চিরনিদ্রায় প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান : জানাজায় লাখো মানুষের ঢল

100

ছবি : মো. আজমল আলী

১৯৯৪ সালে বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়ে সারাদেশে ব্যাপক পরিচিতি পান প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান। দেশের নাস্তিক-মুরতাদবিরোধী আন্দোলনে সব সময়ই তিনি অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৭৪ সালে দেশের শীর্ষ আলেমদের তত্ত্বাবধানে সিলেটের কাজিরবাজার এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন ঐতিহ্যবাহী জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজির বাজার মাদ্রাসা। দারুল উলুম দেওবন্দের নীতিতে পরিচালিত এই মাদ্রাসা শুরু থেকেই সিলেবাসে বাংলা, ইংরেজিসহ জাগতিক বিষয় যুক্ত করে নতুন ধারার সূচনা করেন তিনি। কওমি মাদ্রাসার প্রধানের পরিচয় মুহতামিম হলেও তিনি পরিচিত ছিলেন প্রিন্সিপাল হিসেবে।

স্টাফ রিপোর্টার
হাজার হাজার আলেমের ওস্তাদ, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক, লেখক, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মোফাসসেরে কুরআন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবীবুর রহমানকে চোখের জলে বিদায় দিয়েছেন সিলেটের মানুষ। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টায় নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে তার প্রতিষ্ঠিত সিলেটের জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজিরবাজার মাদ্রাসায় সমাহিত করা হয়। তাঁর জানাজার নামাজে লাখো মানুষের ঢল নামে। আলিয়া মাদ্রাসার মাঠ ছিল লোকারণ্য।

সিলেটের সর্বজন শ্রদ্ধেয় এ আলেমের জানাজা উপলক্ষে নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ কান্নায় কান্নায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। সকল শ্রেণি পেশার মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তার জানাজায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আলেম ওলামাসহ হাজার হাজার ছাত্র অংশ নেন। এ সময় অনেককে বরেণ্য এ আলেমের স্মৃতিচারণ করতে শোনা যায়। জুমআর নামাজের পর থেকে সিলেটে তাঁর ভক্ত অনুরাগী, ছাত্র, রাজনৈতিক সহকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ আলিয়া মাদ্রাসায় জড়ো হতে থাকেন।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানান জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজির বাজার মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ।

প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান দীর্ঘদিন থেকে ডায়াবেটিস ও হাইপ্রেশারসহ শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ৭ অক্টোবর তিনি চিকিৎসার জন্য ভারত গিয়েছিলেন। সেখান থেকে দুই দিন আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক স্ত্রী, চার ছেলে ও তিন কন্যা সন্তানের জনক। তার বড় ছেলে মাওলানা মুসা বিন হাবীব জামেয়া মাদানিয়া কাজির বাজার মাদ্রাসার ভাইস-প্রিন্সিপাল। দ্বিতীয় ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন হাবিব ইংল্যান্ড প্রবাসী। তৃতীয় ছেলে তারেক বিন হাবীব সিলেট মহানগর ছাত্র মজলিসের সভাপতি, চতুর্থ ছেলে তায়েফ বিন হাবীব ইংল্যান্ড প্রবাসী। তার বড় জামাতা মাওলানা তাজুল ইসলাম, দ্বিতীয় জামাতা মাওলানা আতাউর রহমান ইংল্যান্ড প্রবাসী, ছোট জামাতা মাওলানা সহল আল রাজি সিলেট জেলা পরিষদের সদস্য।

১৯৯৪ সালে বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়ে সারাদেশে ব্যাপক পরিচিতি পান প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান। তাঁর সংগঠন সাহাবা সৈনিক পরিষদের ব্যানারে ওই সময় সিলেটে অসংখ্য সভা-সমাবেশ করা হয়। এ ছাড়া দেশের নাস্তিক-মুরতাদবিরোধী আন্দোলনে সব সময়ই তিনি অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।

১৯৭৪ সালে দেশের শীর্ষ আলেমদের তত্ত্বাবধানে সিলেটের কাজিরবাজার এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন ঐতিহ্যবাহী জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজির বাজার মাদ্রাসা। দারুল উলুম দেওবন্দের নীতিতে পরিচালিত এই মাদ্রাসা শুরু থেকেই সিলেবাসে বাংলা, ইংরেজিসহ জাগতিক বিষয় যুক্ত করে নতুন ধারার সূচনা করা হয়।

কওমি মাদ্রাসার প্রধানের পরিচয় মুহতামিম হলেও তিনি পরিচিত ছিলেন প্রিন্সিপাল হিসেবে। তিনি দেশের প্রাচীনতম আলিয়া গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ি মাদ্রাসায় ফাজিল ও সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল দিয়েছেন।

১৯৯৪ সালে বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়ে সারাদেশে ব্যাপক পরিচিতি পান প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান। তাঁর সংগঠন সাহাবা সৈনিক পরিষদের ব্যানারে ওই সময় সিলেটে অসংখ্য সভা-সমাবেশ করা হয়। এ ছাড়া দেশের নাস্তিক-মুরতাদবিরোধী আন্দোলনে সব সময়ই তিনি অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।

১৯৭৪ সালে দেশের শীর্ষ আলেমদের তত্ত্বাবধানে সিলেটের কাজিরবাজার এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন ঐতিহ্যবাহী জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজির বাজার মাদ্রাসা। দারুল উলুম দেওবন্দের নীতিতে পরিচালিত এই মাদ্রাসা শুরু থেকেই সিলেবাসে বাংলা, ইংরেজিসহ জাগতিক বিষয় যুক্ত করে নতুন ধারার সূচনা করা হয়।

কওমি মাদ্রাসার প্রধানের পরিচয় মুহতামিম হলেও তিনি পরিচিত ছিলেন প্রিন্সিপাল হিসেবে। তিনি দেশের প্রাচীনতম আলিয়া গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ি মাদ্রাসায় ফাজিল ও সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল দিয়েছেন।

অভিভক্ত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের রাজনীতি থেকে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ খেলাফত মসজিলের আমির নির্বাচিত হন তিনি। ২০১২ সালে ইসলামি ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশে খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক মৃত্যুবরণ বরণ করার পর দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তে দলের আমির নিযুক্ত হন মাওলানা হাবিবুর রহমান।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা ফরিদ উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা আশফাক আহমদ, বিএনপি নেতা মাওলানা রশিদ আহমদ প্রমুখ।