সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপ : চাচাতো ভাইয়ের গাড়ি দিয়ে সদস্য পুলক

236

সৈয়দ বাপ্পী
সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপ নামেই সংগঠন! যদিও সংগঠনটি ট্রাক মালিকদের, কিন্তু কমিটির দায়িত্বে থাকা অধিকাংশ দায়িত্বশীল ব্যক্তির-ই কোন গাড়ি নেই। এমনও আছে এক গাড়ি দিয়ে ৪ জন সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। প্রকৃত মালিক ছাড়া এভাবে সংগঠনটিকে সাজানোর কারন হলো, উত্তোলনকৃত লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত ও প্রশাসনিক ভাবে বিভিন্ন ফায়দা হাসিল করা। সংগঠনের নামে নেই কোন ব্যাংক একাউন্ট বা তহবিল। মনগড়া ক’জন দিয়েই এই সংগঠন সাজিয়েছেন তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে সাধারণ পরিষদ ছাড়াই সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোবাশি^র আহমদ কয়েসকে নাটকীয় ভাবে পদ থেকে সরিয়ে সভাপতি পদে আসেন নগরীর সোবহানীঘাটের মৃত ময়না মিয়ার ছেলে ইফতেখার আহমদ সুহেল। তখন মৌখিকভাবে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন অর্থমন্ত্রীর এপিএস জাবেদ সিরাজ। একই ভাবে যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন পুলক কবির চৌধুরী।

গত দেড় বছর ধরে ধরনের উত্তোলিত টাকা সংগঠনের ফান্ডে জমা না দিয়ে সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদকের ব্যক্তিগত একাউন্টে জমা রাখার বিষয়টি সম্প্রতি জানা জানি হয়।

এ নিয়ে সিলেটের একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপ নামক সংগঠনের বিরুদ্ধে ‘কোটি টাকা অত্মসাত’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর মালিক ও শ্রমিকদের আন্দোলনের তোপের মুখে পরে সংঘটনের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ সিরাজ। জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের এই বিশাল অংকের আর্থিক দুর্নীতির বিষয়ে সংগঠনের কার্যকরী কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ ট্রাক মালিকরা বিষয়টি জেনে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। এ থেকে রক্ষা পেতে জাবেদ সিরাজ আমেরিকায় চলে যান।

তার এই চলে যাওয়ায় শ্রমিক সংগঠনে নেতা কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় এবং তারা সংগঠনের হিসাব চেয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিও দেয়। আর এসকল কর্মসূচির তথ্য বিদেশে জাবেদ সিরাজকে জানান যুগ্ম সম্পাদক পুলক কবির চৌধুরী।

সংগঠনের কমিটি ঘোষণার প্রায় এক বছর পাঁচ মাস পার হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সংগঠনের নেই কোন অফিস। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি একটি অফিস করলেও ভাড়া না দেয়ায় বর্তমানে অফিসটি বন্ধ রয়েছে। অফিস ভাড়ার বকেয়া লক্ষাধিক টাকার জন্য সংশ্লিষ্ট দোকান মালিক বার বার তাগিদ দিলেও তা পরিশোধ করা হচ্ছে না। ট্রাক মালিকরা সমস্যায় পড়লেও কোন প্রকার সহযোগিতাও পান না কমিটির দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে।

চলতি মাসে দেশে আসার পর শ্রমিকদের এসব টাকা ‘হজম’ করার পায়তারা করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক। তারা নগরীর রায়নগরের একটি বাড়িতে বৈঠকও করেন।

বৈঠকে তারা সিদ্ধান্ত নেন, সংগঠনের সব কাগজপত্র ঠিক করার। অতীতের হিসেব কেউ চাইবে না যদি সংগঠনের নামে ব্যাংকে একটি একাউন্ট খোলা হয়। আর একটি স্থানীয় পত্রিকায় যদি বিজ্ঞাপন দিয়ে সবাইকে অবগত করা হয়। যাতে কেউ সংঘঠনের অনুমোতি ছাড়া ট্রাক চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করবেন না।

নিজের কোনো গাড়ি নেই, তুবুও তিনি সদস্য স্বীকার করে জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের যুগ্ম সম্পাদক পুলক কবির চৌধুরী বলেন, ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-৭২৯৭ ও ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-২০৮৫ ট্রাক গুলো আমার চাচাতো ভাই সামাদের। তবে তিনি কীভাবে সদস্য হলেন এমন প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান।

এসকল অভিযোগের সত্যতা জানতে ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি ইফতেখার আহমদ সুহেলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।