ছায়ানটে শুভ্র শরতের স্নিগ্ধ উৎসব

10

সবুজ সিলেট ডেস্ক : ইট-কাঠের এই রাজধানী শহরে নেই শুভ্র কাশবন। দরদালানে আকাশ ঢাকা। তাই নীল আকাশজুড়ে তুলার মতো পেঁজা পেঁজা মেঘের ভেসে বেড়ানোর দৃশ্য চোখে পড়ে না সহজে। কিন্তু কোথাও না কোথাও আছে ওসব। শরতের শুভ্রতা নিয়ে ফুটছে শিশিরভেজা শিউলি। এদের স্মরণ করেই নগরজীবনে শরতের স্নিগ্ধতা উপলব্ধি করতে আজ শুক্রবার ছুটির দিনে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট আয়োজন করেছে শরৎ উৎসবের।

শুক্রবার বৃষ্টিভেজা সকালে ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন মিলনায়তনে কিছু সময়ের জন্য ভরে উঠেছিল শরতের সুর-বাণী-ছন্দে।

সকাল থেকেই ছায়ানট ভবনে শরৎ উৎসবে শামিল হতে দর্শকদের সমাগম শুরু হয়েছিল। উৎসবে অংশ নিতে আসা দর্শকদের পোশাকেও ছিল শরতের নীল-সাদার প্রভাব। তরুণীরা পরেছিলেন সাদা ও নীল রঙের নকশা করা শাড়ি। অনেকের খোঁপায় জড়ানো ফুলের মালা। ‘দেখো-দেখো, দেখো শুকতারা আঁখি মেলি চায়’—গানটি দিয়ে শুরু হয়েছিল উৎসবের কার্যক্রম। ছায়ানটের খুদে শিক্ষার্থীরা সমবেত কণ্ঠে গানটি পরিবেশন করে। গানের সঙ্গে ছিল নৃত্যও। ছায়ানট ভবনের করিডর থেকে নেচে–গেয়ে শিল্পীরা মূল মিলনায়তনে প্রবেশ করে।

নুসরাত জাহান গেয়ে শোনান ‘শুভ্র আসনে বিরাজ অরুণ ছটা মাঝে।’ এরপর একে একে বিক্রম দাস ও মাকছুরা আখতার একক কণ্ঠে শোনান ‘আলোর অমল কমলখানি,’ ও ‘আমার রাত পোহালো’ গান দুটি। পঞ্চম পরিবেশনায় ছিল ‘তোমার মোহন রূপে কে রয় ভুলে’ গানের সমবেত পরিবেশনা। এই গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনা। একক ও সম্মিলিত গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে অনুষ্ঠান। গানগুলোর মধ্যে ছিল ‘শরৎ-আলোর কমলবনে’, ‘আমারে ডাক দিল কে ভেতর পানে’, ‘আজি শরততপনে প্রভাতস্বপনে’, ‘আজ প্রথম ফুলের পাব প্রসাদখানি’, ‘হেলাফেলা সারা বেলা’, ‘এবার অবগুণ্ঠন খোলো’, ‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে’ ইত্যাদি। গান শোনান সেমন্তি মঞ্জরী, চঞ্চল বড়াল, দীপ্র নিশান্ত, অনিন্দিতা বৃষ্টি, দীপ্তি তালুকদার প্রমুখ। কোনো কোনো গানের সঙ্গে ছিল নৃত্য। সবশেষে ছায়ানটের শিক্ষার্থীরা সমবেত কণ্ঠে ‘মেঘের কোলে রোদ হেসেছে’ এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে। সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হয় অনুষ্ঠানটি। চলে প্রায় ১০টা পর্যন্ত।

অন্য বছরগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে আয়োজন করলেও এবার নিজেদের ভবনের মিলনায়তনেই শরৎ উৎসবের আয়োজন করে ছায়ানট।

-সবুজ সিলেট/জেএ