বড়লেখায় কলেজছাত্র প্রান্তকে হত্যার অভিযোগ : সহপাঠীদের বিক্ষোভ

18

বড়লেখা প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মেধাবী কলেজ ছাত্র প্রান্ত দাসকে (১৮) হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। প্রান্তের পরিবার ও সহপাঠীরা এমন অভিযোগই করছেন। সে উপজেলার বর্ণি এম মন্তাজিম আলী কলেজের একাদশ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল।

তাঁর পরিবারের অনটনের কারণে বর্ণি ইউনিয়নের মিহারী নয়াগ্রামের পিসির (ফুফু) বাড়িতে থেকে সে লেখাপড়া করত। গত বুধবার সকালে ওই বাড়ির পরিত্যক্ত রান্নœাঘরের জানালার গ্রিলের সাথে মুখ বাঁধা ও দাঁড়ানো অবস্থায় তাঁর লাশ পাওয়া যায়। পিসির বাড়ির লোকজনের দাবি গত সোমবার রাত থেকে থাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। হঠাৎ সে নিখোঁজ হয়ে যায়। কিন্তু উদ্ধার করা প্রান্তের লাশের বিবরণ অনুযায়ী সবার ধারণা, এটি আত্মহত্যা নয়। পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। এটিকে কোনোভাবেই আত্মহত্যা মানতে নারাজ তাঁর পরিবার, সহপাঠী ও এলাকার লোকজন। তাদের দাবি, পিসির বাড়ির লোকজন তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা পর লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছেন।

অন্যদিকে বুধবার ভোররাতের দিকে প্রান্তের মুঠোফোন থেকে বন্ধু ও স্বজনদের কাছে পাঠানো কয়েকটি ক্ষুদেবার্তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে রহস্য। প্রান্তের কলেজের সহপাঠীরা জানিয়েছেন, সে সব সময় ইংরেজিতে এসএমএস করত। কিন্তু ওই রাতে তাঁদের কাছে আসা এসএমএসগুলো ছিল বাংলাতে। এতে করেই তাঁদের সন্দেহটা আরো গভীর হয়। যে এটা হত্যাকা-।

বুধবার ভোররাতে প্রান্তের মুঠোফোন থেকে সহপাঠী অনিকের মুঠোফোনে একটি ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হয়। তাতে লেখা ছিল, “বন্ধুরা তরা সবাই ভালো থাকিছ। হয়তো তোদের সাথে আমার আর দেখা হবে না। কিন্তু তোদের সাথে কাঠানো সময় গুলো পরকালে আমার মনে থাকবে।” একই রকম একটি ক্ষুদেবার্তা যায় তাঁর কলেজের সহপাঠিদের নিয়ে তৈরি করা গ্রুপ “বন্ধুদের ক্যাম্পাস” এ। এই ক্ষুদেবার্তর শেষে “বিদায়” লেখা ছিল।

এদিকে প্রান্ত আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করা হয়েছে-এমনটা দাবি করে তাঁর সহপাঠীরা ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত চারদিন ধরে ক্লাস বর্জন করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

এম মন্তাজিম আলী কলেজের অধ্যক্ষ আসুক আহমদ গতকাল রোববার মুঠোফোনে বলেন, ‘প্রান্ত কখনও আত্মহত্যা করতে পারে না। লাশ দেখে এলাকার অনেকেই বলেছেন, তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার চাই। ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা চারদিন ধরে ক্লাস বর্জন করে যাচ্ছে। তাদেও কোনোভাবেই ক্লাসে ফেরানো যাচ্ছে না।’

বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। প্রান্তের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে অপমৃত্যু মামলা রজু হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে পরর্বুী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’