হবিগঞ্জে পৃথক হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদন্ড

5

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জে পৃথক দুটি হত্যা মামলায় তিন আসামীকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার এ দুটি রায় দেয়া হয়। আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় এক যুবককে হত্যার দায়ে দুইজনের মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এসএম নাসিম রেজা এ রায় দেন। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা গ্রামের আব্দুল হাই চৌধুরীর ছেলে সাকিউর চৌধুরী ও রমিজ মিয়ার ছেলে গাজিউর চৌধুরী। রায় ঘোষণাকালে সাকিউর আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর আসামি গাজিউর ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। এ মামলায় অপর ১৩ জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৯ জুন মোবাইল ফোনে প্রতিবেশী বদিউজ্জামান চৌধুরীর ছেলে বাছির মিয়াকে ডেকে নেন আসামিরা। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। এ ঘটনায় ১৩ জুন আজমিরীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। ২৪ জুন বাছিরের বড় ভাই যিশু মিয়া চৌধুরী বাদী হয়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। ওই দিনই মামলার আসামি সাকিউরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাইয়ারখারা বিলের পাশের জমিতে মাটি চাপা দেয়া অবস্থায় বাছির মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সাকিউর ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পূর্ব-শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছেন বলে আদালতকে জানান তিনি।

অপরদিকে, বানিয়াচং উপজেলায় হত্যা মামলায় অরবিন্দু দাশ (৩৩) নামে এক যুবককে মৃত্যুদন্ড ও ৮ আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার সকালে এ রায় ঘোষণা করেন হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আমজাদ হোসেন। বানিয়াচং উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের নকুল চন্দ্র দাশের ছেলে সত্যজিৎ দাশ হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডের রায় শুনলেন অরবিন্দু দাশ। সাজা ঘোষণাকালে তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ে আসামীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে তার সম্পত্তি বিক্রি করে তা আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সিরাজুল হক চৌধুরী। মামলার অভিযোগ, ২০০৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে সত্যজিৎ গ্রামের মাঠে কির্ত্তণ শুনতে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে গ্রামের শ্মশানঘাট সংলগ্ন ডোবা থেকে হাত বাঁধা অবস্থায় তার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বোন অনিকা রাণী দাশ বাদী হয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বানিয়াচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৩ জুন নয় জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। তদন্ত চলাকালে গ্রেফতারকৃত অরবিন্দু দাশ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এতে সত্যজিতের কাছে পাওনা এক হাজার টাকা না দেয়ায় তিনি তাকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করে। রাষ্ট্রপক্ষে ১৮ জন সাক্ষির স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মামলার অপর ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেয়া হয়। রায় ঘোষণাকালে দন্ডিত আসামি সত্যজিৎ দাশসহ পাঁচ জন উপস্থিত ছিলেন। বাকি চার আসামি পলাতক রয়েছেন।