আজ বাজবে ঘন্টা, মাতবে সিলেট

26

হাসান মো.শামীম
গত ফেব্রুয়ারি মাসের কথা। সিলেট স্টেডিয়ামে হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। টি টুয়েন্টি ফরম্যাটের সেই ম্যাচের প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা। বাংলাদেশের কোচ তখন চন্দ্রিকা হাতুড়িসিংহে। সিলেটের মাঠ দেখে যারপরনাই অবাক চন্দ্রিকা।
সাংবাদিকদের কাছে তার জিজ্ঞাসা বাংলাদেশের এণ গতন্দর মাঠ তাকে কেন এণদিন দেখানো হয়নি। প্রথম দেখায় সিলেটের মাঠ
নিয়ে দারুন প্রশংসা করলেন তিনি। মুগ্ধতা তাকে যেন ছুয়ে যাচ্ছিল ক্ষনে ক্ষনে। আসলেই উচু নিচু ঠিলা আর সবুজের সমারোহের মাঝে সিলেট স্টেডিয়াম যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা একটা মনোমুগ্ধকর ছবির মু। সেই ছবি পতর্ততা পায় চা বাগান আর গ্রীন গ্যালারির মনোহারী সৌন্দর্যে। শুরু থেকে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের আদল ছিল ব্রিটিশ স্থাপত্যের অনুকরনে।
বিশেষ করে ভিআইপি ভবন আর সাংবাদিকদের বসার জায়গা দুটো দেখলে মনে হবে এ যেন ক্রিকেটের মক্কা লর্ডস।
সিলেটের সাথে ইংল্যান্ডের সম্পর্ক যেন বিনি গততায় বাধা। আর এবার বিনি গততার বাধন পোক্ত করতে ইংল্যান্ডের লর্ডসের আদলে সিলেটের অভিষেক টেস্টেও বাজবে ঘণ্টা। অষ্টম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেক একটু আলাদা ছাপ রাখতেই নেওয়া হয়েছে এই বিশেষ উদ্যোগ। লর্ডসের ঐতিহ্যবাহী ‘দ্য ফাইভ মিনিট বেল’ বাজিয়ে শুরু হবে সিলেটের অভিষেক টেস্ট। ঘন্টার ধ্বনিতে মাতোয়ারা হয়ে টেস্ট উৎসবের জন্য প্রস্তুত সিলেটবাসী।
২০১৬ সালে কলকাতার ইডেন গার্ডেনেও সেই ঐতিহ্য ধরে ঘন্টা বাজিয়ে টেস্ট শুরুর উদ্যোগ নেন ক্রিকেট অ্যাসোশিয়েশন অব বেঙ্গলের প্রধান সৌরভ গাংগুলী। লর্ডস ও ইডেনের মতো আভিজাত্যের এই ঘন্টা তাই বাজবে সিলেটেও।
প্রবাসী অধত্যষিত এলাকা সিলেট। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিলেটের অনেক মানুষ থাকলেও ইংল্যান্ডের সাথে সিলেটের আত্মার বন্ধন
যেন একটু অন্যরকম। প্রচুর পরিমাণ সিলেটি মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে বাস করেন ইংল্যান্ডে। সে কারনে সারা দেশের মানুষ সিলেটকে চেনেন লন্ডনী এলাকা বলে। কাকতালীয় হলেও লর্ডসের আদলে হওয়া সিলেট স্টেডিয়ামের ঘন্টা ধব্বনির উপস্থিতি যেন বিধাতারই ইশারা। এ যেন এক মোহনায় লর্ডস আর সিলেটকে মিলিয়ে দেওয়ার অভিপ্রায়। দেশের বাদবাকি ভেন্যুর চেয়ে সিলেট হয়েছে তাই একটু আলাদা।
বুধবার স্থানীয় একটি হোটেলে বিসিবি পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল তুলে ধরেন আয়োজনের বিস্তারিত। এরমধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হিসেবে ছিল ‘দ্য ফাইভ মিনিট বেল’।
২০০৭ সালে সর্বপ্রথম ক্রিকেটের তীর্থস্থান লর্ডসে শুরু হয় ঘন্টা বাজিয়ে টেস্ট শুরুর ঐতিহ্য। ‘দ্য ফাইভ মিনিট বেল’ নামে পরিচিত এই ঘন্টা প্রতিদিন খেলা শুরুর পাঁচ মিনিট আগে বাজানো হয়। এরপর থেকে লর্ডসে প্রথা মেনেই টেস্ট শুরু আগে বাজানো হচ্ছে এই ঘন্টা। আর তা বাজানো সম্মান পেয়েছেন বিভিন্ন দেশের সাবেক নামকরা ক্রিকেটাররা। ২০০৭ সালে লর্ডসে প্রথমবারের মত ঘন্টা বাজান ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার স্যার ভিভ রিচার্ডস। প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ গতজন ২০১০ সালে লর্ডসে ঘন্টা বাজানোর সম্মান পান। সেই ম্যাচ সেঞ্চুরি করে অনার্স বোর্ডে নাম লেখান ওপেনার তামিম ইকবাল। মুলত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, ক্রিকেট সংগঠক কিংবা বিখ্যাত কোনো ব্যক্তি ঘন্টা বাজানোর সম্মানসূচক দায়িত্ব পান। তবে ২০১২ সালে অবশ্য ক্রিকেটের বাইরে প্রথমবারের অন্য খেলা থেকে এই বেল বাজানোর সম্মান দেওয়া হয় স্প্রিন্টার ইয়োহান ব্লেককে। এবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের অভিষেক টেস্টের ঘণ্টা বাজানোর সম্মান পাচ্ছেন সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান।
বিসিবি পরিচালক শফিউল আলম নাদেল জানান, ঐতিহ্যের কাছে ফিরতেই তাদের এমন আয়োজন, ‘টেস্ট ক্রিকেটের জন্য ঐতিহ্য হলো একটা বেল রাখা হয়। এখন অনেক জায়গায় ইলেক্ট্রনিক্স বেলও রাখা হয়, বা অন্যভাবেও ব্যবস্থা করা হয়। তো আমরা চিরায়ত ঐতিহ্যের কাছেই ফিরে যেতে চাই। সেকারণেই আমরা একটা বেল স্থাপন করব। যেটা আমরা ঢাকা থেকে নিয়ে এসেছি। যে বেল বাজানোর মধ্য দিয়ে টেস্ট ম্যাচটির ম্যাচ রেফারি তার খেলার প্রক্রিয়া শুরু করবেন।’
কেবল ঘন্টাই নয়। সিলেটের অভিষেক টেস্ট ঘিরে থাকছে আরও অনেক কিছু। বিশেষ মুদ্রা দিয়ে টস করবেন দুদলের অধিনায়ক। বের করা হচ্ছে ‘গ্লিম্পস অব সিলেট’ নামে একটি প্রকাশনাও। টেস্ট শুরুর দিন সকালেই যার মোড়ক উন্মোচন করবেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। সিলেট বিভাগ থেকে বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট খেলা সাবেক ক্রিকেটারদের আমন্ত্রত জানানো হয়েছে অভিষেক টেস্টের দিন। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে সম্মাননা স্মারক। এছাড়াও অংশ নেওয়া দুদলকে দেওয়া হবে স্মারক উপহার। স্মারক উপহার পাবেন ম্যাচ কাভার করতে আসা সাংবাদিকরাও।