বিপিএলে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে সিলেটের প্রথম জয়

11

স্পোর্টস রিপোর্টার
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সপ্তম ম্যাচে গতকাল বুধবার মিরপুর শের-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল চিটাগং ভাইকিংস ও সিলেট সিক্সার্স। শ্বাসরুদ্ধকর এই ম্যাচে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে ডেভিড ওয়ার্নারের সিলেট। টসে জিতে ব্যাট হাতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান করে সিলেট। ১৬৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শেষ বল পর্যন্ত দারুণ লড়াই করে হার মানতে হয় মুশফিকুর রহিমের চিটাগং ভাইকিংসকে।
গতকাল বুধবার মিরপুরে ওয়ার্নার-পুরানের জোড়া হাফ সেঞ্চুরি ও আফিফ হোসেনের ৪৫ রানে ভর করে ১৬৮ রানের লড়াকু সংগ্রহ গড়ে সিলেট। জবাবে তাসকিন-কাপালিদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৬৩ রানের বেশি করতে পারেনি মুশফিকুর রহিমের দল চিটাগং ভাইকিংস।
১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তেড়েফুঁড়েই শুরু করেছিলেন চিটাগং ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ। ইনিংসের প্রথম বলে তাসকিন আহমেদকে ছক্কা হাঁকান এই আফগান ব্যাটসম্যান। তবে তিন বলের ব্যবধানে তাকে সাজঘরে ফেরান তাসকিন। শুরুর ধাক্কা সামলে রানের চাকা সচল রাখেন ক্যামেরুন ডেলপোর্ট। অপর প্রান্তে তাকে সঙ্গ দেন মোহাম্মদ আশরাফুল।
দ্বিতীয় উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ৫৭ রানের জুটি। কিন্তু দলীয় ৬৩ রানে রান আউটের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন ২২ বলে ৩৮ রান করা ডেলপোর্ট। পরের ওভারে আশরাফুলকে আউট করেন তাসকিন। আউট হওয়ার আগে ২৩ বলে ২২ রান আসে ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে।
মুশফিকুর রহিম ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মুশফিককে ৫ ও মোসাদ্দেককে ৭ রানে থামান সিলেটের ছেলে অলক কাপালি। এরপর রবি ফ্রাইলিঙ্ককে নিয়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন সিকান্দার রাজা। কিন্তু সেই চেষ্টাও সফল হতে দেননি তাসকিন। ৩৭ রান করা রাজাকে নিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত করেন ডানহাতি এই পেসার। পরের বলেই ফেরান নাঈম হাসানকে। ২৪ বলে ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেও দলকে জয় এনে দিতে পারেননি ফ্রাইলিঙ্ক। সিলেটের পক্ষে ৪ উইকেট নেন তাসকিন। ৪ ওভারে তিনি দেন ২৮ রান। এছাড়া অলক কাপালি নিয়েছেন ২ উইকেট।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় সিলেট। স্কোরকার্ডে মাত্র ৬ রান যোগ করতেই সাজঘরে ফেরেন টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান। এই ম্যাচ দিয়ে লম্বা সময় পর মাঠে ফেরা নাসির হোসেন ৩ রানে ফিরলেও লিটন দাস ও সাব্বির রহমান রানের খাতাই খুলতে পারেননি।
এরপর দলের হাল ধরেন অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার ও আফিফ হোসেন ধ্রুব। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ৭১ রানের জুটি। ২৮ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন আফিফ। এরপর ওয়ার্নারের সঙ্গে যোগ দেন নিকোলাস পুরান। পঞ্চম উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ৭০ রানের জুটি।
এই জুটি গড়ার পথে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ওয়ার্নার। শেষ পর্যন্ত ৪৭ বলে ২টি চার ও একটি ছক্কায় ৫৯ রানে থামেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। এরপর যেন আরও তেতে ওঠেন পুরান। শেষ দিকে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। ৩২ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন উইন্ডিজের বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।
চিটাগংয়ের পক্ষে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন রবি ফ্রাইলিঙ্ক। এছাড়া নাঈম হাসান ও খালেদ আহমেদ নেন একটি করে উইকেট।