এমপি কয়েসের বিরুদ্ধে সেই মামলার নথি তলব

38

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি ও মানহানির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার খারিজ আদেশের উপর ফৌজদারি রিভিশন মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট জেলা ও দায়রা সিনিয়র জজ ড. গোলাম মর্তুজার আদালতে এই মোকদ্দমা (নং ২৪৩/২০১৮) দায়ের করেন বাদী মনোয়ারা বেগম। আদালত শুনানি শেষে এমপি কয়েসের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে দায়েরকৃত মামলার নথি তলব করেছেন।

গত ৩ অক্টোবর ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে যুক্তরাজ্য যুবলীগ নেতা আশফাকুল ইসলাম সাব্বিরের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সিলেটের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৫ এর বিচারক ফারজানা শাকিলা সুমু চৌধুরীর আদালতে মামলাটি করা হয়।

মামলার আরজিতে মনোয়ারা বেগম উল্লেখ করেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে ফেঞ্চুগঞ্জের পিটাইটিকর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় তার ছেলে ও পরিবার সম্পর্কে এমপি ‘অশালীন ও অকথ্য মন্তব্য’ করেছেন। ওই জনসভায় এমপি তার ছেলেকে ‘হত্যার হুমকি’ দেন। এ কারণে বাদী ও তার পরিবারের মানহানি হয়েছে বলে তিনি তার আরাজিতে দাবি করেন। ওইদিন বিচারক ফারজানা শাকিলা মুমু চৌধুরী বাদী ও তার আইনজীবীর বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে আদেশ অপেক্ষমান রাখেন।

পরে ৭ অক্টোবর মামলাটি খারিজ করে দেন আদালত। খারিজের আদেশে আদালত উল্লেখ করেছিলেন, ‘মামলার আরজি, বাদীর বক্তব্য ও প্রমাণাদি পর্যালোচনায় এটি সুষ্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়নি যে, আসামি বাদীর নাম উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে কোনরূপ মানহানিকর উক্তি করেছেন। বাদীকে ২০০ ধারা মোতাবেক পরীক্ষাকালেও বাদীর মানহানি হয়েছে মর্মে সুষ্পষ্ট কোন প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। ফলে, সার্বিক বিষয়াদি পর্যালোচনায় এই মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পর্যাপ্ত কারণ নেই মর্মে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। বিধায় অভিযোগটি ২০৩ ধারা মোতাবেক খারিজ করা হলো।’

ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে গতকাল বৃহস্পতিবার ফৌজদারি রিভিশন মোকদ্দমা দায়ের করেছেন মামলার বাদী মনোয়ারা বেগম।

এ বিষয়ে বাদীর আইনজীবী এডভোকেট সৈয়দ মহসিন আহমদ বলেন, ‘নিম্ন আদালতের খারিজ আদেশের ক্রটি তুলে ধরে সুবিচারের জন্য রিভিশন মোকদ্দমা দায়ের করেছি আমরা। আদালতের সামনে উপস্থাপন করেছি অভিযোগের সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ অন্যান্য আলামত। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিজ্ঞ আদালত নিম্ন আদালতের নথি তলব করেছেন। পরবর্তী শুনানির জন্য ১ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।’