অনেক বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি : কাদের

9

সবুজ সিলেট ডেস্ক
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, সংলাপে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, অনেক বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন, সভা-সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু রাস্তা বন্ধ না করে, কোনো একটা মাঠে- তাদের বলা হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তাদের জন্য একটি কর্নার করে দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) রাত ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সংলাপে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। ড. কামাল হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা যে যা বলতে চেয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অখণ্ড মনোবলে সবার কথা শুনেছেন। একেকজন দুই বার, তিন বার বক্তব্য রেখেছেন, কেউ বাধা দেয়নি। আমাদের নেতারাও বক্তব্য রেখেছেন। তারা কিছু অভিযোগ করেছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদেরও বলার ছিল; আমরা আমাদের বক্তব্য তুলে ধরেছি।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষক আসবে, সে ক্ষেত্রে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমাদের সমর্থন থাকবে। স্বল্প পরিসরে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহারেও আমাদের আপত্তি নেই।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, কেয়ারটেকার সরকারের সময় এই মামলাগুলো দেওয়া হয়েছিল। কেয়ারটেকার সরকারে যারা ছিল, তারা তো বিএনপির লোক ছিল। এ বিষয়ে আমাদের বলার বা করার কী আছে? এই মামলাগুলোর বিষয়ে আদালতেই ভালো বুঝবে।

আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ. ম. রেজাউল বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিষয়ে যে আলোচনা উঠে এসেছে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- সংবিধানে যেটা আছে এর বাইরে গিয়ে কিছু করার আইনগত অবস্থান আমার নেই। আলোচনা ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনে এসে দেখেন ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন হয় কি না। ক্ষমতায় যাওয়াই আমার একমাত্র লক্ষ্য না।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সংলাপে উপস্থিত ছিলেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফা মহসীন মন্টু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান, জগলুল হায়দার আফ্রিক ও গণফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ও ম শফিক উল্লাহ, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, সহসভাপতি তানিয়া রব, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, এস এম আকরাম, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আ ব ম মোস্তফা আমিন, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই সংলাপে ১৪ দলীয় জোট থেকে ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া অন্যরা হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, মো. আবদুর রাজ্জাক, কাজী জাফর উল্যাহ, আবদুল মতিন খসরু, রমেশ চন্দ্র সেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনি, আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও জাসদের একাংশের সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল।