এক ক্লিকে সবুজ সিলেট পত্রিকার সব সংবাদ

31

তরুণদের কর্মসংস্থানের
সুযোগ সৃষ্টি খুব জরুরি
রাষ্ট্রপতি
সবুজ সিলেট ডেস্ক
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ হাজার হাজার মেধাবী তরুণদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর হাজার হাজার মেধাবী তরুণ-তরুণী সাফল্যের সাথে উচ্চশিক্ষা শেষ করে। তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি খুব জরুরি এবং এক্ষেত্রে আপনাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।’
গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র সংলগ্ন চত্বরে ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ-২০১৯) উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তুলনামূলক সুযোগ-সুবিধা ও স্থানীয় সামর্থ্যরে ভিত্তিতে নতুন শিল্প ও কলকারখানা স্থাপনের উপর গূরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগে সহায়তা করবে।’
রাষ্ট্রপতি অগ্রগতির নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী সরকারের সমুদ্রভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন (ব¬ু- ইকোনমি) কার্যক্রমের উলে¬খ করে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারিদের ‘ব¬ু-ইকোনমি’র সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহবান জানান।
তিনি বাণিজ্য সম্প্রসারণে সংশি¬ষ্টদের বিশেষায়িত জ্ঞানের প্রতি মনযোগী হওয়া, নতুন বাজার সৃষ্টি ও পণ্যের বহুমূখীকরনের আহবান জানান।
হামিদ বলেন, ‘পণ্যের মান উন্নয়নের পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পণ্যের ব্র্যান্ডিং এবং সেগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার ব্যাপারে আপনাদের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে।’
তিনি পাট-ভিত্তিক বিভিন্ন পণ্য, খাদ্য, হিমায়িত খাদ্য, হিমায়িত চিংড়ি, আম, আলুসহ অন্যান্য কৃষিভিত্তিক সামগ্রীর রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান।
বিশ্ববাজারে স্থানীয় দেশীয় পণ্যের প্রসারের বিষয়টি উলে¬খ করে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, বিশ্বের ২০২টি দেশে পণ্যসামগ্রী রপ্তানি করে বাংলাদেশের ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১ মিলিয়ন ডলার।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও অর্থনীতির দ্রুত উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ) গূরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরে, রাষ্ট্রপতি মাসব্যাপী ‘ডিআইটিএফ-২০১৯’ উদ্বোধন করেন। তিনি কয়েকটি স্টল ও প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখেন।
বাণিজ্য মন্ত্রনালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে। গতকাল থেকে শুরু হওয়া মাসব্যাপী এ মেলা ৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত মেলা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এ বারের বাণিজ্য মেলায় ৬০টি প্রিমিয়াম প্যাভিলিয়ন, ৩৮টি প্রিমিয়াম মিনি প্যাভিলিয়ন, নারীদের জন্য সংরক্ষিত ২০টি প্যাভিলিয়ন, ২৬টি বিদেশি প্যাভিলিয়ন ১৮টি সাধারণ প্যাভিলিয়ন ও ২২টি খাবারের স্টলসহ মোট ৫৫০টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন রয়েছে।
ভারত, ভুটান, পাকিস্তান, চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, হংকং, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালদ্বীপ, মৌরিশাস, রাশিয়া, ইরান, সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশগ্রহন করছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি এমপি, বানিজ্য সচিব এম. মফিজুল ইসলাম, এফবিসিসিআই সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, দেশি ও বিদেশি ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ বঙ্গভবনের সংশি¬ষ্ট সচিববৃন্দ এবং উর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীকে
আরো কয়েক
দেশের অভিনন্দন
সবুজ সিলেট ডেস্ক
চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে সিঙ্গাপুর, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, নিকারাগুয়া, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো অব্যাহত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গতকাল জানান, ‘সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লী সিয়েন লুং চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন।’
তিনি বলেন, বার্তায় সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনগুলোতে দু’দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরো জোরদার হবে।
লী লুং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্য এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
প্রেস সচিব জানান, নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট দানিয়েল ওর্তেগা চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনগুলোতে দু’দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরো জোরদার হবে।
এছাড়া মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহও চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন।
বার্তায় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট শেখ হাসিনার সাফল্য এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
প্রেস সচিব জানান, এছাড়া মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী গুঁয়েন চুয়ান ফাক পৃথক পৃথক বার্তায় চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।

সংরক্ষিত আসনে
আসছে নতুন মুখ
সবুজ সিলেট ডেস্ক
এবারের সংসদে বিগত দশম সংসদের সংরক্ষিত আসনের আওয়ামী লীগের এমপিদের মধ্যে তেমন কেউই থাকছেন না। জেলা কোটা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত এবং বিভিন্ন সেক্টরে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে, এমন নারীরা একাদশ সংসদের সংরক্ষিত আসনের জন্য বিবেচিত হবেন। পাশাপাশি দলের জন্য কাজ করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত যেসব পরিবারের পুরুষ সদস্যরা লাভজনক পদে নেই, সেসব পরিবারের নারীরাও এ পদের জন্য বিবেচিত হবেন।
আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, যেসব জেলা থেকে দীর্ঘদিন সংরক্ষিত মহিলা আসনে কেউ এমপি ছিলেন না, সেসব জেলার মহিলা, যুব মহিলা বা সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রীদের কারো কারো কপাল খুলতে পারে। কপাল খুলতে পারে অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র জগতের দুই-একজনেরও। আর সাবেক এমপি, কিন্তু পরবর্তীতে আর মনোনয়ন পাননি অথচ দলের জন্য অবদান আছে বা ভালো ইমেজ আছে, তাদের সংরক্ষিত আসনে এমপি বানানো হতে পারে। এ পদে আসতে পারে বিভিন্ন পেশাজীবী থেকেও দুই-একজন। তবে, যেখান থেকেই সংরক্ষিত আসনের এমপি হোন, দলের জন্য তাদের থাকতে হবে ত্যাগ, দুঃসময়ে দলের জন্য অবদান। পাশাপাশি তাদের হতে হবে জনঘনিষ্ঠ এবং হতে হবে ভালো ইমেজের।
ক্ষমতাসীন দলের একাধিক সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি নির্বাচনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার আলোচনা আছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি প্রথম অধিবেশন শুরুর ৭ দিনের মধ্যেই সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়ন ফরম জমা থেকে শুরু করে নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত ১০ দিন সময় বেঁধে দিয়ে এ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হতে পারে।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি নির্বাচনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়নি। তবে, দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানা সূত্রে এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছেন বলে জানা যায়।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘পূর্বে যেসব জেলা সংরক্ষিত এমপি থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সেসব জেলা থেকে সংরক্ষিত আসনে এমপি মনোনয়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলেই আমরা দল মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করব।’
প্রসঙ্গত, প্রতি ৬টি আসনের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী এমপি করার বিধান রয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের মোট আসন ২৮৭টি। এর মধ্যে একক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২৫৬টি আসন। জোটগত হিসাবে ক্ষমতাসীনদের ৫০টি সংরক্ষিত মহিলা সদস্যের মধ্যে প্রাপ্ত আসন দাঁড়ায় ৪৮টি, আর দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগ পায় ৪৩টি। আবার মহাজোটে জাতীয় পার্টিকে ২২টি আসনের বিপরীতে ৪টি দিয়ে ১৪ দলের শরিকদের নিয়ে আওয়ামী লীগের হাতে থাকে ৪৪টি আসন। মহাজোটের অন্য দলগুলোর কোনওটিই এককভাবে ৬টি আসন না পাওয়ায় তারা কেউ সংরক্ষিত আসনে মহিলা এমপির মনোনয়ন দিতে পারবে না।
উলে¬খ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২২ জন নারী সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ ১৯ জনই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকে। জাতীয় পার্টি থেকে দুজন এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে একজন নির্বাচিত হয়েছেন। গত দশম জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত নারী এমপি ছিলেন ২৩ জন।

সংরক্ষিত আসনের
নির্বাচন যে প্রক্রিয়ায়
সবুজ সিলেট ডেস্ক
আইন অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। গত ১ জানুয়ারি গেজেট হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের। এ হিসাবে আগামী ১ এপ্রিলের মধ্যে সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের ভোট করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি)।
জানা গেছে, আগামী মার্চের মধ্যে ভোট করার প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। অবশ্য সংসদ সদস্যদের ভোটে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণের নজির এখন পর্যন্ত নেই।
সংবিধান অনুসারে বর্তমানে ৫০টি সংরক্ষিত মহিলা আসন রয়েছে। সংসদের আসনের সংখ্যানুপাতে নির্ধারিত এই মহিলা আসনে রাজনৈতিক দল বা জোটগুলো তাদের নির্ধারিত আসনের জন্য একক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ায় তারা বিনা ভোটে নির্বাচিত হন।
জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনের মতো সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার প্রয়োজন পড়লেও ভোটার ও আসনবণ্টনসহ কমিশনকে এই নির্বাচনের নানা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এ বিষয়টি জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এই আইন অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে যারা শপথ গ্রহণ করেছেন তাদের তথ্য তিন কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ সচিবালয়ে নির্বাচন কমিশনে পাঠাবে। আর নির্বাচিতদের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের পরবর্তী ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে দল বা জোটগুলো বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের জোটের অবস্থান নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে। এদিকে গেজেট হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচনের উদ্দেশে নির্বাচন কমিশন সাধারণ আসনে নির্বাচিত সদস্যদের রাজনৈতিক দল বা জোটওয়ারী সদস্যদের পৃথক পৃথক তালিকা প্রস্তুত করবে। সে অনুযায়ী একাদশ সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠানে আগামী ৩০ জানুয়ারির মধ্যে দলগুলোকে ইসিতে জোটের তথ্য এবং ইসিকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তালিকা প্রস্তুত করবে।
তালিকা প্রস্তুতের পরের কার্যদিবসে অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি সেই তালিকা নির্বাচন কমিশনে প্রকাশ্য কোনও স্থানে টাঙিয়ে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে সংসদ সচিবালয়কে সেই তালিকার প্রত্যায়িত কপি পাঠিয়ে তা টাঙানোর জন্য বলবে। নির্বাচনের আগে সেই তালিকার আর কোনও পরিবর্তন করা যাবে না। তবে কোনও করণিক ভুল হলে নির্বাচন কমিশন তা সংশোধন করতে পারবে।
আসনবণ্টন বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যদের জন্য কোনও নির্ধারিত নির্বাচনি এলাকা নেই। তারা কেবল দলীয় বা জোটের সদস্য হিসেবে পরিচিত হবে। এক্ষেত্রে দল বা জোটের প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে মহিলা আসন বণ্টিত হবে।
সংবিধান অনুসারে বর্তমানে সংরক্ষিত মহিলা আসন সংখ্যা ৫০। এই ৫০ সংখ্যাকে ৩০০ (দেশের নির্বাচনি এলাকা) দিয়ে ভাগ করলে যে ভাগফল পাওয়া যাবে তাকে কোনও দল বা জোটের যে সংখ্যক সদস্য শপথ নিয়েছেন তা দিয়ে গুণ করলে যে ফল পাওয়া যাবে, সেই সংখ্যক মহিলা সদস্য হবে ওই দল বা জোটের। গুণফল ভগ্নাংশ হলে সেক্ষেত্রে শূন্য দশমিক ৫ বা তার থেকে বেশি সংখ্যকের জন্য একটি আসন পাওয়া যাবে। অবশ্য এক্ষেত্রে বণ্টিত আসন সংখ্যা মোট আসনের থেকে বেড়ে গেলে ভগ্নাংশের হিসাবে হেরফের হতে পারে। আইনে কোনও কোনও ক্ষেত্রে লটারির বিধানও রয়েছে।
উহাদরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, এবার জাতীয় পার্টি সংসদে ২২টি আসন পেয়েছে। এই হিসাবে এ দলটির ৪টি সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পাওয়ার কথা। ৫০স্ট৩০০ = ০.১৬৬৭। এরপর ২২*০.১৬৬৭= ৩.৬৭।
এই হিসাবে আওয়ামী লীগ এককভাবে ৪৩ জন মহিলা সংসদ সদস্য পওয়ার কথা। অবশ্য অন্য কোনও দল বা স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হলে এই সংখ্যা বেড়ে যাবে।
এদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের মিত্র গণফোরাম ৮টি আসনে বিজয়ী হয়ে সংরক্ষিত আসনে একজন মহিলা সংসদ সদস্য পাওয়ার কথা। তবে, এই দলটির সদস্যরা এখনও শপথ গ্রহণ না করায় তাদের ক্ষেত্রে আপাতত এটি প্রযোজ্য হবে না। এক্ষেত্রে আসনবণ্টনে বিএনপি যে সংখ্যক মহিলা সদস্য পাওয়ার কথা, সেগুলো বাদ রেখে অন্যগুলোতে ভোট হবে।
আইন অনুযায়ী শপথ নেওয়া সংসদ সদস্যরাই সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে ভোটার হবেন এবং এই ভোটাররা কেবল নিজেদের দলের প্রাপ্ত আনুপাতিক আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য ভোট দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে বণ্টিত আসনে একক প্রার্থী হলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়বে না। কিন্তু বণ্টিত আসনের তুলনায় ওই দল বা জোটের প্রার্থী বেশি হলে ভোট নিতে হবে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীরাই নির্বাচিত বলে গণ্য হবেন। অবশ্য এমন ভোটের নজির এখনও দেখা যায়নি।
তফসিল জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন আইন-২০০৪ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের মতো সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করতে হয়। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কোনও কর্মকর্তা রিটার্নিং অফিসার নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। নির্বাচন কমিশন জোটের তালিকা প্রকাশ্যে টানানোর পর এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ করবে। একইসঙ্গে মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই ও ভোটের দিন ঘোষণা করবে। এছাড়া ভোটগ্রহণের স্থান নির্ধারণ করবে। ভোটের প্রয়োজন পড়লে সংসদ ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলে জানান নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহম্মদ খান।
তবে এ নির্বাচনের জন্য অধিবেশনের প্রয়োজন নেই। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদ অধিবেশন চলমান থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনের ক্ষেত্রে তা নেই। অধিবেশন চলুক বা না চলুক কোনও সমস্যা নেই। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংসদ অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও সংরক্ষিত আসনের ভোট অধিবেশন কক্ষের বাইরে সংসদ সচিবালয়ের যেকোনও স্থানে হতে পারে।
এদিকে কোনও দল বা জোট যদি তাদের প্রাপ্য মহিলা সংসদ সদস্যপদে প্রার্থী না দেয় বা প্রাপ্য আসনের তুলনায় কম দেয় সেক্ষেত্রে ওই আসনগুলোতে সরাসরি ভোটের প্রয়োজন পড়বে। তবে এ ক্ষেত্রে দলভিত্তিক কোনও বণ্টন হবে না। সব দল বা জোট প্রার্থী দিতে পারবে।
গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১ জানুয়ারি নবনির্বাচিতদের গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে ইসি। এতে ২৯৮ জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নাম ঠিকানাসহ প্রকাশ করা হয়। এরপর ৩ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ২৮৮ জন ও ৫ জানুয়ারি ২ জন সদস্য শপথ নেন। বিএনপির ৫ জন ও গণফোরামের ২ জন এখনও শপথ নেননি। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম শপথ নেওয়ার জন্য সময় চাইলেও তিনি ৩ জানুয়ারি রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে অনিয়মের কারণে স্থগিত তিন কেন্দ্রে ৯ জানুয়ারি ভোট নেওয়া শেষে ধানের শীষের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
অন্যদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৩ আসনের এক প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় সেখানে আগামী ২৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ করা হবে। ঈসয়দ আশরাফের মৃত্যুতে একটি আসন শূন্য হওয়ার প্রেক্ষাপটে বর্তমানে ২৯৮ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৫৬টি আসন, জাতীয় পার্টি ২২টি আসন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ ২টি আসন, ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি আসন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ২টি আসন, জাতীয় পার্টি-জেপি একটি আসন এবং বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন একটি আসন পেয়েছে। মহাজোট মোট ২৮৮টি আসন পেয়েছিল, তবে বর্তমানে এই সংখ্যা ২৮৭। অন্যদিকে বিএনপি ৬টি ও গণফোরাম ২টি আসন পেয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মোট ৮টি আসন পেয়েছে। আর স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত হয়েছেন তিন প্রার্থী।

মানুষের আস্থার মূল্যায়ন
করা হবে : প্রধানমন্ত্রী
সবুজ সিলেট ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের প্রতি যে দৃঢ় আস্থা রেখেছে তার পরিপূর্ণ মূল্যায়ন করা হবে।
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে বুধবার দেয়া এক বাণীতে তিনি একথা বলেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের এই উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করে জাতির পিতার ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে ১০ জানুয়ারি এক ঐতিহাসিক দিন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৭০ এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক জান্তা জনগণের এ রায়কে উপেক্ষা করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখে। তারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে শুরু করে প্রহসন। বাঙালির ওপর নেমে আসে ইতিহাসের নির্মম গণহত্যা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির চূড়ান্ত মুক্তির লক্ষ্যে জাতির পিতা ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের জনসমুদ্রে ঘোষণা করেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম; এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ ২৫-এ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। বঙ্গবন্ধু ২৬-এ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করার পরপরই পাকিস্তানি বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানের নির্জন কারাগারে প্রেরণ করে। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস নিভৃত কারাগারে তিনি অসহনীয় নির্যাতনের শিকার হন। প্রহসনের বিচারে ফাঁসির আসামি হিসেবে তিনি মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকেন। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তিনি বাঙালির জয়গান গেয়েছেন। জাতির পিতা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণশক্তি। তার অবিসংবাদিত নেতৃত্বে বাঙালি জাতি মরণপণ যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে আনে। পরাজিত পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাধ্য হয় বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে।
জাতির পিতা ১৯৭২’র ১০ জানুয়ারি বাংলার মাটিতে ফিরে আসেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ঐদিন তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বিশাল জনসমুদ্রে এক ভাষণে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি সামরিক জান্তার নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দেন। বাঙালি জাতি ফিরে পায় জাতির পিতাকে। বাঙালির বিজয় পূর্ণতা লাভ করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সদস্যদের দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বন্ধু দেশসমূহ দ্রুত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে ওআইসির সদস্য হয়। বঙ্গবন্ধুর ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্বে অতি অল্পদিনের মধ্যেই বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান তৈরি হয়।
তিনি বলেন, ‘আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করছি। মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মাদক নির্মূলে আমাদের সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করে যাচ্ছে। আমরাই বিশ্বে প্রথম শত বছরের ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ বাস্তবায়ন শুরু করেছি। অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বের ৫টি দেশের একটি বাংলাদেশ। উন্নয়নের ৯০ ভাগ কাজই নিজস্ব অর্থায়নে করছি।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য পরিচালনা এবং বিচারের রায় কার্যকর করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ।’ প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

বিয়ানীবাজার কলেজছাত্র
হত্যার আসামি আটক
বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি
বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. হোসেন উদ্দিন হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি সুমন আহমদকে আটক করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বড়লেখা উপজেলার মোহাম্মদনগরে এলাকাবাসী তাকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ সুমনকে বিয়ানীবাজার থানায় নিয়ে আসে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘাতক সুমন আহমদ (১৮) বিয়ানীবাজার পৌরশহরের নিদনপুর এলাকার মুহিব আলীর পুত্র।
গত ৩ ডিসেম্বর কলেজ ছাত্র মো. হোসন আহমদকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে সুমন। ঘটনার পর থেকেই সে আত্ম গোপনে চলে যায়।
গতকাল বুধবার নিহত হোসেনের পরিবারে সদস্যরা তার পিছু নেন। এসময় মোটরসাইকেল যোগে তার এক মামার সাথে দ্রুত সীমান্তবর্তী বোবা এলাকা ত্যাগ করে এবং তাদের ধাওয়ায় সে মোহাম্মদনগর গ্রামের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এসময় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাকে ঐ বাড়িতে আটক করে রাখা হয়। খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে এবং গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
বিয়ানীবাজার থানার ওসি (তদন্ত) জাহিদুল ইসলাম বলেন, হোসেন হত্যা মামলার একমাত্র আসামি সুমন। থানায় অভিযোগ দায়ের পর থেকেই পুলিশ থাকে আটক করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। কিন্তু সে ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। সকালে তাকে বড়লেখায় এলাকাবাসী আটক করেছে খবর পেয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক মহসিন আহমদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাকে আটক করে বিয়ানীবাজার থানায় নিয়ে আসেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ ডিসেম্বর বিকাল ৩টার দিকে বিয়ানীবাজার পৌরসভার নিদনপুর গ্রামের প্রবাসী কমর উদ্দিনের পুত্র ফাহিম আহমদ (১০) বাইসাইকেল নিয়ে রাস্তায় বের হলে তাকে লাথি দেয় একই এলাকার সুমন আহমদ। একই সময়ে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এ ঘটনা দেখে প্রতিবাদ করলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শিক্ষার্থী হোসেন উদ্দিনের মাথা লক্ষ করে ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে সুমন। এতে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান হোসেন। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তার শারিরীক অবস্থা অবনতি হওয়া পরে সিলেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ঐ দিনই বিয়ানীবাজার থানায় ঘাতক সুমনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে নিহত কলেজ শিক্ষার্থী হোসেনের পরিবার। নিহত কলেজ শিক্ষার্থী মো. হোসেন উদ্দিন (১৭) পৌরশহরের নিদনপুর এলাকার ছমির উদ্দিনের পুত্র। সে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

বরইকান্দিতে
শিক্ষার্থীদের
স্কুলড্রেস প্রদান
দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বরইকান্দি ইউনিয়নে এলজিএসপি ৩- ২০১৭-১৮ অর্থবছরের আওতায় ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও ১টি হাইস্কুলে অসহায় গরিব মেধাবী ৮শ জন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে স্কুলড্রেস বিতরণ ও বৃক্ষরোপনের লক্ষ্যে গাছের চারা এবং বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে সরঞ্জামাদি প্রদান করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার বেলা ২টায় ইউনিয়ন পরিষদ হলে পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিব হোসেনের সভাপতিত্বে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অঞ্জলী দেব অলি এবং ২নং ওয়ার্ড সদস্য এহসানুল হক ছানুর যৌথ সঞ্চালনায় সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান হাবিব হোসেন বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সুন্দর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন হজরত শাহ চান্দে আলী উচ্চবিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ ইকবাল হোসেন, প্রধান শিক্ষক অরবিন্দু সরকার, জালালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমিতা দত্ত কানুনগো, চান্দাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিল্পী দাস, সহকারী শিক্ষক বিদ্যুৎ দাস, ১নং ওয়ার্ড সদস্য আশিকুর রহমান আশিক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসরাইল আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহিমা বেগম, লাউয়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিলা চক্রবর্তী, তালুকদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ্মা রানী দে, মহালক্ষি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামসুন্নাহার, ইসরাইল আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিজয়া রানী কর, লাউয়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মৌসুমী দাস, তালুকদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আসমা বেগম, ৩নং ওয়ার্ড সদস্য শরীফ আহমদ, ৪নং ওয়ার্ড সদস্য এনাম উদ্দিন, ৫নং ওয়ার্ড সদস্য জাবেদ আহমদ, ৭নং ওয়ার্ড সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মাসুম, ৮নং ওয়ার্ড সদস্য মো. লয়লু মিয়া, ৯নং ওয়ার্ড সদস্য মো. কামাল উদ্দিন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মাহমুদা ইসলাম চৌধুরী, হোসনে আরা বেগম, মোছাম্মৎ রাজিয়া বেগম। শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন ৬নং ওয়ার্ড সদস্য সৈয়দ মুমিনুর রহমান সুমিত। বিজ্ঞপ্তি

জগন্নাথপুরে সৈয়দ আশরাফ
স্মরণে সভা ও দুআ মাহফিল
জগন্নাথপুর প্রতিনিধি
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলমের স্মরণে জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আলোচনাসভা ও দুআ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতা সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিদ্দিক আহমদ বলেন, প্রয়াত জাতীয় নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছিলেন নির্লোভ পরিচ্ছন্ন রাজনীতির অগ্রপথিক, আওয়ামী লীগ রাজনীতির নিবেদিতপ্রাণ তার শূন্যতা পূরণ হবার নয়।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আনহার মিয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজুর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম মুশাহিদ, আব্দুল মালিক,সাংগঠনিক সম্পাদক জয়দ্বীপ সূত্র ধর বীরেন্দ্র, স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মসহুদ আহমদ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মো. আফু মিয়া সাবেক সহসভাপতি চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বকুল, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ইকবাল হোসেন ভূইয়া, পৌর কাউন্সিলর মো. আবাব মিয়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শুকুর আলী ভূইয়া,প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. আব্দুল হাই, কলকলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সধারান সম্পাদক দিপাল কান্তি দে দিপাল, সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনোয়ার আলী, চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল গফুর, উপজেলা যুুবলীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান ভূইয়া এম. ফজরুল ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মুতাহির আলী, সহসভাপতি আকমল হোসেন, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন মুন্না, বকুল গোপ, স্বাস্থ সম্পাদক ইব্রাহিম আলী, যুবলীগ নেতা আনোয়া কুরেশী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কয়েছ মিয়া, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফরোজ ইসলাম মুন্না, সহসভাপতি কল্যাণ কান্তি রায় সানি, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মো. আব্দুল মুকিত হাসান আদিল মো. সুজেল মিয়া, স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রচার সম্পাদক আক্তার হোসেন প্রমূখ। পরে প্রয়াত জাতীয় নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মিলাদ ও দুআ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

গোলাপগঞ্জে বাস-অটোরিকশা
সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি
গোলাপগঞ্জের চৌঘরীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন সিএনজি অটোরিকশাযাত্রী জয়নুল ইসলাম (৪০) এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারাযান আল আমীন আহমদ (২০)। আহত হয়েছেন সিএনজি অটোরিকশাচালকসহ ৩ জন। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত জয়নুল ইসলামের বাড়ি জকিগঞ্জ উপজেলার শাহবাগ মুহিতপুর গ্রামে। তিনি কুটি মিয়ার ছেলে। আল আমীনের বাড়ি উপজেলার গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সরস্বতি গ্রামে। সে ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে। ঘটনার সংবাদ পেয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং ঘটনাস্থল থেকে যাত্রীবাহী বাস ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অটোরিকশা জব্দ করে।
গতকাল বুধবার বিকেল অনুমান ৪ টায় উপজেলার গোলাপগঞ্জ ইউপির সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের চৌঘরী এলাকায় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী বাস (সিলেট ব ১১-০০৪২) এবং সিলেটগামী সিএনজি অটোরিকশা (সিলেট থ ১২-৩৪৫৫) ঘটনাস্থলে আসামাত্র মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলে নিহত হন সিএনজি অটোরিকশাযাত্রী জয়নুল ইসলাম।
ঘটনার পর পরই যাত্রীবাহী বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) মো. দেলওয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি দুই যাত্রী নিহতের হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন।

আলোচনাসভায় বক্তারা
ডা. এমএ রকিব ছিলেন
মানবসেবায় মুকুটহীন স¤্রাট
‘একটি প্রবন্ধ পাঠের মাধ্যমে যিনি হাসপাতাল গড়ে তুলতে পারেন তার তুলনা অতুলনীয়। তিনি শিক্ষা জীবনে ছিলেন মেধাবী ছাত্র। তাঁনার মেধা আর প্রজ্ঞার বলয়ে তৈরি আজকের এ সিলেট ডায়াবেটিক হাসপাতাল; যেখানে সিলেট অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষ স্বল্প মূল্যে ও অবস্থা বিবেচনায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবাগ্রহণ করছেন। নীরব ঘাতক রোগ ডায়াবেটিসের হাত থেকে আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে সিলেট অঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল এর স্থপতি ছিলেন মানুষ গড়ার কারিগর। জনকল্যাণে ব্রত মহান এ ব্যক্তি ছিলেন মানব সেবায় মুকুটহীন স¤্রাট।’
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, সিলেট ডায়াবেটিক সমিতি ও সিলেট হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, অধ্যাপক ডা. এমএ রকিবের ১ম মৃত্যুবার্ষিকীতে সিলেট ডায়াবেটিক সমিতি আয়োজিত আলোচনাসভা ও দুআ মাহফিলে সভাপতির বক্তব্য প্রদানকালে সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ আহবাব এ কথাগুলো বলেন।
গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় সিলেট ডায়াবেটিক সমিতির সভাকক্ষে সিলেট ডায়াবেটিক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ললিত মোহন নাথের সঞ্চালনায় আলোচনাসভা ও দুআ মাহফিলের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সিলেট কালেক্টরেট মসজিদের পেশ ইমাম হাফিজ মাওলানা মো. শাহ আলম।
স্বাগত বক্তব্যে হাসপাতালের সুপারিনটেডেন্ট ডা. এ. জেড. মাহবুব আহমদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, অধ্যাপক ডা. এম. এ. রকিবের ব্যাপারে বলে শেষ করা যাবে না। জনকল্যাণমূলক কাজে তাঁনার অংশ গ্রহণ ছিল প্রশংসনীয়। তাঁর হাত ধরেই অনেক রোগের সফল চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে।
সমিতির কোষাধ্যক্ষ এম. এ. মান্নান সিলেট ডায়াবেটিক হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারী সকল রোগীর প্রতি উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা তাঁর কারণে স্বল্পমূল্যে ডায়াবেটিকসহ অন্যান্য রোগের চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক লোকমান আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, জনকল্যাণের জন্য তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। সিলেট ডায়াবেটিক হাসপাতাল তারই একটা অংশ। তিনি সিলেট ডায়াবেটিক হাসপাতালকে বুকে ধারণ করতেন সন্তানের মতো। যেহেতু তাঁর এ সন্তানের সুষ্ঠু পরিচালনার দায়ভার এখন আমাদের হাতে, তাই তাঁর এ সন্তানের উজ্জল ভবিষ্যত গড়ার লক্ষ্যে অধ্যাপক ডা. এম. এ. রকিবের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে গরিব রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে আমাদের সার্বিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়নের মাধ্যমে ডা. এমএ রকিবের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে। ।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সমিতির সহ-সভাপতি ডা. আলতাফুর রহমান, অ্যাডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক প্রদীপ কুমার ভট্টাচার্য্য, যুগ্ম-কোষাধ্যক্ষ শিবব্রত চন্দন ভৌমিক, কার্যকরী কমিটির সদস্য জামাল ইয়াকুব, সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী, ডা. শিব্বির আহমদ শিবলী, প্রকৌশলী আইয়ুব আলী, ডা. আজিজুর রহমান, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ. জেড. মাহবুব আহমদ, সম্মানিত জীবন সদস্য আলাউদ্দিন আহমদ মুক্তা।
আলোচনাসভা ও দুআ মাহফিলে হাসপাতালের ডাক্তারবৃন্দ, কর্মকর্তা-কার্মচারী, আগত রোগীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনাসভার শুরুতে মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয় এবং সভা শেষে অধ্যাপক ডা. এম. এ. রকিবের বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করে দুআ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দুআ মাহফিল পরিচালনা করেন কালেক্টরেট মসজিদের পেশ ইমাম হাফিজ মাওলানা মো. শাহ আলম।
এছাড়াও সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সিলেট ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে বিনামূল্যে ডায়াবেটিক সনাক্তকরণ ও রোটারি ক্লাব অব মেট্রোপলিটন, সিলেট-এর সহযোগিতায় ব্লাড গ্রুপিং ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসুচী অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্তিত ছিলেন সিলেট রেড ক্রিসেন্ট, মাতৃমঙ্গল হাসপাতাল ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রর পরিচালক ডা. সুধাময় মজুমদার, মুজিব জাহান রেড ক্রিসেন্ট রক্ত কেন্দ্রের জুনিয়র সহকারী পরিচালক কমল পদ পাল, সুজন দত্ত, শাহেদ আহমদ, অভিজিত রায়, জুয়েল মিয়া এবং রোটারি ক্লাব অব মেট্রোপলিটন, সিলেটের পক্ষে প্রেসিডেন্ট রোটা. আবু সুফিয়ান, এ্যাসিসটেন্ট গভর্ণর আজিজুর রহমান, প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট রোটা. আহসান আহমদ খাঁন, সাবেক প্রেসিডেন্ট রোটা. মোশারফ হোসেন জাহাঙ্গীর, রোটা. মইনুল ইসলাম চৌধুরী, রোটা. আসাদুজ্জামান রনি। রক্ত সংগহে সহযোগিতা করেন হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের পক্ষে অ্যাসিসট্যান্ট ডিস্ট্রিবিউশন অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম, ডিস্ট্রিবিউশন প্রতিনিধি মো. শফিকুল ইসলাম। বিজ্ঞপ্তি

রোভার স্কাউটসের
শীতবস্ত্র বিতরণ
বাংলাদেশ স্কাউটস্ সিলেট জেলা রোভার-এর উদ্যোগে গরিব ও অসহায় মানুষদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকালে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির পাঠানপাড়াস্থ জহির তাহির মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয়ে এই শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জেলা রোভার স্কাউটস-এর সম্পাদক ও সহযোগী অধ্যাপক মো. মুবশ্বির আলীর সভাপতিত্বে শীতবস্ত্র বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মো. আজম খান। সিলেট জেলা রোভার স্কাউটসের সহকারী কমিশনার তোফায়েল আহমদ তুহিনের পরিচালনায় শীতবস্ত্র বিতরণকালে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জহির তাহির মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আসাদ খান, প্রধান শিক্ষক তমাল কান্তি দেব, সিলেট জেলা রোভার স্কাউটসের কোষাধ্যক্ষ ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার, সহকারী কমিশনার সিরাজুল ইসলাম, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও ২৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ছয়েফ খান, কিশলয় কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক শমসের সিরাজ সুহেল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর মো. আজম খান বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। মানুষের বিপদে একজন এগিয়ে আসলে অন্যরা অনুপ্রাণিত হন। মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করে সবাই যদি মানবকল্যাণে এগিয়ে আসি, তবে সমাজের মধ্যে অসহায় এবং দুঃখী মানুষ থাকবে না। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন রোভার সাদিকুর রহমান।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মুক্ত মহাদলের আরএসএল মো. গালিব রহমান, সাবেক সিলেট বিভাগীয় সিনিয়র রোভার মেট শুকরান আহমদ রানা, সাবেক সিনিয়র জেলা প্রতিনিধি আলম আহমেদ, রোভার স্কাউটস সিলেট জেলা প্রতিনিধি রাহিম উদ্দিন রাহী, মোস্তাকিম আহমদ জিন্না, সালেহ আহমদ রনি, অলিউর রহমান ফরিদ, নজরুল ইসলাম, নাছিম আহমদ, নাবিল আহমদ, সুলেমান হোসাইন। বিজ্ঞপ্তি

ওসমানী হাসপাতালে স্ত্রীর লাশ
ফেলে পালালেন স্বামী
স্টাফ রিপোর্টার
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর লাশ ফেলে স্বামী পালিয়ে গেছেন।
গতকাল বুধবার সকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চম্পা রানী মালাকার নামের ওই গৃহবধূর লাশ দেখতে পান তার স্বজনরা। এ ঘটনায় জালালাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন চম্পার চাচি নিবু রানী মালাকার।
চম্পা রানী মালাকার দক্ষিণ সুরমার সদরখলা গ্রামের মৃত বিমল মালাকারের মেয়ে ও সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানার রাজারগাঁও হাটখোলা গ্রামের নকুল সূত্রধরের স্ত্রী।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৯ মাস পূর্বে রাজারগাঁও হাটখোলা গ্রামের মৃত রবিন্দ্র সূত্রধরের ছেলে নকুল সূত্রধরের সাথে চম্পার বিয়ে হয়। এরপর থেকে নকুল যৌতুকের দাবিতে সে চম্পাকে নির্যাতন করে আসছিল।
চম্পার ভাই উজ্জ্বল মালাকার জানান, গতকাল বুধবার ভোররাত ৪টার দিকে ফোন করে তাদেরকে জানানো হয় গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চম্পা ওসমানী হাসপাতালে মারা গেছে। খবর পেয়ে সকালে গিয়ে তারা চম্পার লাশ ওসমানী হাসপাতালের হিমঘরে দেখতে পান।
উজ্জ্বলের দাবি, তার বোন চম্পাকে হত্যা করে লাশ হাসপাতালে ফেলে গেছে নকুল। সকাল থেকে চম্পার স্বামী নকুলও গা ঢাকা দিয়েছে।
জালালাবাদ থানার ওসি শাহ হারুনুর রশীদ জানান, চম্পার মৃত্যু হত্যাকান্ড দাবি করে তার স্বজনরা থানায় অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আগামীতে ১৪ দলকে
সরকারে রাখা হবে
Ñনাসিম
সবুজ সিলেট ডেস্ক
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আগামীতে অবশ্যই ১৪ দলকে সরকারে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে। কারণ ১৪ দল গঠন করার পর থেকেই বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে একসঙ্গে একযোগে দলগুলো ভূমিকা পালন করেছে। তাই আগামীতে প্রধানমন্ত্রী তাদের অবশ্যই মূল্যায়ন করবেন বলে আমি আশাবাদী । গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কুলখানিতে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মোহাম্মদ নাসিম।
নাসিম বলেন, ১৪ দলের শরিকদের প্রথমবার কেবিনেটে রাখা হয়তো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে আবার যখন মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করা হবে তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই শরিকদের রাখার বিষয়ে ইতিবাচক চিন্তা করবেন। আজ আমাদের যে বিশাল বিজয় তাতে ১৪ দলেরও ভূমিকা আছে। শেখ হাসিনা এখন শুধু আওয়ামী লীগের নেতা নন, তিনি এখন দেশের অভিভাবক, সব দলের নেতা। সুতরাং জোটের সবাইকে নিয়ে চলবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সৈয়দ আশরাফ আমার ছোট ভাইয়ের মতো। ছোট ভাইদের যেমন দেখি আশরাফকেও সেভাবেই দেখেছি। আওয়ামী লীগের সাহসী সৈনিক ছিলেন সৈয়দ আশরাফ। ১১১-তে আশরাফ যে ভূমিকা রেখেছিলেন তা ছিল প্রশংসার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে
বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী
সবুজ সিলেট ডেস্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত বিএনপি প্রার্থী উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়া বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
গতকাল বুধবার সন্ধায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী বাইন হীরা এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
এই জয়ের ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির মোট আসনসংখ্যা হলো ৮টি। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি মনোনীত ৭ জন প্রার্থী জয়লাভ করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ঘোষিত ফলাফল থেকে জানা গেছে, ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত বিএনপি প্রার্থী উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়া ধানের শীষ প্রতীকে ৮৩ হাজার ৯৯৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মঈনউদ্দিন মঈন কলার ছড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪১৯ ভোট।
ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত বিএনপি প্রার্থী উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়া ৮ হাজার ৫৭৮ ভোট বেশি পেয়েছেন। মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা ৩৯ হাজার ৪০৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
এদিকে ৩০ ডিসেম্বর অনিয়ম ও সংঘর্ষের কারণে স্থগিত হওয়া আশুগঞ্জের তিনটি কেন্দ্রে বুধবার কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে ভোট গণনা শেষে ৩ কেন্দ্রের ফলাফলে ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী বিএনপি উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়া ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২৭৪ ভোট। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈনউদ্দিন মঈন পেয়েছেন ২ হাজার ৮৫৫ ভোট।
এর মধ্যে ৩টি কেন্দ্রেই জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈনউদ্দিন মঈন। তবে আগে থেকে বিএনপি মনোনীত প্রাথী উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়া ১০ হাজার ১৫৯ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন।
এদিকে ৩টি কেন্দ্রের মধ্যে যাত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের মোট ভোটার ৩ হাজার ১৬, সোহাগপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার ৩ হাজার ৮৪০ এবং বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার ৩ হাজার ৭১৭।
উল্লেখ্য, ৩০ ডিসেম্বর ভোট চলাকালে নির্বাচনি এলাকার আশুগঞ্জ উপজেলার যাত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোহাগপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটে। এরপরই এই তিন কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করে পুনর্নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

হবিগঞ্জে ৪ ব্যবসা
প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকালছৈও বাজারে অভিযান চালিয়ে ৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
গতকাল বুধবার দুপুরে পরিচালিত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের জন্য মা সুইটমিট এন্ড রেস্টুরেন্টকে ২ হাজার টাকা ও বিসমিল্লাহ রেস্টুরেন্টকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অপরাধে সীমা ফার্মেসিকে ২ হাজার টাকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কসমেটিকস বিক্রির অপরাধে মা টেলিকম অ্যান্ড কসমেটিকসকে আভো ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ওজনে কম দেওয়ার দায়ে একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দাড়িপাল্লা ও বাটখারা জব্দ করা হয়।
অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সার্বিক সহয়তায় ছিল কাকালছৈও নৌফাঁড়ি পুলিশের একটি টিম।

ছেলের মোটরসাইকেল
থেকে পড়ে মায়ের মৃত্যু
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জে ছেলের মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে মেহেরুন্নেছা (৪৭) নামে এক মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের কলিমনগর এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। মেহেরুন্নেছা শহরের রাজনগর এলাকার শামছুজ্জামানের স্ত্রী।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার (ওসি) তদন্ত জিয়াউর রহমান জানান, গত দুইদিন আগে মেহেরুন্নেছা তার স্বামীর বাড়ি রাজনগর থেকে পিতার বাড়ি চুনারুঘাট উপজেলায় বেড়াতে যান। বেড়ানো শেষে উল্লেখিত সময়ে তার পুত্র সামি আহমেদের সাথে তিনি হবিগঞ্জ আসার পথে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিঠুন রায় তাকে পরীক্ষানিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
মেহেরুন্নেছার মৃত্যুর খবর তার আত্মীয়স্বজনরা জানতে পেরে হাসপাতালে এসে তাকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় জমান। এ সময় স্বজনদের কান্নায় পুরো হাসপাতাল এলাকায় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

জামায়াতের বিচার
করা হবে : আইনমন্ত্রী
সবুজ সিলেট ডেস্ক
মহান মুক্তিযুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকার জন্য আইন সংশোধন করে সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
দ্বিতীয় মেয়াদে আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর গতকাল বুধবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইন সংশোধন করে জামায়াতের বিচার করা হবে। এ সংক্রান্ত আইনটি অধিকতর যাচাই বাছাই ও মতামতের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পেলে মন্ত্রিপরিষদ সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।’
বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতা হত্যাকান্ডের নেপথ্যের ব্যক্তিদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার নেপথ্যে যারা রয়েছে তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনা হবে। এ জন্য বিশেষ কমিশন গঠন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিকদের হয়রানি করার জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন করা হয়নি। যারা প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে তার অপব্যবহার করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই এই আইন।’
প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকার জন্য বিভিন্ন সময় সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচারের দাবি উঠে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইতোমধ্যে দলটির সিনিয়র বেশ কয়েকজন নেতার ফাঁসি হয়েছে।

ভারত-চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বের সুফল ঘরে
তুলতে চায় বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সবুজ সিলেট ডেস্ক
অর্থনৈতিক প্রশ্নে প্রতিবেশী ভারত ও চীনের সঙ্গে শক্ত কূটনৈতিক অবস্থান অনুসরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দৃঢ় অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মধ্য দিয়ে প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আরও কার্যকর সম্পর্ক চর্চা করবে বাংলাদেশ।
গত ৭ জানুয়ারি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এ কে আবদুল মোমেন। দায়িত্ব নেওয়ার একদিন পর ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোমেন বলেন, ‘আমার মূল লক্ষ্য হলো গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী অর্থনৈতিক কূটনীতি অনুসরণ করা, বিশেষ করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে।’ ভারতের সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে মোমেন ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন ভারত ও চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বের সুফল ঘরে তুলতে চাইছে বাংলাদেশ।
মোমেন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ নীতি হিসেবে ভারত ও চীনের মতো প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরালো করা হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধন অক্ষুণ্ন রাখতে কার্যকর সম্পর্ক চর্চারও চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ইতিহাসের আর কোনো সময়েই ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এত ভালো ছিল না। আমরা এটি ধরে রাখার পাশাপাশি তা অন্য মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাবো। একই সময়ে চীনের সঙ্গে সুসম্পর্কের ফসল ঘরে তোলার চেষ্টা করবে বাংলাদেশ।
তিনি জানান, চীন বাংলাদেশের উন্নয়নে এরই মধ্যে বিপুল পরিমাণ ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
৭১ বছর বয়সি মোমেন আরও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ‘দৃঢ় অংশীদারত্বের’ ভিত্তিতে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরালো করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে তাকে অন্য মন্ত্রণালয়গুলোর সহযোগী হিসেবে কাজ করারও নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
মোমেন পিটিআইকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে কার্যকর ভূমিকার রাখবে তার কার্যালয়। এছাড়া সরকারের উচ্চাকাক্সক্ষী উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বিদেশি সহায়তা আনার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে তার দফতর।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ইতিহাসের আর কোনো সময়েই ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এত ভালো ছিল না। আমরা এটি ধরে রাখার পাশাপাশি তা অন্যমাত্রায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাব। একই সময়ে চীনের সঙ্গে সুসম্পর্কের ফসল ঘরে তোলার চেষ্টা করবে বাংলাদেশ।
তিনি জানান, চীন বাংলাদেশের উন্নয়নে এরইমধ্যে বিপুল পরিমাণ ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গত বছর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে দৃঢ় হয়েছে। উভয় দেশের উচ্চ পর্যায়ের সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বছরের মে মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফর করেন। ওই সফরে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই সময়ে মোদি বলেছিলেন, স্থল ও উপকূলীয় সীমানা জটিলতার মতো ইস্যুর সমাধানের মাধ্যমে বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ‘স্বর্ণালি অধ্যায়’ পার করছে। ২০১৮ সালে দুই দেশ বহু যৌথ উন্নয়ন প্রকল্প শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আখাউড়া-আগরতলা রেল লাইন নির্মাণ এবং কুলাউড়া ও শাহবাজপুর রেললাইন পুনর্নির্মাণ।
বড় চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চাইলে মোমেন রোহিঙ্গা সংকটের কথা উল্লেখ করেন। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতার মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ ওই অভিযানকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ বলে বর্ণনা করে। এটিকে অর্থনৈতিক ইস্যু বললেও মোমেন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেশীদের যুক্ত করে এই সংকট সমাধান না করা গেলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এই ইস্যু সমাধান করা দরকার। অন্যথায় তা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে অপেক্ষাকৃত নতুন মুখ মোমেন। এর আগে তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭০এর দশকের শুরুতে তিনি সরকারি চাকুরিতে প্রবেশ করেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনীতি বিষয়ে অধ্যাপনাও করেছেন। অর্থনীতিতে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের পাশাপাশি বোস্টেনর নর্থইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়েছেন জনপ্রশাসন, জননীতি ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিষয়ে এমপিএ ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মোমেন।
তার বড় ভাই এএমএ মুহিত ওই একই আসন থেকে গত নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। শেখ হাসিনার মন্ত্রীসভায় অর্থমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘসময় ওই দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

আখালিয়ায় ছড়া উদ্ধারে
সিসিকের অভিযান
স্টাফ রিপোর্টার
নগরীর আখালিয়া এলাকায় কালীবাড়ি ছড়া দখলমুক্ত করতে অভিযান শুরু করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। গতকাল বুধবার কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে ছড়া দখলমুক্ত অভিযান শুরু হয়।
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) সূত্র জানায়, নগরীর বিভিন্ন স্থানে ছড়া ও খাল দখল হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এসব দখলদারদের সরে যেতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বারবার নোটিশ দেয়া হলেও তারা নির্দেশনা মানছেন না।
দখলদাররা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে কালীবাড়ি ছড়ার বিভিন্ন স্থান দখল করে রাখায় বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। তাই গতকাল বুধবার হতে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও ছড়া উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন ধরে কালীবাড়ি ছড়ার বিভিন্ন অংশ দখল করে রাখায় ওই এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছিল। দখলদারদের বারবার নির্দেশ দেয়ার পরও তারা অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে না নেয়ায় সিটি করপোরেশন অভিযানে নেমেছে। যে-কোনো মূল্যে দখলদারদের উচ্ছেদ করে আখালিয়া এলাকা জলাবদ্ধতামুক্ত করা হবে।

চুনারুঘাটে অজ্ঞাত নারীর
লাশের পরিচয় শনাক্ত
চুনারুঘাট প্রতিনিধি
চুনারুঘাট উপজেলায় রঘুনন্দন পাহাড় থেকে নারীর লাশ উদ্ধারের তিন দিন পর তার পরিচয় পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার সকালে চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনর্চাজ কে এম আজমিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় নিহতের মা সন্ধ্যা রানী বাদি হয়ে চুনারুঘাট থানায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গত মঙ্গলবার বিকেলে চুনারুঘাট থানায় নিহতের মা সন্ধ্যা রানী সরকার লাশের ছবি দেখে সনাক্ত করেন। নিহত নারী শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পুরাসুন্দা গ্রামের নিরঞ্জন সরকারের কন্যা সুমা রানী সরকার (২৫)।
এর আগে ৬ জানুয়ারি উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড় থেকে অজ্ঞাত নারীর (২৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পরনে নীল রঙের শাড়ি ও কপালে সিঁদুর ছিল।

সিলেটের ৫ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী
একান্ত সচিব পেয়েছেন
স্টাফ রিপোর্টার
নতুন মন্ত্রিসভার ৪৬ জন সদস্যের প্রত্যেকের জন্য একান্ত সচিব (পিএস) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স অ্যাক্ট, ২০১৬ অনুযায়ী একান্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
উপসচিব পদমর্যাদার এসব কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে গত মঙ্গলবার স্বাক্ষর করা আলাদা দু’টি আদেশ গতকাল বুধবার প্রকাশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া সকল মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর জন্যে একান্ত সচিব নিয়োগ দেওয়ার কথা জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, ‘মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীগণ যতদিন এ পদ অলংকৃত করবেন অথবা তাদের জন্য পদায়নকৃত একান্ত সচিবগণকে এই পদে বহাল রাখার অভিপ্রায় পোষণ করবেন ততদিন এ নিয়োগ আদেশ কার্যকর থাকবে।’
সিলেট বিভাগের পাঁচ মন্ত্রীর পিএস হলেন-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে রাজউকের পরিচালক ড. শাহরিয়ার ফিরোজ; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদের সঙ্গে সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপসচিব আহমেদ কবির; পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের সঙ্গে এটুআই প্রোগ্রামের ই-সার্ভিস স্পেশালিস্ট মো. এনামুল হক; পরিবেশ,বন জলবায়ু মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আক্তারুজ্জামান; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীর সঙ্গে ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো.আ.জলিল।
উল্লেখ্য, এতদিন মন্ত্রিসভার সদস্যদের পছন্দে পিএস নিয়োগ হলেও এবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পিএস নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর ৩ জানুয়ারি এমপিদের শপথের পর ৭ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরা শপথ নেন।

সোবহানীঘাটে নির্মাণাধীন ভবন
থেকে পড়ে ২ শ্রমিক আহত
স্টাফ রিপোর্টার
নগরীর সোবহানীঘাটে নির্মাণাধীন পপুলার মেডিকেল সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালের ভবনে কাজ করার সময় পঞ্চম তলা থেকে পড়ে দুই লিফট শ্রমিক আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। আহতদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হচ্ছেন- শ্রমিক লিফট মিস্ত্রি রাছিব (২৫), লিফট মিস্ত্রি আলী আসকর (২২)।
আহতদের সহকর্মীরা বলেন, ভবনের ৫ম তলায় লিফটের কাজ করছিলেন রাছিব ও আসকর। লিফটের কাজের সময় রশি ছিঁড়ে দুই জন নিচে পড়ে যান। পরে আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ফারুক আহমদ বলেন, আহত শ্রমিকরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সিলেট আসছেন জাতীয়
ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ
স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ আগামী রোববার সিলেট সফর করবেন। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা সিলেট আসবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিলেট বিভাগের মুখপাত্র ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি কাহের চৌধুরী শামীম। তিনি জানান, আগামী শনিবার কিংবা রোববার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ সিলেট আসবেন। এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে, রোববার আসতে পারেন এটা প্রায় নিশ্চিত।
জানা যায়, ৮ জানুয়ারি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে ৩ টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এগুলো হলো, একটি জাতীয় সংলাপ, নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে নির্বাচনের অনিয়ম তুলে ধরে মামলা এবং দেশব্যাপী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সফর। এই কর্মসূচীর অংশ হিসেবে নির্বাচনকালীন সহিংসতায় সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নিহতের ঘটনায় স্বজনদের সান্তনা দিতে ও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নেতৃবৃন্দ সিলেট সফরের কথা জানিয়েছেন। তবে বৈঠকে শুধু আগামী সপ্তাহের কথা উল্লেখ করলেও নির্দিষ্ট দিন-তারিখ জানাননি নেতৃবৃন্দ।

দোয়ারায়
বিজিবি-বিএসএফ
পতাকা বৈঠক
দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজার উপজেলার বাঁশতলা সীমান্তের ওপারে ভারতের কাটাতারের ভেতরে খাসিয়াদের গুলিতে নুরু মিয়া (২৭) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে বাঁশতলা সীমান্তের ১২৩১ নং পিলারের কাছে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন বাঁশতলা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. দেলোয়ার হোসেন এবং ভারতের বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন চেলা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসি বিপুর সাইকা। সন্ধ্যায় নিহতের মরদেহ বাংলাদেশ বিজিবির হাতে হস্তান্তরের কথা থাকলেও লাশ হস্তান্তর করা হয়নি।
সুনামগঞ্জ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ২৮ ব্যাটালিয়নের লে. কর্নেল মাকসুদুল আলম জানান, হত্যাকান্ডের পর লাশ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মঙ্গলবার দুপুরের আগে বিএসএফকে চিঠি দেওয়া হয়। পরে দুপুর ২টার দিকে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার নিন্দা জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ ভারত সীমান্তবর্তী বাঁশতলা এলাকার ১২৩১ নং পিলারের কাছে কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে দুই বাংলদেশি ভারতে অনুপ্রবেশের সময় ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে ১ জন বাংলাদেশ ঘটনাস্থলেই নিহত হয় এবং অপর একজন আহত হয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পালিয়ে আসেন বাংলাদেশে।

এমপিদের হলফনামায় অসংগতি
পেলে ব্যবস্থা নেবে দুদক
সবুজ সিলেট ডেস্ক
সংসদ সদস্যরা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে যে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন, সেগুলো দুর্নীতি দমন কমিশন সংগ্রহ করেছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। বলেছেন, যাদের হলফনামায় সম্পদের অসংগতি রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে কার্যকরী ব্যবস্থা নেবে দুদক।’ গত মঙ্গলবার সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির প্রধান। বলেন, দুর্নীতি দমনে নতুন সরকারের যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার তা আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। আমরা সরকারের এ দুর্নীতি বন্ধের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সর্বশিক্ত নিয়োগ করব।
নির্বাচনের আগে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীদেরকে আটটি তথ্য সম্বলিত হলফনামা জমা দিতে হয়। এতে আগের পাঁচ বছরের তুলনায় সম্পদের হ্রাস-বৃদ্ধির বিষয়টিও উল্লেখ করতে হয়। একাধিক প্রার্থীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তারা যে তথ্য দিয়েছেন, তার মধ্যে বেশ কিছু অসংগতিও আছে।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা দুদক সংগ্রহ করেছে। এটা ধর-মার-কাট কোনো বিষয় নয়। সেখানেই দুর্নীতি পাব, সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপর এক প্রশ্নে জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, কেবল বেসিক ব্যাংক নয়, আর্থিক খাতের সব দুর্নীতি বন্ধে কাজ করবে দুদক। তবে কোনো মেগা প্রকল্প, জনবল নিয়োগের বিষয়ে দুদক সরাসরি সম্পৃক্ত হবে না।
বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করবে বলে ভোটের আগেই ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুদক চেয়ারম্যান এই ঘোষণাকে একটি শুভ ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন। বলেন, আমরা দেখব এবং ধরব। আমার বিশ্বাস এ সরকার দুর্নীতির রশি টেনে ধরবে, ‘মর্নিং শোজ দ্যা ডে’।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা ধরনের অসংগতি রুখতেও আশ্বাস দেন দুদক চেয়ারম্যান। বলেন, ‘নিয়োগ বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, কমিশন বাণিজ্যসহ যেখানেই দুর্নীতির গন্ধ পাব সেখানেই গিয়ে আমরা হাজির হব।’

নতুন সংসদের প্রথম
অধিবেশন ৩০ জানুয়ারি
সবুজ সিলেট ডেস্ক
একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন বিকাল ৩টায় শুরু হবে অধিবেশন। নতুন সংসদের প্রথম এ বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এছাড়া সংসদের প্রথম ও নতুন বছরের প্রথম অধিবেশন হিসেবে এর প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তার সাংবিধানিক ক্ষমতা বলে বুধবার এই অধিবেশন আহ্বান করেন।
নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে প্রথম অধিবেশন শুরুর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ১ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশ করা হয়। পরে ৩ জানুয়ারি এই নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির পাঁচজন ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দুজন এখনও শপথ নেননি। সংবিধানের বিধান অনুসারে প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ৯০ দিনের মধ্যে কোনো নির্বাচিত সদস্য শপথ না নিলে পদ শূন্য হয়ে যাবে। পরে সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার নির্বাচন করবে সংসদ। বর্তমান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীই নতুন স্পিকার হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হবেন এটা মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদিকে স্পিকার নির্বাচনের পর সংসদ সাময়িক সময়ের জন্য মুলতবি ঘোষণা করা হবে। এ সময় রাষ্ট্রপতি নতুন স্পিকারকে শপথ পড়াবেন। পরে নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে আবারও বসবে অধিবেশন। ওই সময় রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর প্রথমদিনের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে। পরে এই ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সংসদ সদস্যরা দীর্ঘ বক্তব্য রাখবেন। সংসদের প্রথম বা বছরের প্রথম অধিবেশন সাধারণত দীর্ঘ হয়।

বাংলাদেশ কখনোই ঋণের
কিস্তিতে বিলম্ব করেনি
Ñঅর্থমন্ত্রী
সবুজ সিলেট ডেস্ক
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বাংলাদেশ আজ পর্যন্ত কোনো ঋণের একটি কিস্তি দিতে এক ঘণ্টার জন্যও বিলম্ব করেনি। ইআরডিকে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ঋণ সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরতে হবে।
রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে গতকাল বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিতি সভায় এ কথা বলেন তিনি। সভায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব এ বিভাগের চলমান কার্যক্রম বিষয়ে সংক্ষিপ্ত ব্রিফ করেন এবং অর্থমন্ত্রীর কাছে এ বিভাগের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা কামনা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী উপস্থিত কর্মকর্তাদের তাদের এ যাবৎকালের সব কার্যক্রমের জন্য প্রশংসা করেন এবং তাদের সাধুবাদ জানান।
নতুন অর্থমন্ত্রী ইআরডি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘তাদের অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বিদেশি ঋণ সংস্থার সঙ্গে নেগোসিয়েশন করতে হবে, যেন বাংলাদেশের স্বার্থ সমুন্নত থাকে।’ এ ক্ষেত্রে ঋণচুক্তির শর্তসমূহ বাংলাদেশের অনুকূলে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন তিনি।
মুস্তফা কামাল জানান, ইআরডিকে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ঋণ সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। বাংলাদেশ আজ পর্যন্ত কোনো ঋণের একটি কিস্তি প্রদানেও এক ঘণ্টার জন্যও বিলম্ব করেনি। বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ জিডিপি অনুপাত মাত্র ১৩ দশমিক ২ শতাংশ। যেখানে ঝুঁকিমুক্ত মাত্রা হলো ৪০ শতাংশ। পৃথিবীতে সর্বনিম্ন বৈদেশিক ঋণ জিডিপি অনুপাতের কয়েকটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে। কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তারা যেন আমাদের ঋণ সক্ষমতা ধরে রাখেন। তাহলে ভবিষ্যতে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক অর্থায়ন সহজতর হবে।’ এ ছাড়া প্রকল্প বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গ্রামীণ জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছোট আকারের প্রকল্পে ঋণ সহায়তা প্রদানে প্রাধিকার দেয়ার জন্যও নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।

সাগর-রুনি হত্যা মামলায়
প্রতিবেদন ১৭ ফেব্রুয়ারি
সবুজ সিলেট ডেস্ক
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে আলোচিত এই হত্যাকান্ডের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ৬২ বার পেছাল। গতকাল বুধবার মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা র্যাব প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস এ দিন ধার্য করেন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সারোয়ার ওরফে সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন নাহার রুনা ওরফে মেহেরুন রুনি দম্পতি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হন। এরপর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। চারদিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কম তরঙ্গের কারণে কাক্সিক্ষত সেবা
পাচ্ছেন না মোবাইলফোন গ্রাহকরা
সবুজ সিলেট ডেস্ক
মোবাইলফোন নেটওয়ার্ক যথেষ্ট পরিমাণ তরঙ্গ বরাদ্দ না থাকায় দেশের মোবাইলফোন ব্যবহারকারীরা মানসম্মত সেবা পাচ্ছেন না। মোবাইলফোন অপারেটরদের দেওয়া কম পরিমাণের তরঙ্গের বিপরীতে ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেশি। অপারেটরদের দাবি, টেলিযোগাযোগ খাতের স্পেক্ট্রাম তথা তরঙ্গের উচ্চমূল্য থাকায় তারা প্রয়োজনীয় তরঙ্গ কিনতে পারছেন না। এর ফলেই মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে এখনও প্রচুর সংখ্যক নিম্নমানের মোবাইল রয়েছে যেগুলো থ্রিজি বা ফোরজি নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে রয়ে গেছে। নিম্নমানের সেট হওয়ায় সেগুলোতে ভালো সেবা পাওয়া যায় না। থ্রিজি ও ফোরজিতে ভয়েস কোয়ালিটি ভালো হলেও সেটের কারণে টুজি বিদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। ভালোমানের সেবা না পাওয়ার এটাও একটা কারণ। অপারেটরদের দাবি, দেশে তরঙ্গমূল্য অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। আবার এই তরঙ্গ ব্যবহার করেও অনেক বেশি মানুষ। তরঙ্গের দাম কমানো হলে আরও কম খরচে (ভয়েস কল) মোবাইলফোন সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
জানা গেছে, দেশে বর্তমানে মোবাইলফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের তরঙ্গ (স্পেক্ট্রাম) রয়েছে ৩৭ মেগাহার্টজ আর গ্রাহক সংখ্যা ৭ কোটি ২৩ লাখ ৮৬ হাজার, রবির রয়েছে ৩৬ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ আর গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ৭০ লাখ ৭৫ হাজার এবং বাংলালিংকের রয়েছে ৩০ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ, অপারেটরটির গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৪ হাজার। আরও জানা গেছে, ২০১৮ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের একজন গ্রাহকের জন্য তরঙ্গ বরাদ্দ ছিল ০ দশমিক ৫১৮ হার্টজ, বাংলালিংকের ০ দশমিক ৯৪৮ হার্টজ আর রবির ছিল ০ দশমিক ৮১৪ হার্টজ। মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর সূত্রে জানা গেছে দেশে এক মেগাহার্টজ তরঙ্গ ব্যবহার করে ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে ১৭ লাখ ৬০ হাজার মোবাইল ব্যবহারকারী। আর ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখা গেছে, মালয়েশিয়ায় একই পরিমাণ তরঙ্গ (এক মেগাহার্টজ) ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১ লাখ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার, ভিয়েতনামে ৭ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১০ লাখ ৯০ হাজার, শ্রীলংকায় ৮১ হাজার থেকে ২ লাখ ৭১ হাজার, থাইল্যান্ডে ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ ৩১ হাজার, পাকিস্তানে ৫ লাখ ৮০ হাজার থেকে ১৪ লাখ ১০ হাজার, আফগানিস্তানে ১০ হাজার থেকে ২ লাখ ৯২ হাজার, নেপালে ৪৪ হাজার থেকে ৫ লাখ ২২ হাজার, জার্মানিতে ৩ লাখ ১৪ হাজার থেকে ৩ লাখ ৯৯ হাজার এবং অস্ট্রেলিয়ায় ৮২ হাজার থেকে ১ লাখ ২১ হাজার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘টেলিকম খাতে এখন আমার কনসার্ন হলো কোয়ালিটি অব সার্ভিস নিয়ে। সেবার মান ভালো করতেই হবে অপারেটরদের। এর কোনো বিকল্প নেই। এরজন্য নীতিমালা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ যে টাকা দিয়ে মোবাইলসেবা কেনেন, সেই অনুপাতে তারা সেবা পাচ্ছেন না। এটা খুবই দুঃখজনক। জনগণকে টাকার মান অনুযায়ী সেবা দিতে হবে। জনগণ যে সেবা চায়, সেই সেবাই তাকে দিতে হবে। মোবাইলফোন অপারেটর রবির হেড অব করপোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স শাহেদ আলম বলেন, এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য আরও বেশি স্পেক্ট্রাম প্রয়োজন। কিন্তু দাম বেশি বলে অপারেটরগুলোর পক্ষে তা কেনা সম্ভব হয়ে উঠছে না। তিনি স্পেক্ট্রামকে সহজলভ্য করে দেওয়ার আহ্বান জানান। দেশের মোবাইলের ভয়েস কলের রেট দ্বিতীয় সর্বনিম্ন উল্লেখ করে শাহেদ আলম বলেন, তরঙ্গের দাম কমানো হলে ভয়েস কলের রেট আরও কমানো সম্ভব। তিনি জানান, ভারতে ভয়েস কলের রেট সবচেয়ে কম। তিনি বলেন, আমরা তরঙ্গ বিনামূল্যে চাই না। দাম কমানো হলে আমরা আরও কিনবো। তখন এখনের চেয়ে আরও ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

গার্মেন্ট শ্রমিকদের সমস্যা সমাধান
হবে ১ মাসের মধ্যে : বাণিজ্যমন্ত্রী
সবুজ সিলেট ডেস্ক
আগামী এক মাসের মধ্যে গার্মেন্ট শ্রমিকদের সমস্যা সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী। গতকাল বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
টিপু মুন্সী বলেন, নতুন বেতন কাঠামোর কারণে কোনো শ্রমিকের যদি বেতন কমে যায় তাহলে তা আগামী মাসের বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিশোধ করা হবে। নতুন বেতন কাঠামোর অসঙ্গতি দূর করতে শ্রমিক পক্ষের ৫ জন, মালিক পক্ষের ৫ জনসহ শ্রম এবং বাণিজ্য সচিবের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কাজ করবে। এই কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতনের বিষয়ে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। এসময় তিনি গার্মেন্ট শ্রমিকদের কাজে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এই ধরনের আন্দোলনে অনেক সময় বাইরের লোক ঢুকে যায়। সে বিষয়টি সরকার কঠোরভাবে মনিটর করছে।
উল্লেখ্য, বেতন কাঠামোতে বৈষম্য দূর করাসহ বিভিন্ন দাবিতে ৬ জানুয়ারি থেকে থেকে আন্দোলন করছেন পোশাক শ্রমিকরা। শ্রমিক বিক্ষোভ নিরসনে গত মঙ্গলবার শ্রম ভবনে পোশাক শ্রমিক-মালিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, গত ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া পোশাক শ্রমিকদের বেতন কাঠামোতে কোনো বৈষম্য বা অসঙ্গতি থেকে থাকলে চলতি জানুয়ারি মাসের মধ্যেই তা সংশোধন করা হবে। ফেব্রুয়ারিতে সংশোধিত গ্রেডিংয়েই বেতন পাবেন শ্রমিকরা। বৈঠকে এ সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ কমিটিতে গার্মেন্টস মালিকদের পাঁচ জন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের পাঁচজন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব থাকবেন। এই কমিটি চলতি মাসের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের জন্য সরকার ঘোষিত বেতন কাঠামোর কোনো গ্রেডের মধ্যে অসঙ্গতি থাকলে তা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন জমা দেবে।

প্রজ্ঞাপন জারি
বিরোধীদলীয়
নেতা এরশাদ
সবুজ সিলেট ডেস্ক
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। এ ব্যাপারে বুধবার জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এছাড়া এরশাদের ছোটভাই দলটির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে করা হয়েছে বিরোধীদলীয় উপনেতা।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদে সরকারি দলের বিরোধিতাকারী সর্বোচ্চসংখ্যক সদস্য নিয়ে গঠিত সংসদীয় দলের নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে (রংপুর-৩) জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী বিরোধীদলের নেতা এবং গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে (লালমনিরহাট-৩) বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে স্পিকার স্বীকৃতি দিয়েছেন।
গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টি মহাজোটের অংশ হিসেবে ভোটে অংশ নেয়। এই নির্বাচনে ২৯৮ আসনের মধ্যে মহাজোট পেয়েছে ২৮৮টি আসন। জাতীয় পার্টি এককভাবে পেয়েছে ২২টি আসন। গত সংসদে জাতীয় পার্টি সরকারে ও বিরোধী দলে থাকলেও এবার দলটি বিরোধী দলে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ঐক্যফ্রন্ট নাশকতা করলে
সমুচিত জবাব : কাদের
সবুজ সিলেট ডেস্ক
রাজনৈতিক ও আইনিভাবে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তা সেভাবেই মোকাবেলা করা হবে বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তবে তারা নাশকতা ও সহিংসতার কোনো পথ বেছে নিলে সমুচিত জবাব দেয়া হবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। যদিও বিএনপি জোট কিছু করতে পারবে বলে মনে করেন না সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।
গতকাল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যান বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে। মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ফেরিঘাটে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে আইনি পদক্ষেপের যে ঘোষণা দিয়েছে এ প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘তারা যদি আইনের পথে যায় আমরা লিগ্যাল ব্যাটল করবো, যদি রাজনৈতিকভাবে আন্দোলন করে আমরা তা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করবো। যদি সংহিসতা ও নাশকতার পথে যায় পরিস্থিতি মোকাবেলর জন্য উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যা যা করার তাই করা হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, যারা আন্দোলনে পরাজিত নির্বাচনেও পরাজিত তাদের নতুন কিছু করার আছে বলে কেউ বিশ্বাস করে না। এমনকি বাংলাদেশের জনগণও করে না, আমরাও করি না। দশ বছরে দশ মিনিটের জন্য আন্দোলন করতে পারেনি, তারা এখন কী করবে! মন্ত্রিসভা ও সরকারের আগামী দিনের কর্মসূচি কী হবে এটিই তাদের কাছে বড় বিষয় বলে জানান মন্ত্রী কাদের। বিএনপি জোটের আন্দোলন নিয়ে তারা কিছু ভাবছেন না বলেও জানান। মন্ত্রিপরিষদের গাড়িবহর সকাল ৯টা থেকেই শিমুলিয়া ঘাটে আসতে শুরু করে। এসময় স্থানীয় কর্মীরা মন্ত্রীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

অবাধ্য হলেই জেলখানায়
ঠাঁই হয় সৌদি নারীদের
সবুজ সিলেট ডেস্ক
নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর গত বছর বিশ্বজুড়ে সৌদি আরবের প্রশংসা করা হয়। কিন্তু দেশটিতে নারীদের ওপর এখনো অনেক ধরনের বিধিনিষেধ চালু আছে। এর অন্যতম হচ্ছে পুরুষ অভিভাবকতন্ত্র। যেখানে একজন নারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো তিনি নিজে নিতে পারেন না। তার পক্ষ হয়ে সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন শুধু তার বাবা, ভাই, স্বামী কিংবা ছেলে। এক সৌদি তরুণী বাড়ি থকে পালিয়ে ব্যাংককে গিয়ে সেখানকার বিমানবন্দরের এক হোটেলে নিজেকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনার পর সম্প্রতি এই বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, তাকে যদি বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয় তাহলে হয় তাকে হত্যা করা হবে নয়তো জেলে পাঠানো হবে। একজন সৌদি নারীকে তার পাসপোর্টে আবেদনের জন্য, বিদেশে যাওয়ার জন্য, সরকারি বৃত্তি নিয়ে বিদেশে পড়াশোনার জন্য, বিয়ে করার জন্য, এমনকি কারাগার ছেড়ে যাওয়ার জন্যও তার পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি নিতে হয়।
এ বিষয়ে মিশরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন সাংবাদিক মোনা এলতাহাউই বলেন, এটা এমন একটা বিষয় যা প্রত্যেক সৌদি নারী এবং মেয়েকে জন্ম থেকে আমৃত্যু ভোগায়। এর মাধ্যমে নারীকে মূলত একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হিসেবে দেখা হয়। সৌদি আরব নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সনদে সই করেছে। সৌদি সরকার বলে থাকে শরিয়া আইনে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে। নারী ও মেয়ে শিশুদের খেলাধুলার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে সৌদি। পাশাপাশি নারীদের স্টেডিয়ামে বসে ফুটবল খেলা উপভোগেরও অনুমতি দিয়েছে। তবে নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য রোধে কোনো আইন না থাকায় এবং সৌদি সরকার বৈষম্যের কোনো আইনগত সংজ্ঞা তৈরি করতে ব্যর্থ হওয়ায় জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা গত বছর উদ্বেগ প্রকাশ করে।
সৌদি পুরুষ অভিভাবকত্ব ব্যবস্থাকে সমাজ ও দেশের অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বড় বাধা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০১৬ সালের এক রিপোর্টে বলা হয়, ‘কিছু কিছু ক্ষেত্রে সৌদি আরবে স্পষ্ট এবং প্রত্যক্ষভাবে অভিভাবকত্ব আইন প্রয়োগ করা হয়। এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য বেশ কয়েকজন নারীর বিচার করা হয়েছে এবং জেলে পোরা হয়েছে। সৌদি মানবাধিকার কর্মী সামার বাদাউই তার বাবার বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে ২০০৮ সালে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান এবং এক আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নেন। এরপর বাবার অভিভাবকত্ব বাতিলের জন্য তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন। তার বাবাও মেয়ের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করে বলেন, সামার বাবার অবাধ্য মেয়ে। এক সৌদি আদালত ২০১০ সালে সামার বাদাউইকে কারাদন্ড দেয় এবং তিনি সাত মাস আটক ছিলেন। সৌদি মানবাধিকার কর্মীরা বিষয়টিতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মামলা প্রত্যাহার করা হয়। পিতার অবাধ্যতার অভিযোগে মারিয়াম আল ওতাইবি নামে আরেক সৌদি নারীকেও ২০১৭ সালে তিন মাসের কারাদ- দেয়া হয়।
সৌদি নারী অধিকার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে পুরুষ অভিভাবকত্ব ব্যবস্থা বাতিল করার আবেদন জানিয়ে আসছিলেন। সৌদি নারীরা পুরুষ অভিভাবকত্ব ব্যবস্থা চায় না বলে টুইটারে বড় ধরনের এক আন্দোলন শুরু হয়। এই প্রথা বাতিলের দাবি করে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি বাদশাহর দরবারে ১৪ হাজার স্বাক্ষরসহ এক আবেদন পেশ করা হয়। সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি আব্দুল আজিজ আল শেখ ওই আবেদনপত্রকে ইসলামের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং সৌদি সমাজ ব্যবস্থার ওপর মরণ আঘাত বলে বর্ণনা করেন। এর পাঁচ মাস পর সৌদি বাদশাহ এক আদেশ জারি করেন যেখানে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকত্ব প্রথার প্রয়োজন হবে না বলে ঘোষণা করেন। কিন্তু ২০১৮ সালে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে সৌদি আরবে নারী অধিকার আন্দোলনকারীদের ধরপাকড় শুরু হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির সন্দেহজনক যোগাযোগসহ বেশ কিছু অভিযোগ আনা হয়। বিচারে এদের দীর্ঘমেয়াদি সাজা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফেসবুক আইডি
নেই সেনাপ্রধানের
সবুজ সিলেট ডেস্ক
বাংলাদেশের বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)। গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর বলেছে, সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান এখন কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার বা পরিচালনা করছেন না। কিছু ব্যক্তি, গোষ্ঠী অসদুদ্দেশ্যে সেনা প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে ‘ফেসবুক অ্যাকাউন্ট’ খুলে ‘বিভিন্ন তথ্য’ আপলোড করছে এবং ‘ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট’ পাঠাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ব্যাপারে সকলকে সতর্ক হতে অনুরোধ করা হলো।

টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর
সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
সবুজ সিলেট ডেস্ক
চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। পরে তিনি মন্ত্রীদের নিয়ে পৃথকভাবে আবার শ্রদ্ধা জানান।
গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় বঙ্গবন্ধুকন্যা টুঙ্গিপাড়া পৌঁছে সমাধিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে প্রথম শ্রদ্ধা জানান। এর আগে ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সের দুই নম্বর গেইটে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখান থেকে সৌধের মূল বেদীতে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা তাদের স্বাগত জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী ও ছোট বোন শেখ রেহানা ফাতেহা পাঠ এবং পরিবারের শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দুআ করেন। এরপর বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে তারা বঙ্গবন্ধু ভবনে প্রবেশ করেন।
এসময় সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, শেখ সারহান নাসের তন্ময়, মুহাম্মদ ফারুক খান, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, তিন বাহিনীর প্রধান, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী নেতা, বঙ্গবন্ধু পরিবরের সদস্য, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুপুরেই প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টারে করে টুঙ্গিপাড়া ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদের শ্রদ্ধা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মন্ত্রিপরিষদের ৪৭ সদস্যকে নিয়ে আবার একইভাবে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বেলা ১টা ৩৭ মিনিটে। এ সময় অনেক সংসদ সদস্যও ছিলেন তার সঙ্গে। এছাড়া র‌্যাবের মহাপরিচালক, তিন বাহিনীর প্রধান, বঙ্গবন্ধু পরিবরের সদস্য, স্বজন, পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ছিলেন। এর আগে মন্ত্রীরা সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টার থেকে সকাল ৭টায় তিনটি বাসে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এদিকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের আগমন উপলক্ষ্যে টুঙ্গিপাড়ায় সাজ সাজ রব পড়েছে। তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন আর বর্ণিল পতাকায় ছেয়ে গেছে শেখ হাসিনার জন্মস্থান আর নির্বাচনি এই এলাকা। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সফর ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান বলেন, “প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সফর নির্বিঘ্ন করতে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পাঁচ বছর মন্ত্রী ছিলাম, কিন্তু রিকশায়
চড়তে দ্বিধা করি না : দিলীপ বড়ুয়া
সবুজ সিলেট ডেস্ক
ব্যবসা নয়, জনগণের সেবা করার দিকে মনোযোগী হতে রাজনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের সাবেক এই শিল্পমন্ত্রী বলেছেন, ওই মনোভাবের কারণেই পাঁচ বছর মন্ত্রী থাকার পরে এখন তিনি স্বচ্ছন্দে রিকশায় চলাচল করেন।
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও নতুন মন্ত্রিসভাকে অভিনন্দন জানানো উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক আলোচনাসভায় এ কথা বলেন দিলীপ বড়ুয়া।
২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের শিল্পমন্ত্রী ছিলেন দিলীপ বড়ুয়া। আলোচনাসভায় তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যারা আপনারা রাজনীতি করতে চান, রাজনীতি কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, ব্যবসা করার জন্য রাজনীতি করবেন না। “রাজনীতি হচ্ছে জনগণের খেদমত করা। আমরা জনগণের খেদমত করছি, পাঁচ বছর শিল্পমন্ত্রী ছিলাম, আজকে রিকশায় চড়তে কোনো দ্বিধা নেই। কেননা রাজনীতি হচ্ছে জনগণের জন্য, আর জনগণের সেবা করাই হচ্ছে আমাদের মুখ্য দায়িত্ব। ব্যক্তিগত ত্যাগের মধ্য দিয়ে জনগণের উন্নয়নে রাজনীতির দৃষ্টান্ত হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি ওয়াদা অনুসারে ঐক্যবদ্ধভাবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে অগ্নি মশাল জ্বালানোর কথা বলেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতা দিলীপ বড়ুয়া। তিনি বলেন, সেই ওয়াদা বাস্তবায়িত করার জন্য অগ্নি মশাল কার বিরুদ্ধে? সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। রাজনীতিতে বিএনপির কোণঠাসা অবস্থার জন্য ওই দলটিকেই দায়ী করেন সাম্যবাদী দলের এই নেতা। তিনি বলেন, বিএনপি মেধাশূন্য রাজনীতির কারণে তারা আজ রাজনীতি থেকে দেউলিয়া হয়ে গেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে যতই উন্নতি হবে, ততই বিএনপি ষড়যন্ত্র করবে। আমরা ১৪ দল যেহেতু ঐক্যবদ্ধ তাই বিএনপির এ ষড়যন্ত্র জনগণকে নিয়ে প্রতিহত করব। বঙ্গবন্ধুকে যারা জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যারা বিশ্বাস করে না তাদের রাজনীতি আইন করে নিষিদ্ধের দাবি জানান দিলীপ বড়ুয়া। বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক পার্টির (কেএসপি) আয়োজনে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের গড়া কৃষক শ্রমিক পার্টির চেয়ারম্যান ফারাহনাজ হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় অন্যদের মধ্যে শেরে বাংলা জাতীয় ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এ কে ফাইয়াজুল হক রাজু, কৃষক শ্রমিক পার্টির উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ শাহ আলম, পার্টির কো চেয়ারম্যান ফরিদ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান তিননা খুরশীদ জাহানসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।

বঙ্গবন্ধুর চিঠিরও
কোনোই মূল্য পাচ্ছেন না
ফেঞ্চুগঞ্জের যুদ্ধাহত
মুক্তিযোদ্ধা রউফ
সালেক খোকন
‘ট্রেনিং তখন শেষ। আমরা চলে আসি চার নম্বর সেক্টরে, কুকিতল সাব-সেক্টরে। একদিন ক্যাম্পে আসেন ভারতীয় এক অফিসার। জানতে চান ফেঞ্চুগঞ্জের কে আছে? সঙ্গে সঙ্গেই হাত তুলি। উনি শুধু বললেন, ‘ফেঞ্চুগঞ্জে পাকিস্তানি সেনাদের একটি জাহাজ মাইন লাগিয়ে উড়িয়ে দিতে হবে। কাজটি খুবই কঠিন। ধরা পড়লেই মৃত্যু। মাত্র চারজন যাবা। অল্প সময়ে কাজ সেরেই ফিরে আসতে হবে। ‘ওকে স্যার।’
রাজি হতেই ক্যাম্পে তিনদিন চলে মাইনের ওপর আলাদা ট্রেনিং। আমার সঙ্গে ট্রেনিং করেন ছাতকের গউস, হাওরতলার আব্দুল আহাদ, বিয়ানি বাজারের আ. রহমান। ট্রেনিং শেষে দেওয়া হয় বড় দুটি মাইন। দেখতে অনেকটা কড়াইয়ের মতো। নিচে চুম্বক ফিট করা। কুশিয়ারা নদীতে ফেঞ্চুগঞ্জের রেল ব্রিজের একটু উজানে ছিল পাকিস্তানিদের বড় জাহাজটি। সাঁতরিয়ে সেখানে মাইন লাগিয়ে এক ঘণ্টা সময় দিব সুইচে। এমনটাই ছিল পরিকল্পনা। আষাঢ় মাস তখন। ভারত থেকে রওনা হই দিনের বেলায়। কোনাগাঁও মসজিদে রাতে আত্মগোপন করে থাকি। চারপাশে রাজাকাররা। ওরা টের পেয়ে যায়। ধরা পড়লেই মৃত্যু। ভয়ে পরদিন দুইজন করে ডাইভার্ট হয়ে যাই। আমার সঙ্গে ছিল গউস। বাকি দুজন চলে যায় অন্যদিকে। ভাদেশ্বর হয়ে কুশিয়ারা নদীর পাড় দিয়ে এগোই আমরা। মল্লিকপুরে এসে কুরকুসি নদী পাড় হই সাতরিয়ে। রাত পার হয়ে সকাল তখন এগারটা। গঙ্গাপুর এসে কিছু চিড়ামুড়ি খাই একটা বাড়িতে। ওই বাড়ির লোকজনই ফেঞ্চুগঞ্জের নানা তথ্য দেয়।
রেল ব্রিজ থেকে পঞ্চাশ গজ দূরে ছিল পাকিস্তানিদের জাহাজ। আমার বাড়ি মোমিনপুরে, ব্রিজের পশ্চিমে। সেখান থেকেই অপারেশন চালাব। এমন পরিকল্পনা করি। ব্রিজের কাছাকাছি আসতেই মুখোমুখি হই গ্রামের খটাই মিয়ার সঙ্গে। উনি ছিল রাজাকার। কিন্তু আমাদের হেল্প করলেন। দাঁড় করিয়ে বলেন-‘জানলাম তুমি মুক্তিবাহিনীত হামাইছো। খবরদার মরবার লাগি আগে দি আগায়াইও না। আমার লগে আও। উনার বাড়ি ক্রস করে একটা লোহার হ্যাং লাইন ছিল। সেখানে নিয়ে উনি বলেন, আমি উবাই তোমরা যাও। রেল লাইনের উপরে দাঁড়িয়ে আশপাশ দেখে আমাদের সিগনাল দেন উনি। শার্ট খুলে মাথায় বেঁধে আমরা গোপনে সরে পড়ি। কিছুদূর যেতেই পাই মুরুব্বি কননমিয়াকে। দাদা ডাকতাম তাকে। হাতে কোদাল। জমিতে কাজ করছেন। দেখে বলেন, তুমি খেনে আইলায় ভাই। সব খুলে বলি তারে। শুনে উনি বলেন, ‘জমিনে উবাও। আমি দেকি নাও খানো। উনার বাড়ি নদীর কাছে। তার ঘাট থেকে নৌকা নিয়েই আমার বাড়ির ঘাটে নামি। আধাঘণ্টাও হবে না তখন। ইন্টার ফেঞ্চুগঞ্জ গরম হয়ে যায়। আমাদের আসার খবরটাও ছড়িয়ে পড়ে। চাচা এসে বলে- ফাইঞ্জাবি আইওর। মায়ের সামনে বসে ভাত খাচ্ছিলাম। খাওয়া তখনও শেষ হয় নাই। মা বলে, ‘বাবা কুন্তা অইত নায়। আমারে মারার বাদে তোমারে মারতো। ভাতটা খাইলাও। মায়ের চোখের দিকে শুধু চেয়েছিলাম। তার চোখ বেয়ে কয়েকফোটা জল গড়িয়ে পড়ে। পেছন দরজা দিয়ে বেরিয়ে ক্রলিং করে আমরা চলে যাই নদীর দিকে। বিকাল তখন সাড়ে তিনটা হবে। একটা ঘুমটি নৌকায় ফিরে যাওয়ার পথ খুঁজি আমরা। গউস খুব সাহসী যোদ্ধা ছিল। সে নৌকায় উঠেই গামছা মাথায় বৈঠা ধরে। মাগরিবের আজান দিছে তখন। তালতলা বাজারের কাছে রাজাকারের চেকপোস্ট। ওখানে ওরা নৌকা চেক করবে। এবার তো জীবন নিয়ে আর ফিরতে পারব না! মনের ভেতর অজানা আতঙ্ক। কড়াইয়ের মতো মাইন দুটো নদীতে ফেলে দিই। দুইটা গ্রেনেড আর একটা পিস্তল গউসের কাছে। আমার কাছে শুধু দুইটা গ্রেনেড। মরতে হলে ওদের নিয়েই মরমু। দুইজনই তৈরি হয়ে থাকি। কাছে যেতেই দূর থেকে রাজাকাররা জানতে চায় কোথায় যাই। বলি, ‘তাজপুর এক বইনর বাড়িত যাইমু। তোমরা আইয়া দেখো আমরা মুক্তিবাহিনী নায়। কেন জানি ওরা নৌকটা চেক করল না। শুধু বলল, ছুবে যাও মিয়া। এরপর রাতে ছিলাম তাজপুরের রাউতকান্দি গ্রামে। পরদিন কালিগঞ্জ বাজারে এসে বাসে উঠি। সামনে যেতেই আবার বিপদ। লোক নামিয়ে পাকিস্তানি সেনারা লাইন করে চেক করছে। গউস অনেক উঁচা-লম্বা। মোছও ওদের মতোই। আমারে পাকিরা বুকে থাপা দিয়া বলে, আইডি হে। আমি তো কিছু বুঝি না। চুপ থাকি। ওরা রেগে গিয়ে ধরে গউসকে। তার মোছ ধরে টানটানি করতেই সে লাথি মেরে সবাইরে ফেলে দৌড়ে পালায়। এ সুযোগে আমিও সামনে সরে পড়ি। পরে আবার একত্রিত হয়ে কলার ভেলায় বহুকষ্টে ভারতে ঢুকি। কালাকাটি থানা থেকে খবর পাঠাই কুকিতল ক্যাম্পে। তখন সুবেদার মতিউর রহমান এসে আমাদের ফিরিয়ে নেয়। সব অপারেশনে সফল হয়নি মুক্তিযোদ্ধারা। একাত্তরে মৃত্যুকে মাথায় নিয়েই কেটেছে তাদের প্রতিটি ক্ষণ। কিন্তু মনের ভেতর ছিল দেশকে স্বাধীন করার অদম্য সাহস। সে সাহসই তাদের পথ দেখাতো। ১৯৭১ সালের একটি অপারেশনের কথা এভাবেই তুলে ধরেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আজমল হোসেন রউফ। দুইবোন ও পাঁচ ভাইয়ের সংসারে আজমল হোসেন তৃতীয়। বাবার নাম মনতাজ আলী আর মা সোনাবান বিবি। বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মোমিনপুর গ্রামে। লেখাপড়ায় হাতেখড়ি চন্ডিপ্রসাদ প্রাইমারি স্কুলে। এরপর ষষ্ট শ্রেণিতে তিনি ভর্তি হন কাছিম আলী উচ্চবিদ্যালয়ে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন ক্লাস নাইনের ছাত্র। রউফ কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ছয় দফা আন্দোলনে স্কুলে স্কুলে যেত আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা বৈষম্য আর শেখ মুজিবের নানা কথা তুলে ধরতেন। তাদের মিছিলে যুক্ত ছিলেন তিনিও। ওই সময় থেকেই ‘বঙ্গবন্ধু’ নামটি মনে জায়গা করে নিয়েছিল। এরপর মনে বিদ্রোহ জাগায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণটি। গ্রামে তখন রেডিও ছিল খুব কম। বাজারের এক দোকানে বসে অনেকের সঙ্গে রউফও শুনেন রক্তগরম করা ওই ভাষণটি। তার ভাষায়, বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব-এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ্।’ কী করতে হবে, ওই ভাষণেই আমরা নির্দশনা পেয়ে যাই।’
ট্রেনিংয়ে গেলেন কোনো সময়টায়? রউফের উত্তর, একাত্তরের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়। সাজ্জাদ আলী, আকরাম হোসেন, মোস্তাক আহম্মদ, আবুল মনসুরসহ একত্রিত হই প্রথম। এরপর শহীদ ফয়েজের নেতৃত্বে মাইজগাঁও থেকে ট্রাকে করে চলে যাই মৌলভীবাজার। টাউন হলে আসলে কারা হাতিয়ার চালাতে জানে খোঁজ করা হয়। ১৯৭০ সালেই চৌদ্দদিনের মুজাহিদ ট্রেনিং নিয়েছিলাম শ্যাওলাতে। তাই আমাকেও নেওয়া হয় প্রতিরোধ যুদ্ধে। গোয়ালবাজার শেরপুরে প্রচন্ড যুদ্ধ চলছিল তখন। শমসের নগর দিয়ে আলীনগর চা বাগান হয়ে আমরা বার্মাছড়া চা বাগানে যাই। তখনই শুনি পাঞ্জাবিরা মৌলভীবাজার টোটাল ক্যাপচার করে ফেলেছে। আমরা তখন একটা খাল পার হয়ে চলে যাই ভারতের আশ্রমবাড়ি। ৩দিন থাকার পর চলে যাই উমরানগর ট্রেনিং ক্যাম্পে। ফাস্ট ব্যাচে ছিলাম। এক মাস ট্রেনিং করায় ইন্ডিয়ান সেনারা। কর্নেল বাকসী ছিলেন ক্যাম্প ইনচার্জ। থ্রি নট থ্রি রাইফেল থেকে এসএলআর, গ্রেনেড চার্জ, টু ইঞ্চ মর্টার সবই শিখি ওখানে। আমার এফএফ (ফ্রিডম ফাইটার) নম্বর ছিল ই-৫০২৮। ট্রেনিং শেষে লোহারবন ক্যাম্প স্থাপন করি আমরা। সেখানে দ্বিতীয় ব্যাচে ট্রেনিং শুরু হলে আমাদের পোস্টিং হয় কুকিতল ক্যাম্পে। অস্ত্রও পাই ওখানে। ক্যাম্প থেকে ভেতরে ঢুকেই অপারশেন করতেন মুক্তিযোদ্ধা আজমল হোসেন রউফরা। তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেন মৌলভীবাজারের সোনারুপা, চা বাগান, দামাই চা বাগান, জুড়ি দক্ষিণবাগ, জুড়িঝামকান্দি, শমসের নগর, আলী নগর, হাকালুকি হাওর, পানিয়াগা প্রভৃতি জায়গায়। চার নম্বর সেক্টরের কুকিতল সাব সেক্টরের ইনচার্জ তখন ছিলেন ক্যাপ্টেন শরিফুল হক ডালিম (বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী)।
অনেকেই তো সে সময় যুদ্ধে যায়নি, আপনি কেন গেলেন? দেশের জন্য গিয়েছি। চারদিকে চলছে গণহত্যা। এখন তো দেশে গাছের প্রদর্শনী হয়, মাছের প্রদর্শনী হয়। তখন দেখেছি লাশের প্রদর্শনী। রাস্তায় রাস্তায় পড়েছিল লাশ। শরণার্থী ক্যাম্পেও মরেছে কয়েক লাখ। সানারকিরা, কইলানবাড়ি, পাতারকান্দি ক্যাম্পে গিয়ে দেখেছি সে দৃশ্য। বাড়ি ছাড়ার সময় মাকে বলি, ‘তোমার পাচ ফুয়া। একটারে দেশোর লাগি দিলাও। আমার লগে দেখা করা লাগত নায় আর। আমি ইন্ডিয়াত যাইয়ার। অনো থাকলেও ফাঞ্জাবিয়ে গুল্লি করি মরাব। অতার লাগি জানবাজি দরলাম।’ শুনে মা কেঁদে দেয়। জোর করে ধরে রাখতে চায়। যাওয়ার সময় রাস্তা পর্যন্ত আসে। যতদূর দেখা যায় তাকিয়ে থাকে। মায়ার ভয়ে আমি পিছন ফিরিও তাকাই নাই। এক অপারেশনে পাকিস্তানি সেনাদের টু-ইঞ্চ মর্টারের স্প্রিন্টারে বিদ্ধ হয় আজমল হোসেন রউফের ডান পা। বাঁ পায়ের হাঁটুর জয়েন্টও ভেঙে যায়। ফলে এখনও হাঁটতে হয় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। পায়ে ব্যাথা হয় সবসময়ই। তবুও স্বাধীন এ দেশটার জন্য সব কষ্ট ভুলে থাকেন এই বীর যোদ্ধা।
কী ঘটেছিল রক্তাক্ত ওই দিনটিতে? প্রশ্ন শুনে খানিক নিরব থাকেন তিনি। এরপর বলতে থাকেন ওইদিনের আদ্যপান্ত। তার ভাষায়-
ঈদের দিনের ঘটনা। তারিখটা মনে নাই। জুড়িঝামকান্দি বর্ডার এলাকায় আমরা ডিফেন্স নিই তিনদিন আগেই। ৬০ জনের মতো ছিলাম। মাছুম ভাই কমান্ড করতেন। মুজিব ভাইও সঙ্গে ছিলেন। ওই গ্রামের এক ইমাম খবর পাস করত পাকিস্তানি সেনাদের কাছে। এ খবর পেয়ে ঈদের আগেই তাকে ধরে আনি ক্যাম্পে। কিন্তু ওই রাতেই সে পালিয়ে যায়। সহযোদ্ধারা তার দিকে ফায়ার করলেও সে প্রাণে বেঁচে যায়।
সকালে ঈদের নামাজে যাই আমরা। উঁচু টিলার ওপর ঝামকান্দি মসজিদটি। এখনও পরিষ্কার মনে আছে। চারকোণায় চারজন থাকে নিরাপত্তায়। মহিউদ্দিন আরজু এলএমজিতে, পূর্বকোণায়। নামাজের ছালাম তখনও ফিরাই নাই। উনার মুখ থেকে প্রথম আওয়াজ আসে- ‘আপনারা তাড়াতাড়ি ছালাম ফিরান। পাকিস্তানিরা অ্যাটাক করছে। কথা শেষ হওয়ার আগেই বৃষ্টির মতো গুলি আসতে থাকে। ওরা ফজরের সময়ই ডিফেন্স করে বসেছিল। আমরা টেরই পাইনি। গুলি চলছে। এক সময় মহিউদ্দিন আরজুর হাতে গুলি লাগে। আরব আলীও গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যায়। দুই ঘণ্টা গুলি চলে অবিরত। মাছুম ভাই আর মুজিব ভাই চিৎকার দিয়ে বলেন, ‘যারা গ্রেনেড আনছো এক সাইডে গ্রেনেড মারো। আর এক সাইডে ফায়ার দাও। রাস্তা ক্লিয়ার করো। পাকিস্তানি সেনাদের টু-ইঞ্চ মর্টারের স্প্লিন্টারে বিদ্ধ হয়, আমরা পূর্বদিক ক্লিয়ার করি। টিলা থেকে নিচে নেমেই একটা বাঙ্কারে পজিশন নিই। আমার সাথে ছিল আহাদ। উনি এলএমজি আর আমি চালাই স্টেনগান। বাঙ্কারে ছিলাম টানা বিকাল পর্যন্ত। এরপর বাঙ্কার থেকে দৌড় দিয়ে আমি তিনটা কদম গেছি। সামনে আজরাইলের মতো খাড়ায় এক পাঞ্জাবি। পুরা সাত-আট হাত লম্বা। হাতে রিভেলবার। হুংকার দিয়ে বলে, ‘মাত ঘাবরাও। খোদা কা কসম। কুচ নেহি হোয়া। হাত ওপর হাতিয়ার ফেকো। দাঁড়িয়ে স্টেনগানটা ফেলে দিই। বাঙ্কারকে মে কই আদমি। বোলাও, মাদারচুদকে বাচ্চা। তার কথার উত্তর দিই না। বরং মাথা ঘুরে মাটিতে পড়ে যাই। ওমনি বাঙ্কার থেকে আহাদ ওই পাঞ্জাবিরে ফায়ার করে। এলএমজির গুলিতে ওর বুক ঝাজরা করে দেয়। সে ছিল পাকিস্তানি মেজর দাউদ, কুলাউড়া ক্যাম্পের দায়িত্বে। তার নেইমপ্লেট নিয়ে আমরা তার পকেট সার্চ করি। অতঃপর পাশের উঁচু টিলার ওপর পজিশনে থাকি। ওইসময় নিচ থেকে ভেসে আসে মানুষের চিৎকার। শিশু, নারী আর বুড়োর কণ্ঠ। একটি বাড়ির লোকেরা আমাদের আশ্রয় দিয়েছিল। সে অপরাধে পাকিস্তানি সেনারা ঘরের মধ্যে শিশুসহ কয়েকজনকে আটকে, দরজা বন্ধ করে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। জীবন্ত পুড়ে মরে ওই মানুষগুলো। ওই জায়গাটায় গেলে এখনও বুকটা কেপে উঠে। কানে ভেসে আসে সেই চিৎকার। তখন ছটফট করি। ওদের বাঁচাতে আমরা কিছুই করতে পারিনি।
পাহাড়ের ওপর আমরা তখনও পজিশনে। হঠাৎ একটা টু-ইঞ্চি মর্টার এসে পড়ে আমার পাশেই। বিকট শব্দে তার স্প্রিন্টার চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। একটি স্প্রিন্টার আমার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে বিদ্ধ হয়। আমি তখন উড়ে গিয়ে টিলার ঢালের একটি গাছের সঙ্গে বাড়ি খাই। বাম পায়ের হাঁটুর জয়েন্ট তখন পুরো ভেঙে যায়। এরপর আর কিছুই মনে নেই। চোখ মেলে দেখি আমি ভারতের কৈলাশহরে, ইরান তুরান হসপিটালে। একটা পা টানা দেওয়া। আটাশ দিন চিকিৎসা হয় ওখানে। এখনও ঠিক মতো হাঁটতে পারি না। ব্যাথা হয় সারাবছরই। চিকিৎসা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা রউফ আবারও চলে আসেন রণাঙ্গনে। হাকালুকি ও পানিয়াগার যুদ্ধে অংশ নেন। অতঃপর হানাদার মুক্ত হলে চলে আসেন ফেঞ্চুগঞ্জে। সেখানে পাকিস্তানি সেনাদের টর্চার সেল কাইয়ার গুদামে সহযোদ্ধাদের সঙ্গে পা রেখেছিলেন তিনিও।
কী দেখলেন সেখানে? তিনি বলেন, ১১ ডিসেম্বর ১৯৭১। ফেঞ্চুগঞ্জ মুক্ত হলে কাইয়ার গুদামে যাই আমরা। ইন্টার ফেঞ্চুগঞ্জের ওটা ছিল কন্ট্রোল রুম। কাইয়ার গুদামে ঢুকেই প্রথম ভয় পেয়ে যাই। রক্তমাখা হাতের ছাপ। মানুষকে ওয়ালে ঝুলিয়ে টর্চার করেছে ওরা। দেওয়ালে রশি বাঁধা। প্রথম দেখি একটা ঘর ঘুটঘুটে অন্ধকার। মেঝেতে পা পড়তেই পা আটকে যায়। আঠার মতো কী যেন! মোমবাতি জ্বালিয়ে দেখি মানুষের রক্ত জমাট হয়ে গেছে। কুলাউড়া ও সিলেট থেকেও অনেক লোককে ধরে এনে এখানে হত্যা করা হয়েছিল। মানুষের হাড়গোড়ও পেয়েছি কাইয়ার গুদামে। কিন্তু মানুষের সে মৃত্যুর দাম নাই ভাই। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সাত চল্লিশ বছরেও এখানে রক্ষা করা হয়নি। কোনো স্মৃতিচিহ্ন নাই। বরং গুদামের সামনে নদী তীরে গণহত্যার জায়গায় আজও ময়লা ফেলা হচ্ছে। একাত্তরের ইতিহাস থেকে মুছে যাচ্ছে কাইয়ার গুদামের কথা।
একাত্তরের দুঃখের স্মৃতি তুলে ধরে এই সূর্যসন্তান বলেন, হায়রে দুঃখ, পানি খাই না কয়েকদিন। চারপাশে বারুদের গন্ধে মাথা মনে হয় ফেটে যাবে। পানি তো নাই। তখন তিন থেকে চার ফোটা প্রগ্রাব মাটিতে করছি ভাই। আল্লায় মাফ করুক। ওই মাটিই জিবে নিয়া পানি খুঁজছি। জোকের কামড় এখনও আছে সারা শরীরে। এত কষ্ট ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের। মার নইলে মর। মরার ভয় করতাম না তখন। স্বাধীনতা লাভের পর মুক্তিযুদ্ধে আহত হওয়ায় চিঠি লিখে মুক্তিযোদ্ধা আজমল হোসেন রউফকে পাঁচশ টাকা দিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। চিকিৎসার তৎকালীন ডিসচার্জ সনদও রয়েছে তার। ভারতীয় ট্রেনিংয়ের তালিকায়, মুক্তিবার্তায় যুদ্ধাহত হিসেবে নামও রয়েছে। তবুও তিনি এখনও পাননি যুদ্ধাহত ভাতা।
কেন?
কষ্ট নিয়ে এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, অনেকবার আবেদন করেছি। জামুকা থেকে তদন্তও হয়েছে তিনবার। তারা সত্যতাও পেয়েছে বলে জানি। কিন্তু এখনও যুদ্ধাহত ভাতা মিলেনি। আমরা তৃণমূলের যোদ্ধা। ঢাকায় গিয়ে কাকে ধরতে হবে জানা নেই। আহত বলে শেখ মুজিবই তো চিঠি দিয়েছিলেন। ওটাই বড় সম্মান।
বঙ্গবন্ধুর চিঠিরও কি কোনোই দাম নেই এখন? মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রসঙ্গে এই সূর্যসন্তান অকপটে তুলে ধরেন নিজের মতামতটি। তার ভাষায়, “অমুক্তিযোদ্ধা হয়েও যখন কেউ ভাতা তুলে, মৃত্যুর পর তাকে রাস্ট্রীয় সম্মান দেওয়া হয়। তখন তো আমাদের লজ্জা হয় ভাই। এর জন্য দায়ী লোকাল মুক্তিযোদ্ধারাই। ফেঞ্চুগঞ্জে কমান্ডার ছিলাম। ৭৩জন মুক্তিযোদ্ধা লিস্টেট ছিল। এখন তো ভাতা তুলে অনেকেই। মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে তিনটা ভাগ আছে। সুবিধাবাদী মুক্তিযোদ্ধা, শুক্রবারি মুক্তিযোদ্ধা আর অরজিনাল মুক্তিযোদ্ধা।
শুক্রবারি মুক্তিযোদ্ধা! মুচকি হেসে তিনি ব্যাখা করেন, দেশ তো স্বাধীন হয়েছে শুক্রবারে। যুদ্ধে যায় নাই। কিন্তু অস্ত্র একটা জোগাড় করে, লাঠিসোটা নিয়া আইসা বলছে ‘জয়বাংলা’। এরা হচ্ছে শুক্রবারি মুক্তিযোদ্ধা। আর যাদের টাকা-পয়সা ছিল। যুদ্ধের সময় ভারতে গিয়া হোটেলে আরাম করছে। দেশ স্বাধীন হলে আইসা বলছে বিরাট সংগঠক ছিলাম। এরা সুবিধাবাদী মুক্তিযোদ্ধা। আর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তারা, যারা জীবন বাজি রেখে ফ্রন্টে যুদ্ধ করছে।
দেশ কেমন চলছে? যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আজমল হোসেনের উত্তর- ৩৭ বছরের বাংলাদেশ আর গত দশবছরের বাংলাদেশ একটু মিলিয়ে দেখলেই পাবেন। আমি গর্বিত। দেশের জন্য জীবন দিতে গিয়েছিলাম। সৌভাগ্য এখনও বেঁচে আছি। তাই দেশের উন্নতি দেখলে মন ভরে যায়।
কি করলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে? আওয়ামী লীগের শর্সের মধ্যেও ভূত আছে। সেই ভূত তাড়াতে হবে। ‘জয় বাংলা’ বলে যারা বিভিন্ন সময় দলে ঢুকছে তারা কিন্তু ‘জয় বাংলার’ লোক না। দলের ভেতরের দুর্নীতিও কঠোরভাবে দমন করতে হবে। তৃণমূলে উন্নত করতে হবে। গ্রামগুলোর উন্নতি হলেই দেশ উন্নত হবে। পরবর্তী প্রজন্ম অবশ্যই দেশকে এগিয়ে নিতে পারবে- এমনটাই বিশ্বাস যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আজমল হোসেন রউফের। তাদের উদ্দেশে তিনি শুধু বললেন, তোমরা দেশের বীরত্বের ইতিহাসটা জেনে নিও। দেশটাকে ভালবেসো। আমরা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছি। সেই স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্বটা তোমাদের হাতেই দিয়ে গেলাম।
সংক্ষিপ্ত তথ্যÑনাম : যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আজমল হোসেন রউফ।
ট্রেনিং: ভারতের উমরানগর ট্রেনিং ক্যাম্পে এক মাস ট্রেনিং করেন। এফএফ (ফ্রিডম ফাইটার) নম্বর ই-৫০২৮।
যুদ্ধ করেছেন : চার নম্বর সেক্টরের কুকিতল সাব সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন মৌলভীবাজারের সোনারুপা চা বাগান, দামাই চা বাগান, জুড়ি দক্ষিণবাগ, জুড়িঝামকান্দি, শমসের নগর, আলী নগর, হাকালুকি হাওর, পানিয়াগা প্রভৃতি জায়গায়।
যুদ্ধাহত : একাত্তরের ঈদের দিনে জুড়িঝামকান্দি এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের ছোড়া টু-ইঞ্চ মর্টারের একটি স্প্রিন্টারে বিদ্ধ হয় তাঁর ডান পায়ের হাঁটুর নিচে। পরে টিলার ঢালের একটি গাছের সঙ্গে বাড়ি খেয়ে বাম পায়ের হাঁটুর জয়েন্টও পুরো ভেঙে যায়।

‘গণতন্ত্র সূচকে’
বাংলাদেশের ৪
ধাপ উন্নতি
সবুজ সিলেট ডেস্ক
বাংলাদেশে গণতন্ত্র ‘কারারুদ্ধ’ হয়ে পড়েছে বলে বিরোধী দল অভিযোগ করে এলেও আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ‘গণতন্ত্র সূচক’। পাঁচটি মানদন্ডে ২০১৮ সালের পরিস্থিতি বিচার করে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট গতকাল বুধবার যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেখানে বাংলাদেশের অবস্থানের চার ধাপ উন্নতি হয়েছে। ৫.৫৭ স্কোর নিয়ে এই সূচকে বাংলাদেশ এবার রয়েছে ১৬৫টি দেশ ও দুটি অঞ্চলের মধ্যে ৮৮তম অবস্থানে।
গতবছর এই সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৫.৪৩; এক ধাক্কায় আট ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ নেমে গিয়েছিল ৯২তম অবস্থানে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ২০০৬ সালে এই সূচক প্রকাশ শুরু করার পর সেটাই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বাজে অবস্থান। এবারের সূচক বলছে, গণতন্ত্রের বিচারে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। ভারত ৭.২৩ স্কোর নিয়ে তালিকার ৪১তম এবং শ্রীলঙ্কা ৬.১৯ স্কোর নিয়ে ৭১তম অবস্থানে রয়েছে। ভারতের এক ধাপ উন্নতি হলেও শ্রীলঙ্কা পিছিয়েছে নয় ধাপ। এছাড়া ৫.৩০ স্কোর নিয়ে ভুটান ৯৪তম; ৫.১৮ স্কোর নিয়ে নেপাল ৯৭তম; ৪.১৭ স্কোর নিয়ে পাকিস্তান ১১২তম; ৩.৮৩ স্কোর নিয়ে মিয়ানমার ১১৮তম এবং ২.৯৭ স্কোর নিয়ে আফগানিস্তান ১৪৩তম অবস্থানে রয়েছে।
ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বলছে, তাদের সমীক্ষায় ২০১৮ সালে বৈশ্বিক স্কোর হয়েছে আগের বছরের মতই ৫.৪৮। অর্থাৎ মোটা দাগে বিশ্বে গণতন্ত্রের দশায় বড় কোনো নড়চড় হয়নি। এবারের সূচকে যেখানে ৪২টি দেশের অবস্থানের অবনতি ঘটেছে, সেখানে ৪৮টি দেশ নিজেদের রাজনৈতিক পরিবেশের উন্নতি ঘটাতে পেরেছে। উন্নতির ছাপ পড়েছে এশিয়ার দেশগুলোতেই বেশি। তবে ২০১৭ সালের চেয়ে কম মানুষ গতবছর গণতন্ত্রের সুফল পেয়েছে। কোনো না কোনো ধরনের গণতন্ত্র বিরাজ করছে এমন দেশে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ২০১৮ ছিল বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪৭.৭ শতাংশ। আগের বছর এই হার ৪৯.৩ শতাংশ ছিল। নির্বাচনি ব্যবস্থা ও বহুদলীয় অবস্থান, সরকারে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক অধিকার- এই পাঁচ মানদন্ডে একটি দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১০ ভিত্তিক এই সূচক তৈরি করে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। সব সূচক মিলিয়ে কোনো দেশের গড় স্কোর ৮ এর বেশি হলে সেই দেশে ‘পূর্ণ গণতন্ত্র’ রয়েছে বলে বিবেচনা করা হয়েছে প্রতিবেদনে। স্কোর ৬ থেকে ৮ এর মধ্যে হলে সেখানে ‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র’, ৪ থেকে ৬ এর মধ্যে হলে ‘মিশ্র শাসন’ এবং ৪ এর নিচে হলে সে দেশে ‘স্বৈরশাসন’ চলছে বলে ধরতে হবে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের এবারের প্রতিবেদন বলছে, ২০১৮ সালে তাদের ভাষায় ‘পূর্ণ গণতন্ত্র’ ছিল মাত্র ২০টি দেশে, যেখানে বিশ্বের মাত্র সাড়ে ৪ শতাংশ মানুষের বসবাস। ৯.৮৭ স্কোর নিয়ে গতবারের মতই এ তালিকার শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে। শীর্ষ দশে আরও আছে আইসল্যান্ড, সুইডেন, নিউ জিল্যান্ড, ডেনমার্ক, কানাডা, আয়ারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ড। যুক্তরাজ্য ও জার্মানি পূর্ণ গণতন্ত্রের দেশের তালিকায় থাকলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ যুক্তরাষ্ট্রের স্থান হয়েছে গতবারের মতই ‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের’ দেশের তালিকায়। এই ভাগের ৫৫ দেশের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কা। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪৩.২ শতাশের বসবাস এসব ‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের’ দেশে। বাংলাদেশকে এই প্রতিবেদনে রাখা হয়েছে মিশ্র শাসনের দেশের তালিকায়, যেখানে ভুটান, নেপাল, পাকিস্তানসহ ৩৯টি দেশ রয়েছে। এসব দেশে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১৬.৭ শতাশের বসবাস। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিবেচনায় বিশ্বের ৩৫.৬ শতাংশ মানুষ এখন স্বৈরশাসনে জীবন কাটাচ্ছে। তালিকার তলানিতে আছে উত্তর কোরিয়া। এছাড়া মিয়ানমার, চীন, রাশিয়া, ভিয়েতনাম, ইরান ও সৌদি আরবকেও একই কাতারে রাখা হয়েছে।

সংরক্ষিত চার নারী
আসন চায় জাপা
সবুজ সিলেট ডেস্ক
একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় পার্টির চারজন প্রার্থীকে মনোনীত করতে স্পিকার বরাবর আবেদন করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। যদিও জাতীয় পার্টির নির্বাচিত ২২ সদস্যের আনুপাতিক হারে দলটি তিনটি সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়ার কথা।
গতকাল বুধবার চারজনের নামোল্লেখ করে জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এতে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় পার্টির চার প্রার্থীকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি। সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় পার্টি প্রার্থীরা হলেন ১. পারভীন ওসমান (নারায়ণগঞ্জ), ২. ডা. শাহীনা আক্তার (কুঁড়িগ্রাম), ৩. নাজমা আখতার ফেনী), ৪. মনিকা আলম (ঝিনাইদহ)। জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদে কোনো জোট বা দল কয়টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে তা ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানাতে হবে।
আইন অনুযায়ী, নবনির্বাচিতদের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের পর দল বা জোটগুলোকে এই সময়ের মধ্যে তথ্য জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ জন্য আগামী ৩০ জানুয়ারির মধ্যে ইসিকে এ সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। আর ভোটের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১ এপ্রিলে মধ্যে এ নির্বাচন করতে হবে।
প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে। জোট বা দলের আসন অনুপাতে এই সংরক্ষিত আসন বণ্টন করা হয়। কোনো জোট বা দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কে কত আসন পাবে তার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে- জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন হবে আনুপাতিক। এ ক্ষেত্রে মোট সংরক্ষিত আসনকে জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে, সেই ভাগফলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দল বা জোট বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রাপ্ত আসন সংখ্যার গুণফলই হবে ওই দল বা জোট বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮টি আসন পেয়েছে। তবে জাতীয় পার্টি (২২ আসন) বিরোধী দলে থাকার ঘোষণা দেয়ায় সংসদে মহাজোটের প্রার্থী দাঁড়িয়েছে ২৬৬টি। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ২৫৭ আসনে জয়লাভ করায়, দলটি পাবে ৪২টি আসন। মহাজোট পাবে ৪৪টি সংরক্ষিত আসন। জাতীয় পার্টি পাবে তিনটি আসন। ঐক্যফ্রন্টের আটকজন প্রার্থী অধিবেশন শুরুর পর নব্বই দিন পর্যন্ত শপথ নেয়ার সুযোগ পাবেন। তারপরও শপথ না নিলে সে আসনগুলোতে পুনরায় নির্বাচন হবে। ঐক্যফ্রন্ট সংসদে গেলে তাদের জন্য দুটি সংরক্ষিত নারী আসন থাকবে। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কোনো জোটে যোগ না দিলে তাদের জন্য থাকবে একটি আসন। জানা যায়, দল বা জোটের দেয়া তথ্য অনুযায়ী প্রার্থীর তালিকা প্রস্তুত করে সংরক্ষিত আসন বণ্টন করবে ইসি। ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ইসি তা করবে। অর্থাৎ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশন এ তালিকা প্রস্তুত করবে। তালিকা প্রস্তুতের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি সেই তালিকা কোনো প্রকাশ্য স্থানে টানিয়ে দেবে ইসি। একইসঙ্গে সংসদ সচিবালয়কে সেই তালিকা প্রত্যায়িত কপি টানানোর জন্য বলবে। নির্বাচনের আগে সেই তালিকার আর কোনো পরিবর্তন করা যাবে না। তবে কোনো কারণিক ভুল হলে নির্বাচন কমিশন তা সংশোধন করতে পারবে। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসন আইন-২০০৪ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন জোটের তালিকা প্রকাশ্যে টানানোর পর এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ করবে। একইসঙ্গে মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই ও ভোটের দিন ঘোষণা করবে। এ ছাড়া ভোটগ্রহণের স্থান নির্ধারণ করবে।

লিড নয়
দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান
অর্থনীতির শীর্ষে বাংলাদেশ
সবুজ সিলেট ডেস্ক
বিশ্বের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ায় সবার উপরে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্ট শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গেল অর্থবছরে বাংলাদেশের আনুমানিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে ভারতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৩ আর পাকিস্তানের ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। বিশ্বব্যাংক অনুমান করছে, বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে চলতি বছরে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে। আর বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান শক্তিশালী অর্থনৈতিক কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।
বিশ্ব ব্যাংক বলছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভারতের আনুমানিক প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর হতে পারে। ফলে এই অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বাংলাদেশ নিয়ে তুলে ধরা পর্যবেক্ষণে বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ছিল শক্তিশালী ব্যক্তিগত রেমিট্যান্স প্রবাহ। তবে ক্রমবর্ধমান হারে খাদ্য ও যন্ত্রপাতি আমদানি এবং দুর্বল রফতানির ফলে নিট রফতানি ছিল নেতিবাচক।
এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আনুমানিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৭ আর শ্রীলঙ্কার প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ।

ড. মোমেনকে তুরস্ক
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিনন্দন
সবুজ সিলেট ডেস্ক
বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু। গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত কয়েক বছরে দু’দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সফর এবং যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিনন্দন বার্তায় উল্লেখ করে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ড. মোমেনের দায়িত্ব পালনকালেও এ যোগাযোগ আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ ছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি তুরস্কের সহায়তা ও সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও দেন মেভলুত চাভুসওগলু।

মার্কিন কিছু কর্মকর্তা প্রথম
শ্রেণির আহাম্মক : খামেনি
সবুজ সিলেট ডেস্ক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, মার্কিন কিছু কর্মকর্তা একেবারে প্রথম শ্রেণির আহাম্মক। ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করায় মার্কিন কিছু কর্মকর্তাকে নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তেহরানে এক বক্তৃতায় ইরানের সর্বোচ্চ এই নেতা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তার কর্মকান্ড তাদেরকে পাগল হিসেবে প্রমাণ করে। অবশ্যই আমি এটির সঙ্গে একমত নই। তবে তারা প্রথম শ্রেণির আহাম্মক। ২০১৮ সালের শেষের দিকে ইরানের শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে বলে মন্তব্য করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা। এই মন্তব্যকারী কর্মকর্তাদের নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে এসব কথা বলেন খামেনি। তিনি বলেন, কিছুক্ষণ আগে যুক্তরাষ্ট্রের এক রাজনীতিক সন্ত্রাসী ও গুন্ডাদের এক সমাবেশে বলেছেন তিনি এ বছর ক্রিসমাসের অনুষ্ঠান তেহরানে উদযাপন করবেন বলে আশা করছেন।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, কয়েক দিন আগে ক্রিসমাস ছিল। এটাই যুক্তরাষ্ট্রের হিসাবনিকেশ। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কর্মকর্তাদের ইঙ্গিত করে তিনি এ মন্তব্য করেছেন সেবিষয়টি পরিষ্কার নয়। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইরানের শাসক উৎখাত করতে দেশটির জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং তারা বলেছিলেন, শিগগিরই এই পরিবর্তন ঘটবে। ইরানের শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ডাক দেয়া মার্কিনিদের তালিকায় ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে প্যারিসে এক বৈঠকে তিনি বলেন, ২০১৯ সালের আগে আমরা তেহরানে উদযাপন করবো।

দুই মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে
অভিযোগ গঠন ৩ ফেব্রুয়ারি
সবুজ সিলেট ডেস্ক
ভুয়া জন্মদিন পালন ও মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ করার অভিযোগে মানহানির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।
গতকাল বুধবার দুই মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা অভিযোগ গঠন শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন। বকশিবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে অবস্থিত ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম (এসিএমএম) আসাদুজ্জামান নূর সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে নতুন এ দিন ধার্য করেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ৩১ জুলাই এ দুই মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েস খালেদার জামিন মঞ্জুর করেন। মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ করার অভিযোগে করা মামলায় বলা হয়, ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচিত হয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি (খালেদা জিয়া) রাজাকার-আলবদর নেতাকর্মীদের মন্ত্রী-এমপি বানিয়ে তাদের বাড়ি ও গাড়িতে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকা তুলে দেন। ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। আদালত ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। পরের বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক মশিউর রহমান (তদন্ত) অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন দাখিল করেন। মামলার অন্য আসামি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান মৃত বলে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
গত ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকা মহানগর হাকিম নূর নবী। অন্যদিকে ভুয়া জন্মদিন পালনের মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একাধিক জন্মদিন নিয়ে ১৯৯৭ সালে দুটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর ম্যাট্রিক পরীক্ষার মার্কশিট অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে একটি দৈনিকে তার জীবনী নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জন্মদিন ১৯৪৫ সালের ১৯ আগস্ট। তার বিয়ের কাবিননামায় জন্মদিন ১৯৪৪ সালের ৪ আগস্ট। সর্বশেষ ২০০১ সালে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট অনুযায়ী তার জন্মদিন ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট। বিভিন্ন মাধ্যমে তার পাঁচটি জন্মদিন পাওয়া গেলেও কোথাও ১৫ আগস্ট জন্মদিন পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় তিনি পাঁচটি জন্মদিনের একটিও পালন না করে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর দিন জাতীয় শোক দিবসে (১৫ আগস্ট) আনন্দ-উৎসব করে জন্মদিন পালন করে আসছেন। শুধু বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সুনাম ক্ষুন্নের জন্য তিনি জন্মদিন পালন করেন। ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে খালেদাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। পরে ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল ইসলাম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

বাজেট সহায়তায় বিশ্বব্যাংক
দিচ্ছে ২১শ’ কোটি টাকা
সবুজ সিলেট ডেস্ক
অবশেষে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা পেল বাংলাদেশ। প্রথম ধাপে ২৫ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রতি ডলার সমান ৮৪ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা।
গতকাল বুধবার সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে চুক্তিসই হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মনোয়ার আহমেদ ও বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের আবাসিক প্রতিনিধি চিমিয়াও ফান চুক্তিতে সই করেন। এসময় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন।
এই ঋণের আওতায় বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ ও ব্যবসা বাণিজ্য পরিবেশ আধুনিকায়ন, শ্রমিকদের সুরক্ষা ও সব ধরনের অভিঘাত মোকাবেলার সক্ষমতা জোরদার করা হবে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকহারে কর্মে প্রবেশ নিশ্চিতকরণ নীতি ও কর্মসূচির উন্নয়ন করা হবে।
‘জবস ডেভলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিট’ প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংক ঋণ বাস্তবায়ন করবে অর্থ বিভাগ। প্রস্তাবিত বাজেট সহায়তার আওতায় বিশ্বব্যাংক আগামী তিন বছরে মোট ৭৫০ মিলিয়ন ডলার দেবে। প্রথমধাপে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৫০ মিলিয়ন বা ২৫ কোটি ডলার দিল সংস্থাটি। প্রকল্পটি ২০২০-২১ অর্থবছরে সমাপ্ত হবে।
২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে পরিশোধযোগ্য। এই অর্থের উপর বার্ষিক সার্ভিস চার্জ ০ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এছাড়াও ১ দশমিক ২৫ শতাংশ সুদ দিতে হবে।
প্রকল্পের আওতায় নতুন কোম্পানি আইনের বিধিবিধান প্রনয়ণ, ব্যবসা পরিচালনার আইনি কাঠামো সহজ ও স্বয়ংক্রিয় করা হবে। সরকারের সব দফতরের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করা হবে। এছাড়া পরিবেশ বান্ধব বাজেট প্রণয়ন, গ্যাসের মূল্য যৌক্তিকীকরণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানীতে বিনিয়োগ উৎসাহিতকরণ করা হবে। চিমিয়াও ফান বলেন, গত দুই দশকে বাংলাদেশের আর্থিক অগ্রগতি অবিশ্বাস্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। তারপরও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সেইভাবে অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ মান সম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। প্রকল্পটি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।

বিচারকদের পদোন্নতির যোগ্যতা শিথিল
সবুজ সিলেট ডেস্ক
নিম্ন আদালতগুলোতে বিচারক সঙ্কটে মামলাজট থাকায় জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা জজ এবং যুগ্ম-জেলা জজদের পদোন্নতির যোগ্যতা শিথিল করেছে সরকার।
সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে এই তিন স্তরের বিচারকদের পদোন্নতির যোগ্যতা শিথিল করে সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি, নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা-বিধান এবং চাকুরির অন্য শর্তাবলি) বিধিমালা, ২০০৭’ সংশোধন করেছে আইন ও বিচার বিভাগ।
সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে অতিরিক্ত জেলা জজ হিসেবে এক বছরের অভিজ্ঞতার সঙ্গে বিচারক হিসেবে ১৩ বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলে জেলা জজ বা সমপর্যায়ে পদোন্নতি পাওয়া যাবে।
এতদিন জেলা জজ বা সমমানে পদোন্নতির জন্য অতিরিক্ত জেলা পদে দুই বছরসহ মোট ১৫ বছর চাকরির অভিজ্ঞতার দরকার হত।
যুগ্ম-জেলা জজ হিসেবে ছয় মাসসহ বিচারক হিসেবে ১০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলে অতিরিক্ত জেলা জজ বা সমপর্যায়ের বিচারক পদে পদোন্নতি দেওয়া যাবে।
এতদিন এক্ষেত্রে যুগ্ম-জেলা জজ পদে দুই বছরের চাকরির অভিজ্ঞতার শর্ত ছিল।
আগে যুগ্ম-জেলা জজ পদে পদোন্নতি পেতে হলে জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ হিসেবে দুই বছরসহ মোট সাত বছর চাকরির অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হত।
এখন জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ হিসেবে ছয় মাসসহ বিচারক হিসেবে চাকরির সাত বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে যুগ্ম-জেলা জজ বা সমমানের পদে পদায়ন করা হবে।
এর আগে ক্রান্তিকালীন সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে এক বছরের জন্য জেলা ও দায়রা জজ বা সমপর্যায়ের বিচারক পদে পদোন্নতি দিতে শর্ত শিথিল করা হয়েছিল। সেই মেয়াদও সম্প্রতি শেষ হয়ে গিয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করার দায়ে ব্যবসায়ীর সাজা
সবুজ সিলেট ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি বিকৃত করে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে এক মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ আস সামশ জগলুল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
একইসঙ্গে আদালত ওই ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদন্ডের আদেশ দেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলেন, মোহাম্মদ মনির। তার টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার কেদারপুর বাজারে ‘মনির টেলিকম’ নামের একটি দোকান আছে।
এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আলমগীর হোসেন ও শীল সুব্রতকে খালাস প্রদান করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের বিকৃতি প্রচারের অভিযোগে ২০১৩ সালের ১০ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার উত্তর রৌহান গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এরপর তার স্বীকারোক্তিতে টাঈাইল জেলার নাগরপুর থানার কেদারপুর গ্রামের মনিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সাটুরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুস ছালাম বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ (২) ধারায় একটি মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন আলমগীর হোসেন, মোহাম্মদ মনির, শীল সুব্রত ও প্রভাব চন্দ্র সরকার।
২০১৪ সালের ২০ মার্চ সাটারিয়া থানাপুলিশ পরিদর্শক আলমগীর হোসেন এই চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আলমগীর হোসেন, মোহাম্মদ মনির, শীল সুব্রতের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন সাইবার ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় প্রভাত চন্দ্র সরকারকে অব্যাহতি প্রদান করেন। মামলায় বিচারকালে ১৮ সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ১০ জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য প্রদান করেন।