বিশ্বনাথে পুলিশের উপর হামলা, আহত ২

24

বিশ্বনাথ অফিস
বিশ্বনাথের মাদক ব্যবসায়ী সুহেল মিয়া (৩২)-কে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে তার (সুহেল) বাহিনীর হামলায় আহত হয়েছেন থানা পুলিশের এসআই সবুজ কুমার নাইডু ও কনস্টেবল সুমন মালাকার।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার বৈরাগী বাজারে এ ঘটনাটি ঘটে। হামলা করে পুলিশের হাতে আটক হওয়া মাদক ব্যবসায়ী সুহেল মিয়াকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় তার (সুহেল) সহযোগীতারা। এসময় অভিযানে অংশগ্রহনকারী পুলিশ সদস্যরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করেন।
জানা গেছে, উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের নওধার পূর্বপাড়া (বিন্দাটেক) গ্রামের মৃত আহমদ আলী উরফে শাবাল শাহ বাড়িতে ওরুসের নামে অসামাজিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিলেন শাবাল শাহর পুত্র আশিক নূর এবং একই গ্রামের করিম বক্সের পুত্র মাদক ব্যবসায়ী সুহেল আহমদ, সুরুজ আলী ও কামরুল ইসলাম। এসব অসামাজিক কর্মকান্ডে প্রতিবাদ করায় অভিযুক্তরা আহমদ আলী উরফে শাবাল শাহর মেয়ে কলেজ ছাত্রী তাসলিমা বেগম (১৮)-কে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই মারধার করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় এবং ওই সময় তাসলিমার ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ আসবাবপত্র লুট করে নেয়।
এঘটনায় গত বছরে ৪ সেপ্টেম্বর ৫ জনকে অভিযুক্ত করে বিশ্বনাথ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কলেজ ছাত্রী তাসলিমা বেগম। অভিযোগটি দীর্ঘদিন তদন্তের পর গত বৃহস্পতিবার সকালে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করে থানা পুলিশ।
এরপর ওই দিবাগত রাত ৮টার দিকে বিশ্বনাথ থানার এসআই সবুজ কুমার নাইডুর নেতৃত্বে একদল পুলিশ বৈরাগী বাজার থেকে অভিযুক্ত সুহেল মিয়াকে আটক করে হাতকড়া লাগাতে চাইলে সুহেলের সহযোগী সুরুজ মিয়া, আলি নুর, লিলু মিয়া ও মানিক মিয়ার নেতৃত্বে তার (সুহেল) বাহিনীর লোকজন পুলিশের উপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা মারধর করে এসআই সবুজ কুমার নাইডু ও কনস্টেবল সুমন মালাকারকে আহত করে এবং পুলিশের হাত থেকে আসামি সুহেল মিয়াকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এসময় অভিযানে অংশগ্রহনকারী পুলিশ সদস্যরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) সাইফুল ইসলাম ও বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা পিপিএম ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করেন। আহত পুলিশ সদস্যদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর বিপুল সংখ্যক পুলিশ বৈরাগীবাজার ও নওধার গ্রামে অভিযান চালালেও এখন পর্যন্ত কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
হামলার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, সুহেল ও তার তার বাহিনীকে গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।