয়েছে। তার পরেও সেখানকার থানায় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আমি আবেদনটি প্রেরণ করব।

এব্যপারে স্কুলছাত্রীর পিতা নিজামউদ্দিন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের একটি জন্ম সনদ দেখিয়ে বলেন, তার মেয়ের বিয়ের পূর্ণ বয়স হয়েছে। কিন্তু ওই সনদটি যে তারিখে ইস্যু সেই তারিখে প্রাপ্তি ও বিয়ে। তারিখ হচ্ছে চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর।