নির্বাচন কমিশন পুতুল নাচ নাচছে : রিজভী

11

সবুজ সিলেট ডেস্ক
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, যা কিছু হচ্ছে তা হচ্ছে পুতুল নাচ। যে নাচটি নাচছে এখন নির্বাচন কমিশন। সুতাটা ধরে আছে গণভবন না হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ওখান থেকে সুতাটা যেভাবে টান দিচ্ছে, নির্বাচন কমিশন পুতুল নাচের মত সেভাবে নাচছেন।

সোমবার (৩ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়াসহ বিএনপির অর্ধশতাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে নির্বাচন কমিশনকে ‘পুতুল নাচের’ আসরের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।

তিনি বলেন, কে এম নূরুল হুদার নির্বাচন কমিশন যে ক্ষমতাসীনদের নির্দেশের বাইরে এক পাও এগোতে পারবে না- তা মনোনয়ন বাতিলের চিত্র থেকেই স্পষ্ট হয়ে গেছে তার কাছে। একদিকে টার্গেট করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ দলের ৫০ জন হেভিওয়েট জনপ্রিয় নেতা ও সাবেক সাংসদের মনোনয়নপত্র বিনা অজুহাতেই বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের একজনের মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়নি। কারণ তাদেরকে সাধু সন্ন্যাসী বলে মনে করে নির্বাচন কমিশন।

দেশের ৩০০ আসনে জমা পড়া ৩ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৭৮৬টি রোববার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে বাতিল হয়ে যায়। এর মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ কয়েকডজন নামীদামী প্রার্থী রয়েছেন।

১৭ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার তিনটি মনোনয়নপত্রই বাতিল করা হয় দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার কারণে। এছাড়া খেলাপি ঋণ, তথ্যে অসঙ্গতিসহ বিভিন্ন কারণে বাকিদের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় ছয়টি আসনে এখন বিএনপি বা জোটের কোনো প্রার্থী নেই।

আওয়ামী লীগের যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদেরও অনেকে ভোটের মাঠ থেকে ছিটকে পড়েছেন মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার কারণে। তবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে যারা প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদের কারও বাদ পড়ার খবর পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, ইসির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন সরকারেরই প্রলম্বিত ছায়া। উনাদের (আওয়ামী লীগ) দণ্ডপ্রাপ্ত যারা, সবাই টিকে গেলেন। স্বাক্ষর করেননি, তথ্য দেননি, বেসামরিক বিমান পর্যটন মন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য দাখিল না করলেও তারটা টিকে গেলে। এখানেই বুঝতে পারেন যে কার পরামর্শে নির্বাচন কমিশন চলছে।

রিজভী বলেন, নির্বাচন কমিশন কে? ওই যে একটা ছবি হয়েছিল না- সখী তুমি কার? নির্বাচন কমিশন তুমি কার? শেখ হাসিনার। এ ব্যাপারে আর কোনো দ্বিধা নেই।

অসুস্থ জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নামে মনোনয়ন জমার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, উনি মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না করার পরেও মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্রে টিপসহ দেওয়া হয়েছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অচেতন হয়ে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন। আমরা অবশ্যই তার সুস্থতা কামনা করি। কিন্তু কেউ বিদেশে অবস্থান করলে তার স্বাক্ষর কিংবা টিপসই সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন ফার্স্ট সেক্রেটারি কর্তৃক সত্যায়িত করতে হবে, যার মর্যাদা হবে অন্তত প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের সমান। এ ধরনের কর্মকর্তার দ্বারা সত্যায়িত হয়নি সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্র।

তিনি আরও বলেন, তার (সৈয়দ আশরাফের) মনোনয়নপত্র নোটারি করা হয়েছে বাংলাদেশে, যা আইনসিদ্ধ নয়। সৈয়দ আশরাফের নামে নির্বাচনী কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই, যেখান থেকে নির্বাচনী খরচ চালানো হবে। তাহলে আশরাফুল ইসলাম সাহেবের মনোনয়নপত্র বৈধ হল কীভাবে?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামকে গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নেতিবাচক চরিত্র হিসেবে বর্ণনা করে রিজভী বলেন, নির্বাচন নিয়ে যত রকমের কারিগরি করা দরকার তার সবই তিনি করছেন। আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে এও জানতে পেরেছি, ভোটের দিন থ্রি-জি, ফোর-জি মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। আজ থেকে মনিটরিং করা হবে ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। সরকারের সমালোচনা করলেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের সচিব।

যেসব আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী থাকল না, সেখানে কী হবে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, ছয়টা আসনে তো বিএনপির কোনো প্রার্থীই নাই। এটা যে নির্বাচন কমিশন সরকারের কথায় যে কারিগরি করছেন, ইঞ্জিনিয়ারিং করছেন, নির্বাচনের যে প্রক্রিয়া, সেটাতে তারা (সরকার) যে ক্রিয়াশীল– এটাতে তা স্পষ্ট। সেখানে কী করব সেটা আপিল প্রক্রিয়া শেষ হলে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে রোববার দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রেপ্তার হওয়া নেতা-কর্মীদের তালিকা তুলে ধরেন রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপিকা সাহিদা রফিক, কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, মাশুকুর রহমান, শাহজাহান সম্রাট।