ভাইসহ কাউন্সিলর ইলিয়াছের নেতৃত্বে পনিটুলায় প্রবাসীর বাসায় ভাঙচুর

1787

পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি

স্টাফ রিপোর্টার
পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছের ভাই আলতা মিয়া ও তার লোকজন এক প্রবাসীর বাড়ির সীমানা দেয়াল ও বাথরুম ভাঙচুর করেছেন। এ ঘটনায় জালালাবাদ থানায় আলতা মিয়ার নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২০/২৫ জনকে আসামি করে অভিযোগ দিলেও ৯ দিনেও মামলা রেকর্ড করেনি পুলিশ। গত ২১ নভেম্বর সিলেট সদর উপজেলার ব্রাহ্মণশাসন মৌজার জেএল ৭৭ এর ৩৭৬ নং দাগের পনিটুলার পল্লবী আবাসিক এলাকার মো. মফজ্জুল আলীর মালিকানাধীন ৬৩/২ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাসার কেয়ারটেকার মো. আবদুল খালিক থানায় অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৫ সালের ৪ জুন রেজিস্টারি দলিল নং ৭৪৩৫/২০০৫ ইং মূলে মফজ্জুল আলী ভূমিটি ক্রয় করেন। পরে ঘর তৈরি করে ভাড়া দেন। এর পর তিনি লন্ডন চলে গেলে কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছের ভাই বিবাদী আলতা মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বাসা দখলের হুমকি দিয়ে আসছে। মাস খানেক আগে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং প্রবাসী মফজ্জুল আলীর কাছ থেকে টাকা এনে দেওয়ার চাপ দেয়। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে হুমকি দেয় বিবাদীরা।

মামলার বাদী আবদুল খালিক বলেন, গত ২১ নভেম্বর কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছ, আলতা মিয়াসহ ২০/২৫ সন্ত্রাসী শাবল, হ্যামার, হাতুড়ীসহ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে বাড়ির দক্ষিণ পশ্চিম দিকের সীমানা দেয়াল ও বাথরুম ভাঙ্চুর কওে ১ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে। খবর পেয়ে বাদী ঘটনাস্থলে গেলে আলতা মিয়া পুনরায় পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে বলে। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আলতা মিয়া দেশিয় অস্ত্র দিয়ে বাদীকে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় উপস্থিত লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা বসতবাড়ি গুড়িয়ে জমি দখলের হুমকি দেয়।

বাসার ভাড়াটে সাগর দাস নান্টু ও শুক্লা রানী ঘোষ জানান, ঘটনার আগের দিন কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান এসে আমাদের বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি দেন। কাউন্সিলর বলেন, এ জায়গা আমি কিনে নিয়েছি, তোমরা বেরিয়ে যাও। পরদিন ২১ নভেম্বর কাউন্সিলর ইলিয়াছের নেতৃত্বে, তার ভাই আলতা মিয়াসহ সন্ত্রাসীরা এসে বাসায় তান্ডব চালায়। তাদের তান্ডবে আতঙ্কিত হয়ে বাসার এক ভাড়াটে শুক্লা রানীর স্বামী সত্যেন্দ্র কুমার ঘোষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এসএমপির জালালাবাদ ওসি হারুনুর রশিদ বলেন, ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক। অভিযোগ পেয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছি। তিনি তদন্ত শেষ করলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্ঠা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।