শারদীয় দুর্গোৎসব : এবার সিলেট জেলায় ৫শ ৯১টি পূজামন্ডপ

47

জাহেদ আহমদ
দেখতে দেখতে আবারও হতে চলেছে অপেক্ষার অবসান। আবার আনন্দে মেতে উঠবে গোটা দেশ। মা আসছেন বঙ্গে। মেঘমুক্ত আকাশের সুনীল রূপকান্তি, আলো ছায়ার লুকোচুরি, শিউলি ফুলের মন মাতানো গন্ধ, নদী তীরে কাঁশফুলের অপূর্ব শুভ্র সমারোহসহ বিভিন্ন রূপরাশি নিয়ে শরতের আবির্ভাবের সাথে সাথে মহালয়ার মাধ্যমে ঘটছে দুর্র্গা দেবীর আবির্ভাব। আর কিছুদিন পরই হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

সিলেট নগরীসহ বিভিন্ন স্থানে পুরোদমে চলছে দুর্গাপূূজার প্রস্তুতি। তৈরি হচ্ছে দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক ও গণেশের মূর্তি। এগুলো দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় করে তুলতে দিনরাত তুলির আঁচড়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রতিমাশিল্পীরা। তাদের কাজ শেষে প্রতিমাগুলো স্থান পাবে মন্ডপে মন্ডপে।

সিলেট মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত জানান, এবার সিলেট জেলা ও মাহনগরে থাকবে ৫৯১টি পূজা মন্ডপ। এর মধ্যে মহানগরে সার্বজনীন ৪৮ এবং পারিবারিক ১৪টি পূজা মন্ডপ রয়েছে। তবে গতবারের চেয়ে এবার পূজা মন্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ১৫টি। দেখা গেছে বিভিন্ন মন্ডপেও চলছে প্রস্তুতি কাজ। কোনো কোনো মন্ডপের পাশেই করা হচ্ছে প্রতিমা তৈরি।

সরেজমিনে দেখা যায় নগরীর দাড়িয়াপাড়া এলাকায় প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃতশিল্পীরা। একটি কক্ষে বেশ কয়েকটি প্রতিমা রাখা। এগুলোর পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে কাজ করছেন কয়েকজন শিল্পী। একটি ট্রেতে নানা ধরনের রঙ, তার মধ্যে তুলি ভিজিয়ে প্রতিমার সাজসজ্জার প্রলেপ দিতে দিতে কথা বলেন একজন মৃতশিল্পী দুলাল পাল। ৫৪ বছর বয়স হলেও ৪০ বছর থেকে কাজ করছেন এ শিল্পের। তিনি বলেন, এবার প্রায় ৮০টির মতো অর্ডার পেয়েছেন। এক একটি অর্ডার নেয়া হয়েছে ১৫ থেকে ৫০ হাজার টাকায়। অর্ডার অনুযায়ী এই সকল কাজ করছেন দুলাল পাল ও তার ছোটভাই শংকর পালসহ আরো ২০-২৫ মৃতশিল্পী কর্মচারী। কাজ শেষে অর্ডারের প্রতিমাগুলো ডেলিভারি শুরু হবে পূজার ৩ থেকে ৪ দিন আগে থেকে।

শুধু প্রতিমাশিল্পীরাই নন, দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে গোঠা হিন্দু সম্প্রদায়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ঘর-বাড়িসহ নিজেদের সাজাতে ব্যস্ততা সকলের মাঝে। কেউ কেউ কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন একটু আগেবাগেই। পূজায় পরিবার, আত্মীয়-স্বজন মিলে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরিসহ অনেক আনন্দ করার পরিকল্পনার কথা জানান, মদনমোহন কলেজের মাস্টার্স ১ম পর্বের শিক্ষার্থী পলি রানী ধর। তিনি বলেন, একটি বছর পর দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে আবারো দুর্গাপূজা আসছে। তাই খুব আনন্দ লাগছে।

সব মিলিয়ে এখন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা করছেন নানা আয়োজন। কীভাবে সাজালে মাকে ভালো লাগবে, মা কী খেতে পছন্দ করেন। এই কদিনে মাকে কত ভাবেই না সম্বোধন করেন ভক্তরা।

পঞ্জিকা মতে আগামী ৮ অক্টোবর মহালয়া। হিন্দু সম্প্রদায়ের মতে এদিন ভক্তদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে স্বর্গলোক থেকে মত্যলোকে আসবেন মা দুর্গা। প্রতি বছরই মা দুর্গার নানান বাহনে আগমন ঘটে। যেমন গজ, দোলা, নৌকা, ঘোটক এর মধ্যে কোনও একটিতে মা আসেন। এবার দেবীর আগমন ঘটবে ঘোটকে বা ঘোড়ায়। মহালয়ায় চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে মাকে আমন্ত্রনের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু। এর পর ১৪ অক্টোবর রবিবার মহাপঞ্চমী, ১৫ অক্টোবর সোমবার মহাষষ্ঠী, ১৬ অক্টোবর মঙ্গলবার মহাসপ্ততমী, ১৭ অক্টোবর বুধবার মহাঅষ্টমী, ১৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মহানবমী এবং ১৯ অক্টোবর শুক্রবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপুজা।