হাওরাঞ্চলের বিলুপ্ত প্রজাতির রাণীমাছ

35

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি
সিলেটের হাওর বাওর এলাকার নবীগঞ্জের বরহাওর, করগাঁও হাওর, হাইল হাওরের একাংশ, ঘুঙ্গিয়াজুড়ি, মাকালকান্দি ও মকার হাওরকে বলা হয় মিঠা পানির মৎস্য ভান্ডার। এখানে বিরল প্রজাতি ছাড়াও বিলুপ্ত প্রজাতির অনেক মাছ পাওয়া যায়। এ ধরণেরই একটি মাছ হচ্ছে রানী মাছ। নয়ন জুড়ানো বাহারি রঙের এ মাছ।

অঞ্চল ভেদে একে বেতি, বৌমাছ, পুতুল মাছ, বেতাঙ্গী, ব্যাতরঙ্গী, বেটি বুকতিয়া ইত্যাদি নামে ডাকা হয়। এ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম বটির ডারিও। দেহ চাপা এবং পৃষ্ঠদেশ ধনুকের মত বাঁকা। মাথা দেখতে কিছুটা ইদুরের মাথার মত এবং চোখ মাথার প্রায় মধ্যস্থানে অবস্থিত। অতি ক্ষুদ্র ও গোলাকার আঁইশে ঢাকা এ মাছটির দেহে সামান্য তীর্যকভাবে ৭টি খাড়া গাঢ় বাদামী বা কালো দাগের সাথে হলুদ ডোরা দাগ থাকে।

সাধারণভাবে এ মাছের দৈর্ঘ্য ৯ সেন্টিমিটার, তবে পূর্ণবয়স্ক একটি মাছ সর্বোচ্চ ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

এ মাছটি খাল, বিল, হাওর, বাওড় ও নদীতে পাওয়া যায়। এরা সাধারণত কর্দমাক্ত পানির তলদেশ বেশি পছন্দ করে। অধিকাংশ মাছকে কাদার মধ্যে লুকানো অবস্থায় পাওয়া যায়। ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে বসবাসের কারণে একই প্রজাতির মাছের দৈহিক গঠন এবং রঙের মধ্যে তারতম্য দেখা যায়। ঘোলা পানির মাছগুলো অপেক্ষাকৃত ফ্যাকাশে দেখায়।

পক্ষান্তরে পরিষ্কার পানি ও কচুরিপানাপূর্ণ জলাশয়ের মাছগুলো বলিষ্ঠ এবং অধিক গাঢ় রঙের হয়ে থাকে। খেপলাজাল, টানাজাল, গোগাজাল, পেলুনজাল, চাই ইণ্যাদি দ্বারা এদের ধরা হয়। নবীগঞ্জের মাকালকান্দি হাওরের বাসিন্ধা মনির মিয়া বলেন, আমার বাবা দাদার পেশা মৎস্য শিকার আমিও তাই করি আগে যে রকম রানী মাছ পাওয়া যেত এখন এতোটা পাওয়া যায় না। এটি বেশী সুস্বাদু তাই দাম একটু বেশী। নবীগঞ্জ বাজারের মৎস্যব্যবসায়ী আকল মিয়া বলেন, রানীমাছ হাওর ছাড়া মিলে না। এটা শুধু হাওরেই জন্ম হয়, পুকুর বা মৎস্যখামারে ফলানো সম্ভব হয়নি। নবীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাশেদুজ্জামান বলেন, রানী মাছ অত্যান্ত সুন্দর জাতের মাছ দেখতে অপরূপ, এমাছ কে টিকিয়ে রাখতে হলে হাওরাঞ্চলের চাষাবাদ করতে হবে।

এ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম বটির ডারিও। হাওরাঞ্চলের পরিবেশ অধিদপ্তরের সিডবিউবিএম প্রকল্পের মৎস্য প্রাণীবৈচিত্র্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকী জানান, হাওর অঞ্চলে এ মাছ এখনো কিছু কিছু দেখা গেলেও বাংলাদেশের অধিকাংশ জলাশয়ে এদের তেমন একটা চোখে পড়ে না। সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, দিনাজপুর এবং চট্টগ্রাম ও পাবর্ত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে এ মাছ পাওয়া যায় প্রচুর। এছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এদের দেখা যায়। তবে দিনে দিনে এ প্রজাতিটি বিলুপ্তির পথে।