বিয়ানীবাজারে উন্নয়ন মেলার সমাপ্তি

37

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি
বিয়ানীবাজারে সরকারের বহুমুখী উন্নয়নের কর্মকান্ড তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন রকম নাগরিক সেবার মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা-২০১৮’র সফল সমাপ্তি ঘটেছে।
‘উন্নয়নের অভিযাত্রায়, অদম্য বাংলাদেশ’ শ্লোগান নিয়ে বর্ণিল আয়োজনে গত বৃহস্পতিবার পৌরশহরের পঞ্চখ- হরগোবিন্দ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ৩ দিনব্যাপি এ উন্নয়ন মেলা।
বিয়ানীবাজার পৌরসভা, সিলেট পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-১’র বিয়ানীবাজার জোনাল অফিস, একটি বাড়ি একটি খামার পল্লি সঞ্চয় ব্যাংক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগসহ ১০ দপ্তরের সরাসরি সেবা প্রদানের পাশাপাপাশি স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি মিলে মোট ৪৩টি স্টল এ মেলায় অংশ গ্রহণ করে।
বিগত যে-কোনো সময়ের চেয়ে এবারের মেলায় দর্শনার্থী ও সেবা গ্রহীতাদের উপচেপড়া ভীড় ছিল। ৩ দিনব্যাপি এ মেলায় বর্তমান সরকারের বিগত এক দশকে উপজেলার উন্নয়ন ও অগ্রগতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়। স্টোলের পাশাপাশি মেলার বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার’। যেখান থেকে নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনানো হয়। এছাড়া মেলায় ‘গ্রীণ বিয়ানীবাজার’ ও ‘কৃষি উন্নয়নে নারী’ কার্যক্রমের প্রচারণা করা হয়।
‘শিক্ষিত জাতি সমৃদ্ধ-দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ শ্লোগান নিয়ে মেলার সমাপনী দিনে শনিবার বিকালে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনাসভা ও রিয়্যালিটি শো অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রেস্ট ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
সভা শেষে পল্লি বিদ্যুতের স্থানীয় জোনাল অফিস জনসচেতনতার লক্ষ্যে গাছের ডালপালার স্পর্শে কিভাবে বিদ্যুৎ স্পার্ক করে লাইন পুড়ে যায় করে তা সরাসরি প্রদর্শন করেন। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স পিএইচজি হাই স্কুল মাঠে অগ্নি নির্বাপক মহড়া প্রদর্শণ করে।
সমাপনী দিন রাতে সেবা ও প্রদর্শনী ২টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়। সেবায় প্রথম স্থান অর্জন করে বিয়ানীবাজার পৌরসভা, দ্বিতীয় পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি বিয়ানীবাজার জোনাল অফিস, তৃত্বীয় স্থান অর্জন করে উপজেলা আইসিটি ও ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন এবং প্রদর্শনীতে প্রথম স্থান অর্জন করে কৃষি সম্প্রচার অধিদপ্তর, বিয়ানীবাজার-সিলেট, দ্বিতীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, তৃত্বীয় স্থান অর্জন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারমূলক ১০টি প্রকল্পের অন্যতম একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প। এছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে শুভেচ্ছা স্মারক ও সনদ প্রদান করা হয়।
৩ দিনব্যাপি এ মেলায় সেবার পাশাপাশি প্রতিদিন মঞ্চে গান, কবিতা, নৃত্য, আবৃত্তি ও কুইজ প্রতিযোগিতাসহ নানারকম মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় ছিল ভরপুর। এতে উপজেলা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশগ্রহণ করে।
বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র মো. আব্দুস বলেন, উত্তরাধিকার সনদ, জাতীয়তা সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম নিবন্ধন সনদ, বার্থ সার্টিফিকেট, পৌর করের বিল প্রদানসহ বিভিন্ন খ্যাতে ৫ শতাধিক সেবা প্রদান হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তা পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, কমমূল্যে সহজ কিস্তিতে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদানসহ কৃষকদের বিভিন্ন রকমের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যার ফলে সাধারণ মানুষ অনেক বেশি উপকৃত হচ্ছেন।
পল্লি বিদুৎ সমিতি বিয়ানীবাজার জোনাল অফিসের ডিজিএম অভিলাষ চন্দ্র পাল বলেন, মেলায় আমাদের বিশেষ সেবার মধ্যে ছিল ২৪ ঘন্টার মধ্যে মিটার প্রদান কার্যক্রম। শেষদিন পর্যন্ত ১৪৭টি আবেদন জমা পড়েছে-এরমধ্যে ১৪০টির টাকা জমা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬১ টি স্পোট মিটার স্থাপন করা হয়েছে বাকিগুলো আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে লাগানো হবে।
মেলার সফল সমাপ্তির জন্য উপজেলার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী আরিফুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে দেশে যুগান্তকারি উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।-এরই আলোকে বিয়ানীবাজার উপজেলায় বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরার পাশাপাশি আমাদের এ মেলার মধ্যে দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে বিভিন্ন রকমের সেবা প্রদান করা হয়েছে।