কোনো অপরাধেই পিছিয়ে নেই হাসনাত

507

সৈয়দ বাপ্পী
জমি দখল, হত্যা মামলা, চোরাচালান, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, মাটি চুরি করে বিক্রি, জাল দলিল তৈরিসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগের পাহাড় আবুল হাসনাত ও তার ভাই আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে। সব ধরনের অপরাধের সাথে সে জড়িত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে হাসনাত ও তার ভাই সম্পর্কে বিভিন্ন সময় করা হয়েছে অনেক অভিযোগ।

ভূমিখেকো এই দুই ভাইয়ের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে কল্লগ্রামের ৩৬৫ জন বাসিন্দা স্বাক্ষরিত অভিযোগ সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে, পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে, পুলিশ সুপার কার্যালয়ে, ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে, দুদক কার্যালয়ে, সদর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে পড়ে আছে। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে সিলেট ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, এসএমপির কতোয়ালি থানা ও শাহপরান (রহ.) থানায় একাধিক জিডি ও অভিযোগ রয়েছে। নিজেকে সদর উপজেলা যুবলীগ কর্মী বলে দাবি করে হাসনাত। কিন্তু তার বিভিন্ন অপকর্ম সম্পর্কে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর এখন কেউই তাকে যুবলীগ কর্মী বলে স্বীকার বা তার পক্ষে কথা বলতেও রাজি হচ্ছেন না।

একটি সূত্র জানিয়েছে, হাসনাত গ্রেফতার হয়েছিল, জেলেও গিয়েছিল। বিভিন্ন অভিযোগের পরও সে পার পেয়ে যায় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের দু’জন শীর্ষ নেতার বদৌলতে।

২০০৭ সালের ২৩ জুলাই ২০ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে হাসনাত ও তার ভাই আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে খাদিমপাড়া ইউনিয়নের বড়শালার আব্দুর রউফ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি জিডি এন্ট্রি করেন। (জিডি নম্বর-১৮১০)।

ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারনে ধর্মপুরের লুৎফুর রহমান ২০০৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আবুল হাসনাত ও আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে এ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি জিডি এন্ট্রি করেন। (জিডি নম্বর-১১৭৯)।

একই মাসের ১৬ সেপ্টেম্বর ইসলামপুরের মৃত সুরমান আলীর ছেলে সদর সাব রেজিস্ট্রারের শিক্ষানবিশ শিপু নামের এক ব্যক্তিকে ইসলামপুর বাজারে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকান্ডে আবুল হাসনাত জড়িত ছিল বলে নিহত শিপুর ভাই মুজাম্মেল হোসেন লিটন বাদি হয়ে আবুল হাসনাতের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর-৮২)।

২০০৮ সালের ২৪ জুন ৬ লক্ষ টাকার চেক প্রতারণার কারণে দাশপাড়ার ইয়াসমিন বেগম সিলেট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর-৪৪৮/০৮)।

২০০৯ সালে ৪ নভেম্বর কল্লগ্রামের মঈন উদ্দিনকে র‌্যাব-৯ এর ডিএডি তৌহিদুল পরিচয় দিয়ে হয়রানির অভিযোগে হাসনাতের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মঈন উদ্দিন একটি জিডি করেন (জিডি নম্বর-৩৬৫)।

২০১০ সালে ৪ জানুয়ারি বলাউরার আরজু মিয়ার ছেলে আকবর আলী আবুল হাসনাতের বিরুদ্ধে ১০ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি জিডি করেন (জিডি নম্বর-২৫৫)।

২০১০ সালে ৬ জানুয়ারি হাসনাতের দৌরাত্ম্যের ব্যাপারে কল্লগ্রামবাসীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন (স্মারক নম্বর-৪৫)। এতে হাসনাতকে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ভূমিখোকো ও প্রতারক বলে উল্লেখ করা হয় ।

গত ১৯ জুলাই দলিল জালিয়াতি মামলায় সিলেট সদর সাব রেজিস্ট্রারি অফিস থেকে হাসনাতকে গ্রেফতার করে দুদক।

গত ১৫ জুলাই আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় ৩৫টি কাটুন প্রসাধনী অবৈধভাবে আনা হয়। যার মূল্য ১ কোটি ২ লাখ ৭৭ হাজার ২শ ৮০ টাকা। র‌্যাব এই মালামাল জব্দ করে। এ ঘটনায় র‌্যাব-৯ এর এসআই মো. ইমাম বাদি হয়ে শাহপরান (র.) থানায় একটি মামলা দায়ের করে (মামলা নম্বর-১০/১২১)। এই মামলার ৩ নম্বর আসামি আবুল হাসনাত এবং ৪ নম্বর তার ভাই আব্দুল মান্নান।

এর বারো দিন পর গত ২৭ জুলাই ভারত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে আনীত ২৭৫টি স্কুলব্যাগ এসএমপির গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। এ ঘটনায় এসএমপির গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. জমশেদ আলম বাদি হয়ে আবুল হাসনাত এবং তার ভাই আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে শাহপরাণ (র.) থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর-২১/১৩২)।

হাসনাত ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের মামলা ও অভিযোগ অনেক। দীর্ঘদিন ধরে সে বিভিন্ন পরিচয়ে অপরাধমূলক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে আইনানুগ যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না এতে ভুক্তভোগী নিরীহ মানুষের মাঝে ক্ষোভের পাশাপাশি নানা প্রশ্ন রয়েছে।

আবুল হাসনাত ও তার ভাই আব্দুল মান্নানের বিভিন্ন অপকর্ম-অপরাধ সম্পর্কে আমাদের কাছে অনেক তথ্য আসছে। এ ব্যাপারে আমাদের অনুসন্ধান চলছে।