যমুনা, যুগান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা

58

সবুজ সিলেট ডেস্ক
ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া যমুনা টেলিভিশন-যুগান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের অবস্থানরত হোটেলে ব্যাপক হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা। হামলায় প্রায় ১০-১২ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নবাবগঞ্জের শামীম গেস্ট হাউসে তারা এ হামলা চালায়। এছাড়া হোটেলের নিচে থাকা ১৬টি গণমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুর করেছে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা। ভাঙচুর করা হয় হোটেলের আসবাবপত্রও।

এ সময় হোটেলে অবস্থানরত সাংবাদিকদের প্রায় ঘণ্টাখানেক অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে, আইনশৃঙখলা বাহিনীকে হামলার ঘটনা জানানো হলেও হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিবেদক সুশান্ত সিনহা।

এ ঘটনার পর থেকে যুগান্তরের ধামরাই প্রতিনিধি শামীম খান নিখোঁজ রয়েছেন। তার ব্যবহারকৃত তিনটি মোবাইল নাম্বারই বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিবেদক সুশান্ত সিনহা বলেন, অতর্কিত ৩০-৩৫ জন সশস্ত্র যুবলীগ-ছাত্রলীগের কর্মীরা আমাদের হোটেলে হামলা চালায়। আমরা থানা নির্বাহী অফিসার, পুলিশের ওসিকে জানালেও কোনো ধরনের সাড়া পাইনি। গণমাধ্যমকর্মীরাই যদি এভাবে আক্রান্ত হন, তাহলে এখানে সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা কোথায়?

এ ঘটনায় যুগান্তররের স্টাফ রিপোর্টার ইয়াসিন জানান, আমরা কয়েকজন চা খাওয়ার জন্য হোটেল থেকে নিচে নামতে যাই। এ সময় সিঁড়ি থেকেই শোনা যায় নিচে হট্টগোলের শব্দ। আমরা প্রথমে মনে করেছি আরও নতুন কোনো সাংবাদিক হয়তো হোটেলে আসছে তাদের জন্যই এই হট্টগোল। তিনি জানান, কিন্তু একটু নিচে গিয়ে দেখি রড, হকিস্টিক ও দেশীয় অস্ত্রসহ মুখোশপরা কয়েকজন যুবক উপরের দিকে হামলার জন্য আসছে। আমরা তাৎক্ষণাৎ সেখান থেকে দৌঁড়ে উপরে উঠে যায়। এরপর যুবলীগ-ছাত্রলীগের কর্মীরা প্রায় ঘণ্টাখানেক হামলা-ভাঙচুর চালায়। এ সময় আমাদের ১০-১২ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

হামলার প্রায় ঘন্টাখানেক পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নবাবগঞ্জ থানার সাব-ইন্সপেক্টর কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, হামলাকারীরা যে প্রার্থী বা দলের সমর্থক হোক না কেনো তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একাধিকবার চেষ্টা করেও ওসি’র কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি এমন অভিযোগের জবাবে কামরুল ইসলাম বলেন, তিনি সম্ভবত মিটিংয়ে ছিলেন।