মোগলাবাজারে আছিয়া হত্যাকান্ড : মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেফতার, আদালতে জবানবন্দি

67

স্টাফ রিপোর্টার
দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারে হরগৌরী গ্রামের প্রবাসীর বাড়ির চাঞ্চল্যকর কেয়ারটেকার আছিয়া বেগম হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী লেগুনা চালক মো: সুমন আহমদকে (২৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার সুমন আহমদ সিলেটের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করে। এ সময় আসামী সুমনও স্বেচ্ছায় ফৌজদারী কার্যবিধি’র ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে। গ্রেফতারকৃত সুমন মোগলাবাজার থানার হরগৌরী গ্রামের মানিক মিয়ার পুত্র। এর আগে পুলিশ মোগলাবাজার থানা এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে খুন হওয়া আছিয়া বেগমের নিকট জামানত হিসাবে রক্ষিত লেগুনা গাড়ীর লুন্ঠিত কাগজ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এসএমপি পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়ার নির্দেশে এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোঃ আজবাহার আলী শেখ পিপিএম এর দিক নির্দেশনায় ক্লু-বিহীন এই হত্যাকান্ডটির রহস্য উদঘাটনে সিলেট এসএমপির দক্ষিণ বিভাগ অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) জ্যোতির্ময় সরকাররে নেতৃত্বে সুদীপ দাস, সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার, মোগলাবাজার থানা, এসএমপি, সিলেট এবং থানায় কর্মরত অফিসার ফোর্সদের সমন্বয়ে গঠিত টিম সাড়াঁশি অভিযানে নামে।
গতকাল সোমবার পাঠানো প্রেসবিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৬ টার দিকে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা মোগলাবাজার থানার হরগৌরী সাকিনস্থ আমেরিকা প্রবাসী জনৈক আবু বক্কর (৪৮) পাকা বসত ঘরে প্রবেশ করে দস্যুতা সংঘটনকালে বাড়ীর মালিকের নিযুক্ত কেয়ারটেকার ভিকটিম নিহত জৈন্তাপুর থানার পানিছড়া চিকনাগুল গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের (বর্তমান স্বামী মাখন মিয়া) স্ত্রী আছিয়া বেগমে (৪০) হত্যা ২০ হাজার ২শ’ টাকার মালামাল লুন্ঠন করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই আবুল হোসেন এর এজাহারের ভিত্তিতে অজ্ঞাতনামা ৩ জনের বিরুদ্ধে মোগলাবাজার থানায় (নং-০৮ তারিখ-২৪/০৯/২০১৮) মামলা দায়ের করেন।
তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এবং বিশ্বস্ত চরের নিকট হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে তদন্তে প্রকাশিত আব্দুল বাছিত (২০), আব্দুল্লাহ আল মাহদী (১৮) ও কামিল আহমদ উরফে তাজমুলকে (১৮) গ্রেফতার করা হয় এবং আসামী বাছিতের হেফাজত হতে দস্যুতার লুন্ঠিত একটি  মোবাইল ফোন উদ্ধার পূর্বক পুলিশ আছিয়া হত্যা রহস্যের জট খুলতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীরা ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও নেতৃত্বদানকারী হিসাবে আসামী মোঃ সুমন আহমদ এর নাম প্রকাশ করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। পরে পুলিশ আছিয়া বেগম হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী লেগুনা চালক মো: সুমন আহমদকে গ্রেফতার করে।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সুমন আহমদ জানায়, ঘটনার প্রায় ২ মাস পূর্বে আসামী সুমন তার লেগুনা গাড়ী মেরামতের জন্য টাকার প্রয়োজনে প্রতিবেশী ভিকটিম নিহত আছিয়া বেগমের নিকট হতে জামানত হিসাবে তার লেগুনা গাড়ীর কাগজ জমা দিয়ে মাসিক ১ হাজার টাকা সুদে ১০ হাজার টাকা ঋণ নেয়। আছিয়া বেগম সুমনকে মূলধন ১০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিলে সুমন উক্ত ১০ হাজার টাকা ফেরত না দিয়ে যে কোন উপায়ে আছিয়া বেগমের কাছ থেকে লেগুনা গাড়ীর কাগজ উদ্ধারের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে এবং সে তার সহযোগী মাহদী, বাছিত ও কামিলসহ আছিয়া বেগমের ঘর থেকে কাগজ উদ্ধারের পরিকল্পনা করে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সোয়া টার দিকে মাহদী, বাছিত ও কামিল অতর্কিতে ভিকটিম আছিয়া বেগমের বাড়ীতে প্রবেশ করে ভিকটিম আছিয়া বেগম ও তার ছোট ছেলে সুমন (১২) এর হাত, পা এবং চোখ ও মুখ শক্তভাবে বেঁধে ফেলার পর মাহদী সুমনকে ফোন দিলে ঘরের বাহিরে থাকা সুমন ঘরে ঢুকে। এরপর সুমনের গাড়ীর কাগজের খোঁজে আসামীরা ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র তছনছ করে এবং আসামী বাছিত, সুমন ও মাহদী হাত পা ও চোখ মুখ বাধাঁ অবস্থায় থাকা শিশু পুত্রের পাশেই ঘরের খাটের উপরে ভিকটিম আছিয়া বেগমকে একাধিকবার ধর্ষণ করতঃ শ্বাসরোদ্ধ করিয়া হত্যা করে। আসামীরা ঘটনাস্থল থেকে দুটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকাসহ কানের স্বর্ণের দুল এবং জামানত হিসাবে রক্ষিত আসামী সুমনের লেগুনা গাড়ীর কাগজপত্র লুন্ঠন করে নিয়ে যায় মর্মে বর্বরোচিত লৌমহর্ষক ঘটনার বিবরণ দেয়। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। মামলা তদন্তের আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম শেষে যথাসময়ে আদালতে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করা হবে।