জাতীয় পার্টি সরকারি না বিরোধী দলে, সিদ্ধান্ত বুধবার

49

সবুজ সিলেট ডেস্ক
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটে অংশ নিয়ে জয় পেয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। তবে নির্বাচনের পর তারা সরকারি দলে নাকি বিরোধে দলে থাকবে সে সম্পর্কে বুধবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা।

মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) সকালে এক ব্রিফিংয়ে রাঙ্গা বলেন, বুধবার বৈঠকের পর জাতীয় পার্টি সিদ্ধান্ত নেবে তারা সরকারি, না বিরোধী দলে থাকবে।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি জোটবদ্ধ হয়। সরকার গঠন করে একসঙ্গেই। তবে ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনের আগে এই জোট ভেঙে যায়। বিএনপি-জামায়াত জোটের বর্জনের মুখে ভোটে আসে দলটির একাংশ। আর সংসদে প্রধান বিরোধী দল হয় জাতীয় পার্টি। আবার সরকারেও যোগ দেয়।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৬ এবং নৌকা নিয়ে জোটের শরিকরা আরো ১০টি আসন পেয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জাতীয় পার্টি পেয়েছে ২২টি আসন। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পেয়েছে সাতটি আসন। ফলে তাদের সংসদে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার সম্ভাবনাও নেই।

এবার ভোটে জাতীয় পার্টি জিতেছে কেবল যেসব আসনে আওয়ামী লীগ তাদেরকে ছাড় দিয়েছে। যেখানে দুই দলের প্রার্থীই লড়াই করেছে, তার প্রতিটাতেই ধরাশায়ী হয়েছেন লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীরা। খুলনা-১ আসনে হেলে জাতীয় পার্টির সুনীল শুভ রায় একে প্রহসনের নির্বাচন বলেছেন।

ভোট নিয়ে এরশাদের মূল্যায়ন জানতে চাইলে জাপা মহাসচিব বলেন, নির্বাচনে যেটা হয়ে গেছে, সেটা হয়েই গেছে। না মেনে নিয়ে বিদ্রোহ করার মতো জিনিস তো নয়। তিনি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছেন।

এবারের নির্বাচনের আগে এরশাদের ভূমিকা কী হবে বরাবরের মতোই আলোচনার তুঙ্গে ছিল বিষয়টি। ভোটের প্রচার না চালিয়ে জাপা চেয়ারম্যান বেশিরভাগ সময় ছিলেন সিঙ্গাপুরে। এর আগে দুই দফা ভর্তি হয়েছেন সিএমএইচে। এরশাদ এখন কেমন আছেন- জানতে চাইলে রাঙ্গাঁ বলেন, এখন অনেকটাই স্বাভাবিক।

এরশাদ আবার সিঙ্গাপুরে যেতে পারেন কি না- জানতে চাইলে জবাব আসে, উনি যদি অসুস্থতা অনুভব করলে যেতে পারেন। আর না করলে যাবেন না। সিঙ্গাপুরে তাকে যে ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়েছে সেটা যদি স্বাভাবিক হয়, সে ট্রিটমেন্টে যদি ভালো থাকে তবে তাকে আর সিঙ্গাপুরে যেতে হবে না।

একাদশ সংসদে দেখা যাবে এরশাদ, রওশন, কাদেরকে: একাদশ সংসদে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, তার স্ত্রী দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ ও ছোট ভাই জি এম কাদেরকে এমপি হিসেবে দেখা যাবে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও রওশন এরশাদ দশম সংসদে থাকলেও ছিলেন না জি এম কাদের। পাঁচ বছর পর তিনি আবারো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন। ফলে, একাদশ সংসদে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পরিবারের তিন সদস্যই থাকছেন।

মহাজোটের বাইরে গিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বরিশাল-৩ আসনে গোলাম কিবরিয়া টিপু। মহাজোটের হায়ে ২১ আসনে বিজয়ী জাপা নেতারা হলেন- রংপুর-৩ আসনে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ময়মন‌সিংহ-৪ আসনে কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, লালম‌নির হাট-৩ আসনে দলের কো চেয়ারম্যান জি এম কাদের, চট্টগ্রাম-৫ আসনে দলের জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যা‌রিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রংপুর-১ আসনে দলের মহাসচিব ম‌সিউর রহমান রাঙ্গা, ঢাকা-৬ আসনে প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, ঢাকা-৪ আসনে প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু, ময়মন‌সিংহ-৮ আসনে প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম, ব‌রিশাল-৩ আসনে প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিব‌রিয়া টিপু, ব‌রিশাল-৬ আসনে প্রেসিডিয়াম সদস্য নাস‌রিন জাহান রত্না, ফেনী-৩ আসনে আলোচিত সেনা কর্মকর্তা ও এরশাদের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসউদ উদ্দিন চৌধুরী, গাইবান্ধা-১ আসনে প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যা‌রিস্টার শা‌মিম হায়দার পাটোয়ারী, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে প্রেসিডিয়াম সদস্য সে‌লিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা, পি‌রোজপুর-৩ আসনে প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী, বগুড়া-২ আসনে শ‌রিফুল ইসলাম জিন্নাহ, নীলফামারী-৩ আসনে অবসরপ্রাপ্ত ‌মেজর রানা মোহাম্মদ সো‌হেল, নীলফামারী-৪ আসনে আহসান আদেলুর রহমান, কু‌ড়িগ্রাম-২ আসনে প‌নির উদ্দিন আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৪ পীর ফজলুর রহমান মেজবাহ ও বগুড়া-৩ আসনে নুরুল ইসলাম তালুকদার।
-সবুজ সিলেট/এসবি